০৯ জুলাই ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ৬:০৫:৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
অপহরণ ও নির্যাতন : লুবনা দুই অপহরণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত নিউইয়র্কে ১ হাজার ২৫০ কিউনি শিক্ষার্থীর জন্য বিনামূল্যে অমনি কার্ড পাইলট কর্মসূচি মসজিদে ইসলামবিরোধী ও প্রাণনাশের হুমকিতে এক ব্যক্তি অভিযুক্ত সুলতানা রাজিয়া ও সৈয়দ রুবেল অপহরণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০ বছর উদযাপনে ধর্মীয় ইতিহাস ঘিরে বিতর্ক দুর্বৃত্তের অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত নর্থ ইস্ট ফিলাডেলফিয়া ইসলামিক সেন্টার ওজনপার্কের বৈঠকখানা রেস্টুরেন্টে হাতবোমা নিক্ষেপ নিউইয়র্কে আইনশৃঙ্খলার উন্নয়নে ১০০ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ ঘোষণা কঠোর অভিবাসন নীতিতে বিপাকে মার্কিন নাগরিকদের বিদেশি স্বামী-স্ত্রী আগাম বন্যার পদধ্বনি, আশঙ্কার ছায়া চট্টগ্রাম-সিলেটে


যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আইসের অভিযান তীব্র
পাঁচ দিনে গ্রেফতার ১০ হাজারের বেশি অভিবাসী
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৮-০৭-২০২৬
পাঁচ দিনে গ্রেফতার ১০ হাজারের বেশি অভিবাসী নথিপত্রহীন একজন অভিবাসীকে গ্রেফতার করা হয়েছে


প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আবারও জোরদার করা হয়েছে অভিবাসন অভিযান। ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) গত পাঁচ দিনে ১০ হাজারের বেশি নথিপত্রহীন অভিবাসীকে আটক করেছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্র গত ৩ জুলাই এ তথ্য নিশ্চিত করে। সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহ থেকে দেশজুড়ে নীরবে পরিচালিত অভিযানে এ বিপুলসংখ্যক গ্রেফতার হয়েছে। প্রশাসনের নতুন লক্ষ্য হচ্ছে প্রতিদিন অন্তত ২ হাজার অভিবাসীকে আটক করা। গত বছর হোয়াইট হাউস এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস)-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আইসিইর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে দৈনিক ৩ হাজার গ্রেফতারের লক্ষ্য নির্ধারণের আহ্বান জানিয়েছিলেন। 

ডিএইচএসের এক মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেন, প্রথম দিন থেকেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আমাদের আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলো কাজ করছে। তারা খুনি, ধর্ষক, শিশু যৌন নির্যাতনকারী, গ্যাং সদস্য এবং সন্ত্রাসীসহ অপরাধে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের গ্রেফতার ও বহিষ্কারের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ট্রাম্প প্রশাসন শুরু থেকেই জানিয়ে আসছে, তাদের অভিযান মূলত সবচেয়ে ভয়ংকর অপরাধীদের লক্ষ্য করে পরিচালিত হচ্ছে। তবে সর্বশেষ অভিযানে আটক হওয়া ব্যক্তিদের অপরাধের ধরন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। যদিও ডিএইচএস দাবি করেছে, আইসিইর মোট গ্রেফতারের প্রায় ৭০ শতাংশই এমন ব্যক্তিদের, যাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে অপরাধের অভিযোগ রয়েছে অথবা যারা ইতোমধ্যে কোনো অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। 

এবারের অভিযান তুলনামূলকভাবে অনেকটাই নীরবে পরিচালিত হয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে দায়িত্ব গ্রহণের শুনানিতে স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা সচিব মার্কওয়েইন মুলিন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, আইসিইকে অপ্রয়োজনীয় প্রচারের বাইরে রেখে নীরবে এবং কার্যকরভাবে অভিযান পরিচালনা করা হবে। এটি সাবেক স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা সচিব ক্রিস্টি নোয়েমের নীতির বিপরীত, যিনি আইসিইর অভিযানকে ব্যাপক প্রচারের মাধ্যমে পরিচালনার পক্ষে ছিলেন। 

এদিকে আইসিইর নেতৃত্বেও পরিবর্তন এসেছে। সংস্থাটির নতুন ভারপ্রাপ্ত প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ল্যান্স শ্রয়ার, যিনি মুলিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং ওকলাহোমার সাবেক স্টেট ট্রুপার। তবে তার ফেডারেল অভিবাসন আইন প্রয়োগের পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই। অভিযানের মধ্যেই টেক্সাসে নাইজেরিয়ান নাগরিক ক্যাথলিক সন্ন্যাসিনী সিস্টার লেটিসিয়া উগবোয়াজাকে গির্জায় প্রার্থনায় যাওয়ার পথে আইসিই আটক করার ঘটনা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পরে তাকে মুক্তি দেওয়া হলেও কেন তাকে আটক করা হয়েছিল, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। 

ট্রাম্পপন্থী ওভারসাইট প্রজেক্টের সভাপতি এবং ম্যাস ডিপোর্টেশন কোয়ালিশনের অন্যতম নেতা মাইক হাওয়েল গ্রেফতারের সংখ্যা বাড়ায় সন্তোষ প্রকাশ করলেও সরকারের কাছে আরো স্বচ্ছতা দাবি করেছেন। তার মতে, বহিষ্কার-সংক্রান্ত নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান এবং প্রকৃত তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করা উচিত। 

মাইক হাওয়েল বলেন, সংবাদ বিজ্ঞপ্তি, বিভিন্ন অনুমান ও অতিরঞ্জিত তথ্যের কারণে এত সংখ্যার কথা শোনা যাচ্ছে যে সাধারণ মানুষ এখন প্রকৃত তথ্য জানতে চাইছে। সরকার যেসব পরিসংখ্যান প্রকাশ করছে না, সেগুলো সামনে আনা জরুরি। ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন এই কৌশল আগের তুলনায় কম প্রচার হলেও মাঠপর্যায়ে অনেক বেশি বিস্তৃত ও কঠোর। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা আরো বেড়েছে। 

শেয়ার করুন