০৯ জুলাই ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ৬:০৭:১৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
অপহরণ ও নির্যাতন : লুবনা দুই অপহরণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত নিউইয়র্কে ১ হাজার ২৫০ কিউনি শিক্ষার্থীর জন্য বিনামূল্যে অমনি কার্ড পাইলট কর্মসূচি মসজিদে ইসলামবিরোধী ও প্রাণনাশের হুমকিতে এক ব্যক্তি অভিযুক্ত সুলতানা রাজিয়া ও সৈয়দ রুবেল অপহরণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০ বছর উদযাপনে ধর্মীয় ইতিহাস ঘিরে বিতর্ক দুর্বৃত্তের অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত নর্থ ইস্ট ফিলাডেলফিয়া ইসলামিক সেন্টার ওজনপার্কের বৈঠকখানা রেস্টুরেন্টে হাতবোমা নিক্ষেপ নিউইয়র্কে আইনশৃঙ্খলার উন্নয়নে ১০০ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ ঘোষণা কঠোর অভিবাসন নীতিতে বিপাকে মার্কিন নাগরিকদের বিদেশি স্বামী-স্ত্রী আগাম বন্যার পদধ্বনি, আশঙ্কার ছায়া চট্টগ্রাম-সিলেটে


কানেকটিকাটে ইসলামিক সেন্টারে একাধিক ঘৃণামূলক ফোনকলের অভিযোগে ৪৫ বছর জেসন বিগার গ্রেফতার
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৮-০৭-২০২৬
কানেকটিকাটে ইসলামিক সেন্টারে একাধিক ঘৃণামূলক ফোনকলের অভিযোগে ৪৫ বছর জেসন বিগার গ্রেফতার ব্রিজপোর্ট ইসলামিক কমিউনিটি


যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট স্টেটে ইসলামিক সেন্টার গুলোকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিকভাবে ঘৃণামূলক, হুমকিমূলক ও বিদ্বেষপূর্ণ ফোনকল করার অভিযোগে ৪৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই ব্যক্তি একাধিক ইসলামিক সেন্টারে ফোন করে মুসলিম সম্প্রদায়, ইসলাম ধর্ম এবং ধর্মীয় বিশ্বাসকে লক্ষ্য করে অবমাননাকর মন্তব্য ও সম্ভাব্য সহিংসতার ইঙ্গিত দেন। গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তির নাম জেসন বিগার, বয়স ৪৫। পুলিশ জানায়, তাকে গত ২ জুলাই (গ্রেফতারের দিন) ম্যানচেস্টার শহরে তার বাড়ি থেকে আটক করা হয়। ভার্নন পুলিশ বিভাগের নেতৃত্বে পরিচালিত তদন্তের ভিত্তিতে আদালতের জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানা অনুযায়ী তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়। 

ভার্নন পুলিশ জানায়, ঘটনাটির প্রথম অভিযোগ পাওয়া যায় ২১ জুন। ওইদিন ইসলামিক সেন্টার অব ভার্ননের একজন কর্মী অভিযোগ করেন যে তিনি একাধিকবার একটি অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন পেয়ে ধর্মীয় বিদ্বেষপূর্ণ ও আক্রমণাত্মক বক্তব্য শুনেছেন। পরে একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আরো একটি ফোনকলের অভিযোগ পাওয়া যায়, যা প্রথম ঘটনার প্রতিশোধমূলক আচরণ হতে পারে বলে তদন্তকারীদের ধারণা। 

পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি ভার্ননের ইসলামিক সেন্টারে এবং পরে কানেকটিকাটের ব্রিজপোর্ট ইসলামিক কমিউনিটি সেন্টারেও অনূরূপ ফোনকল করেন। এসব ফোনকলের অডিও রেকর্ডিং ও ট্রান্সক্রিপ্টে দেখা যায়, তিনি মুসলিম, আরব দেশ এবং ইসলামের নবী হজরত মুহাম্মদকে (সা.) লক্ষ্য করে অশালীন ও বিদ্বেষপূর্ণ ভাষা ব্যবহার করেন। তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ফোনকলগুলোর সময় তিনি বারবার যুক্তরাষ্ট্রের আইন ও আমেরিকান মূল্যবোধ উল্লেখ করে দাবি করেন যে তিনি তার বক্তব্য বলার অধিকার রাখেন। একাধিক রেকর্ডিংয়ে তাকে ক্ষুব্ধ ভাষায় বলতে শোনা যায় যে ইসলামিক সেন্টারের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা আমেরিকান জীবনধারা মানে না, এ ধরনের মন্তব্য তিনি বারবার করেন। 

একটি ঘটনায় অভিযোগ করা হয়েছে, তিনি ইসলামিক সেন্টারের একজন কর্মীকে ফোনে দীর্ঘ সময় ধরে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং বলেন যে তিনি সরাসরি দেখা হলে ওই ব্যক্তিকে থুতু ছুড়ে মারবেন। পুলিশ এটিকে সম্ভাব্য সহিংস আচরণের ইঙ্গিত হিসেবে উল্লেখ করেছে। 

ভার্নন পুলিশ জানায়, ইসলামিক সেন্টারের কর্মী ফোনকল চলাকালে শান্ত ও সংযত ছিলেন এবং কোনো ধরনের পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেননি। প্রায় পাঁচ মিনিটের কল শেষে তিনি ফোনটি কেটে দেন এবং নম্বরটি ব্লক করেন। পরে তিনি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে পুলিশকে অবহিত করেন। তদন্ত চলাকালে পুলিশ ম্যানচেস্টার শহরের স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে অভিযুক্ত ব্যক্তির ঠিকানা নিশ্চিত করে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এর আগে বিভিন্ন জায়গায় তার অস্থির আচরণের অভিযোগ ছিল এবং তাকে কিছু স্থানে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞাও দেওয়া হয়েছিল। 

পুলিশ কর্মকর্তারা তার বাড়িতে গেলে তিনি সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি জানান। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি দরজা না খুলে পুলিশকে চলে যেতে বলেন এবং উত্তেজিতভাবে চিৎকার করেন। তিনি দাবি করেন যে তিনি কোনো ফোনকল করেননি। পরে পুলিশ তাকে ইসলামিক সেন্টারের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ না করার নির্দেশ দেয়। পরবর্তীতে তদন্তে পুলিশ নিশ্চিত হয় যে একই ব্যক্তি একাধিক ফোন নম্বর ব্যবহার করে একাধিক ইসলামিক সেন্টারে অনুরূপ বিদ্বেষপূর্ণ ফোনকল করেছেন। অভিযোগ ও আইনি ধারা জেসন বিগারের বিরুদ্ধে আদালতে যে অভিযোগগুলো আনা হয়েছে, সেগুলো হলো-দ্বিতীয় ডিগ্রির হয়রানি, শান্তি ভঙ্গ, ঘৃণা বা পক্ষপাতমূলক উদ্দেশ্যে ভয়ভীতি প্রদর্শন। 

পুলিশ জানায়, এসব অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং আদালত তার বিরুদ্ধে ১ লাখ ডলারের সুরিটি বন্ড নির্ধারণ করে। পরবর্তী সময়ে তাকে রকভিল সুপিরিয়র কোর্টে হাজির করা হয়। ভার্নন পুলিশ এক বিবৃতিতে জানায়, ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক অপরাধ ও ঘৃণাভিত্তিক হয়রানির সব অভিযোগ তারা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নেয়। ঘটনাটি এখনো তদন্তাধীন রয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরো তথ্য পাওয়া গেলে অতিরিক্ত অভিযোগ যোগ হতে পারে। 

মুসলিম সংগঠনের প্রতিক্রিয়া

স্থানীয় মুসলিম অধিকার সংগঠন কেয়ার-কানেকটিকাট জানায়, এই ঘটনা একক নয়; বরং সাম্প্রতিক সময়ে কানেকটিকাট জুড়ে বিভিন্ন মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টারে ঘৃণামূলক ফোনকলের একটি ধারাবাহিক অংশ। সংগঠনটির চেয়ারম্যান ফারহান মেমন বলেন, ধর্মীয় উপাসনালয়কে লক্ষ্য করে ভয়ভীতি ও ঘৃণা ছড়ানো ব্যক্তিদের গ্রেফতার একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয় যে এমন অপরাধ সহ্য করা হবে না। তিনি আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ঘৃণামূলক আচরণ উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এ ধরনের ঘটনায় আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর দ্রুত পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সব মিলিয়ে তদন্তকারীরা বলছেন, এই ঘটনা শুধু একটি হয়রানির মামলা নয়, বরং ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক অপরাধের একটি স্পষ্ট উদাহরণ, যেখানে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন ইসলামিক সেন্টারকে লক্ষ্য করা হয়েছে। 

শেয়ার করুন