১৬ জানুয়ারী ২০২৬, শুক্রবার, ৬:৫৩:২১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ইমাম নিহতের ঘটনায় টার্নারের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ গঠন ম্যানহাটনে মুসলিম মহিলাকে ছুরিকাঘাত, আলবার্টকে ১১ বছরের কারাদণ্ড যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন কর্মকর্তার গুলিতে নারী নিহত, প্রতিবাদে হাজারো মানুষের বিক্ষোভ ট্রাম্পের কড়াকড়িতে অভিবাসী শ্রমিক কমলেও যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শ্রমিকদের বেকারত্ব বেড়েছে ওয়াশিংটনের ন‍্যাশনাল প্রেসক্লাবে বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে সভা মধ্যবর্তী নির্বাচন পরিচালনার নিয়ম বদলাতে মরিয়া ট্রাম্প জামায়াতের সাথে মার্কিন প্রতিনিধিদের বৈঠক নিয়ে নানা গুঞ্জন এক বাসায় অনেক পোস্টাল ব্যালটের ভিডিও ভাইরাল, ব্যবস্থা চায় বিএনপি বাংলাদেশ গাজার জন্য ট্রাম্প প্রস্তাবিত বাহিনীতে থাকতে চায় বাংলাদেশের সঙ্গেও ক্রিকেটে ভারতীদের ভূ-রাজনীতি


জোনায়েদ সাকির বিশ্লেষণ
বিদ্যুৎখাতে সংকটের নেপথ্যে
বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৬-১০-২০২২
বিদ্যুৎখাতে সংকটের নেপথ্যে জুনায়েদ সাকি


দেশজুড়ে বিদ্যুৎ সংকট ও লোডশেডিংয়ের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে সরকারের লুটপাট ও আমদানিনির্ভর নীতির কারণেই বিদ্যুৎখাত আজ গভীর সংকটে নিমজ্জিত বলে মনে করছেন, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি। তার মতে জ্বালানিখাতে এই সংকটময় পরিস্থিতিকে সরকার তৈরি ও ঘনীভূত করে এখন রিজার্ভ সংকটসহ সেগুলোর দায় অন্য বিষয়ের ওপর চাপাচ্ছে। বিদ্যুতের বিপর্যয় তৈরি করে এই সরকার জনগণের জীবনে নাভিশ্বাস তুলেছে এবং এরা দেশে ব্যবসা-বাণিজ্যে অনিশ্চয়তার পরিস্থিতি ডেকে এনেছে। 

জোনায়েদ সাকি ও গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেলের এ সংকটের কারণ খুঁজতে যেয়ে বলেন, ‘সরকার কথিত জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি’ ইউক্রেন যুদ্ধের ফলাফল নয়, বরং তাদের লুটপাটের নীতি-অব্যবস্থাপনার ফলাফল। আর সে সাথে সরকার বিদ্যুতখাতে নিজেদের ব্যর্থতাকে ঢাকার চেষ্টা করছে। এই সরকার ক্ষমতায় এসে বিদ্যুৎ নিয়ে মানুষের সংকট ও বিক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে লুটপাটের আয়োজন গড়ে তোলে। কুইক রেন্টালের বিভিন্ন কেন্দ্রকে বসিয়ে বসিয়ে ক্যাপাসিটি চার্জের নামে গত ১৩ বছরে ৭০ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেয়া হয়েছে এবং লুট করা হয়েছে। দেশীয় মালিকানা নিশ্চিত রেখে সমুদ্রের গ্যাস উত্তোলনের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে।

অপরদিকে নবায়নযোগ্য জ্বালানিনির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিনিয়োগের জন্য জনগণের দাবিকেও উপেক্ষা করেছে। বিশেষত এলএনজির ক্ষেত্রে সময়মতো দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি না করতে পারার ব্যর্থতা বর্তমান পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে খোলা বাজার থেকে বর্ধিত দামে এলএনজি ক্রয়ের চাপে দেশকে নিয়ে গেছে। লুটপাটের সুযোগ তৈরির জন্য পুরো বিদ্যুৎখাতকে আমদানিনির্ভর করে ফেলা হয়েছে। ক্ষমতার ছায়াতলে থাকা সুবিধাভোগীদের পকেটে জনগণের টাকা চালান করাই সরকারের বিদ্যুৎ নীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফলে স্বনির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদনের যথাযথ নীতি গ্রহণ না করা, দুর্নীতি ও লুণ্ঠনের মহোৎসব এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে অতিরিক্ত মুনাফা ও সরকারের বর্ধিত আয়ের জোগান দেয়ার ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার করার এই নীতির ফলাফলই পুঞ্জীভূত হয়ে আজকের সংকটের জন্ম দিয়েছে।

তারা আরো বলেন, বিদ্যুৎখাতকে অনিরাপদ করার সাথে সাথে শিল্প, কৃষি ও পুরো অর্থনীতিকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। সরকার চুরি, দুর্নীতি ও লুটপাট এবং ডলার পাচার করে পুরো রিজার্ভ খালি করে ফেলেছে। এখন তেল-গ্যাস-ফার্নেস অয়েল আমদানি করে এর ব্যয় মেটানোর সক্ষমতাও হারিয়ে ফেলেছে তারা। ফলে সৃষ্ট বিদ্যুৎ সংকটের কারণে বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় তারা বিদ্যুৎ ব্যবহারে মিতব্যয়ী হতে বলছেন। অস্বাভাবিকভাবে লোডশেডিং বাড়ানোর ফলে দেশের শিল্প উৎপাদন, ব্যবসা-বাণিজ্য ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে নাকাল জীবন আরো অনিশ্চয়তার দিকে ধাবিত হচ্ছে।

রোববার দেয়া এক বিবৃতিতে তারা আরো জানিয়েছে, এই সরকার দেশকে অর্থনৈতিক সংকটে ফেলে, জনগণের জীবনকে ভয়াবহ একটা বিপজ্জনক খাদের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থার কারণে বাংলাদেশে যে লুটপাটতন্ত্র কায়েম হয়েছে যার ওপরে বসে শেখ হাসিনা ভয়াবহ ফ্যাসিবাদ এবং কর্তৃত্ববাদ কায়েম করতে পেরেছে। এই অবস্থা আমরা হতে দিতে পারি না। সরকার দেশকে দেউলিয়াত্বের দিকে নিয়ে যাবার আগেই নেতৃবৃন্দ জনগণের অভ্যুত্থানের মাধ্যমে এই স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটাতে জনগণের বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

শেয়ার করুন