০৬ অগাস্ট ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০২:৪১:৩৯ পূর্বাহ্ন


দেশের সংকটকালে ইস্যুছাড়া অনাকাঙ্ক্ষিত বাহাস
সালেক সুফী
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৫-০৮-২০২৬
দেশের সংকটকালে ইস্যুছাড়া অনাকাঙ্ক্ষিত বাহাস জামায়াত জোটের বৈঠক


স্মরণকালের সবচেয়ে গভীর জ্বালানি বিদ্যুৎ সংকটে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের জীবনে এখন দুর্বিষহ সংকট। গ্যাস সংকটে চুলা জ্বলছে না, যানবাহনে মিলছে না সিএনজি, গ্যাস বিদ্যুৎ উৎপাদনে ভাটা পড়ায় লোডশেডিং অসহনীয় হয়ে পড়েছে, শিল্পকারখানাগুলোর উৎপাদনে নেমেছে স্থবিরতা।

এটা যে নতুন সরকার তার ক্ষমতার পাচ মাসে সৃষ্টি করেছে তা নির্বোধও বোঝেন। নতুন সরকার সাধ্যমত চেষ্টা করেছে সংকটের সমাধান করে দ্রুত পরিস্থিতি সমাধান করে জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনার। কিন্তু সরকারের এ প্রচেষ্টা ও দেশের মানুষের কল্যাণে আন্তরিকার মুহূর্তে রাজনীতিতে যখন প্রয়োজন সহমর্মিতার ভিত্তিতে সহযোগিতা তখন একশ্রেণির বিরোধী রাজনৈতিক দল জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং সংবিধান সংস্কারের দাবি তুলে রাজপথ উত্তপ্ত করার পাঁয়তারা করছে। জনজীবনের বর্তমান সংকট মুহূর্তে সরকারের পাশাপাশি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর অবশ্যই দায়িত্ব আছে সরকারকে সঠিক পরামর্শ দিয়ে সংকট সমাধানে সহায়তা করার। আওয়ামী লীগ ছাড়া বিরোধী দলগুলো সংসদে আছে। যে বিষয়গুলো নিয়ে রাজপথে উত্তাপ ছড়াতে চেষ্টা করছে জামায়াত, এনসিপি সেগুলো নিয়ে সংসদে আলোচনা বিতর্ক করার সুযোগ থাকলেও কেন রাজপথে সংঘাত সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে বিরোধী দল সেটি রহস্যজনক। 

দেশে স্বাভাবিক রাজনৈতিক পরিবেশ বিদ্যমান থাকলে এবং সব রাজনৈতিক দল নির্বাচন করার সুযোগ পেলে জামায়াত বা এনসিপি কখনো সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকায় আসতে পারতো না, এটা দিবালোকের মত সত্য। যেহেতু পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তারা সুযোগ পেয়েছে তাই গঠনমূলক এবং দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে তাদের উচিত সরকারকে স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিমূলক কার্যক্রমে চাপে রাখা। সেটি না করে বিরোধী দলগুলো নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করা বিএনপিকে রাজপথের আন্দোলনের জুজুর ভয় দেখাচ্ছে।

২০২৪ জুলাই আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ এনে রাজনীতি করার সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে। অভিযোগ নিরপেক্ষ আদালতে প্রমাণিত হয়নি, অথচ ১৯৭১ মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গণহত্যায় সহায়তাকারী আন্তর্জাতিকভাবে নিন্দিত জামায়াত ইসলামী এখন ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তুলে সরকার পতনের হুমকি দিচ্ছে। বাংলাদেশের জনগণ আবেগপ্রবণ হলেও কিন্তু অন্ধ নয়। ২০২৪ সরকার পরিবর্তনের পটভূমিতে জনমনে বৈষম্যবিরোধী যে চেতনার উন্মেষ ঘটেছিল তার ছিটেফোঁটা অর্জিত হয়নি। রাজনীতিতে নতুন ব্যবস্থাপনা আসার সুগার কোটেড ঘোষণা এখন কৌতুক মনে হচ্ছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাস দেশকে নতুন করে বিদেশি আধিপত্যের অক্টোপাস বাঁধনে বন্দি করে গেছে। বিপুল অর্থ আর সময় অপচয় করে তথাকথিত জুলাই সনদে ঐক্যমত কতটুকু হয়েছিল জনগণ সন্ধিহান। তবে জনগণকে অন্ধকারে রেখেই সংবিধান পরিপন্থী গণভোট হয়েছে। বিদ্যমান সংবিধানের আওতায় গঠিত এবং পরিচালিত সংসদে সে অবৈধ গণভোটের রায় বাস্তবায়নের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

বিএনপি জোট কিন্তু নির্বাচনে তাদের ৩১ দফার ওপর ম্যান্ডেট পেয়েছে। নির্বাচিত সরকার সংসদে আলোচনার ভিত্তিতে ১৯৭২ সংবিধান সংস্কারের কার্যক্রম শুরু করেছে। বিরোধী দলগুলোর উচিত সংসদে আলোচনা করে সংবিধান সংস্কারসহ সম্মত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা।

বিএনপি সরকারের কার্যক্রম নিয়ে সীমিত সময়ে মূল্যায়ন করবো না। তাদের অনেক কাজেও অতীত সময়ের স্বৈরাচারী দৃষ্টিভঙ্গি দৃশ্যমান। কিন্তু বর্তমান কঠিন সময়ে দেশের মৌলিক সমস্যাগুলো সমাধানে বিরোধী দলগুলোর উচিত হবে না দেশকে অস্থিতিশীল করে তোলা।

দেশের মূল সমস্যা জ্বালানি বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলা করে ক্ষয়িষ্ণু অর্থনীতি সচল রাখা। ভূরাজনীতির ব্যাপক প্রভাবে বিশ্বপরিস্থিতি টালমাটাল। বাংলাদেশ ভুল পদক্ষেপ নিলে কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী সংকটে পড়বে।

দেশ ও জনগণের স্বার্থে সরকারি দলসহ সব রাজনৈতিক দলের শুভবুদ্ধির উদয় হবে। ভাবাবেগ নয়, বাস্তবতার নিরিখে সহমর্মিতার ভিত্তিতে রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে উঠুক। বাংলাদেশ প্রথম বাংলাদেশ শেষ সেটাই হোক রাজনৈতিক দর্শন। সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সব রাজনৈতিক দল ন্যূনতম ইস্যুভিত্তিক ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা করুক। সবপর্যায়ে অতি প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়িত হোক।

শেয়ার করুন