প্রধান অতিথিকে ক্রেস্ট প্রদান
আপনারা এমন কোন কাজ করবে না, যাতে দল এবং দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়। পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিস্ট সরকারের লোকজন আপনাদের উসকানি দিতে পারে, পানির বোতল মারতে পারে, অশ্লীল স্লোগান দিতে পারে, যাতে করে আপনারা রিঅ্যাকশন করেন। আপনাদের কাছে আমার অনুরোধ থাকবে আপনারা কোন রিঅ্যাকশন দেখাবেন না। আপনারা ধৈর্য ধারণ করবেন। তারা চাইবে গন্ডগোল লাগিয়ে দেশ এবং দলের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে। পানি বোতল মারলে তা তাদের দিকে আবার না মেরে সেটাকে গার্বেজে ফেলে দিন এবং শান্ত থাকুন। গত ১৩ সেপ্টেম্বর জ্যাকসন হাইটসের বাংলাদেশ প্লাজায় যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিক দল কর্তৃক আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আনোয়র হোসেন এ সব কথা বলেন।
যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিক দলের সভাপতি জাহাঙ্গীর এম আলমের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম শাহীনের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন শ্রমিত দলের কেন্দ্রীয় কমিটির উপদষ্টা, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোস্তাক আহমেদ, যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিক দলের সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান, যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিক দলের সহ-সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর মশিউর রহমান।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন—যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিক দলের সহ-সভাপতি মোস্তফা আহমেদ, মাহবুব আলম, মোসলা উদ্দিন, সৈয়দ শফিকুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ রুহুল আমিন, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন—সহ-সভাপতি শহিদুল হক, মোহাম্মদ সোলায়মান, আইনুল হক আকন্দ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমীর আফতাব, আলম এম আলম, কোষাধ্যক্ষ আলম বেপারী, সহ-কোষাধ্যক্ষ এস জমাদার, প্রচার সম্পাদক নাছির উদ্দিন, সহ-প্রচার সম্পাদক আবুল খায়ের ফজলু, আবদুল হান্নান সিকদার, তাপস চৌধুরী, ফয়সাল হোসেন, তফাজ্জল হোসেন, মোহাম্মদ ইসলাম উদ্দিন, ফরিদ আহমেদ, মোহাম্মদ এন হোসাইন, নূরনবী চৌধুরী, ফারুক সরকার, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক তাহমিনা আক্তার, ছালাবদ জং চৌধুরী, রাজা চৌধুরী প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আনোয়ার হোসেন খোকন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিক দলের এতো নেতাকর্মী আজকে অনুষ্ঠানে না আসলে আমি বুঝতে পাতাম না। আমি শ্রমিক দলের অনুষ্ঠানে না এসে এতদিন ভুল করেছি। সে জন্য আমি দুঃখ প্রকাশ করছে। সেই সঙ্গে আরেকটি কথা বলতে চাই, আমি বিএনপি করি, আর শ্রমিক দল অন্য একটি সংগঠন, যার নেতৃত্ব আলাদা। তাই আমি অনুষ্ঠান করিনি, অন্যের অধিকারে হস্তক্ষেপ করিনি এবং দলের চেইন অব কমান্ড ভাঙার চেষ্টা করিনি। আজকে আমি এ অনুষ্ঠানে এসে বুঝতে পারলাম শ্রমিক দল একটি সুসংঠিত সংগঠন। এ সংগঠন অগ্রভাগে থেকে নেতৃত্ব দিতে পারে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২১ সেপ্টম্বর নিউইয়র্ক আসছেন। তিনি যে দিন এয়ারপোর্ট নামবেন আমরা তাকে বিকেলে এয়ারপোর্টে স্বাগত জানাবো। তিনি ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যখন ভাষণ দিবেন তখন আমরা জাতিসংঘের সামনে তাকে অভিনন্দন জানাবো। তা ছাড়া তিনি যে হোটেলে থাকবেন, যতদিন থাতবেন, ততদিন সেই হোটেলের সামনে আমরা অবস্থান গ্রহণ করবো। এজন্য আপনারা আমাদের সহযোগিতা করবেন। আপনারা এমন কোনো কাজ করবে না, যাতে দল এবং দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়। পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিস্ট সরকারের লোকজন আপনাদের উসকানি দিতে পারে, পানির বোতল মারতে পারে, অশ্লীল স্লোগান দিতে পারে, যাতে করে আপনারা রিঅ্যাকশন করেন। আপনাদের কাছে আমার অনুরোধ থাকবে আপনারা কোনো রিঅ্যাকশন দেখাবেন না। আপনারা ধৈর্য ধারণ করবেন। তারা চাইবে গন্ডগোল লাগিয়ে দেশ এবং দলের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে। পানি বোতল মারলে তা তাদের দিকে আবার না মেরে সেটাকে গার্বেজে ফেলে দিন এবং শান্ত থাকবেন। আইন কখনো নিজেদের হাতে নেবেন না। আর যাদের কাজগপত্রে সমস্যা আছে তারা এসব কর্মসূচিতে অংশ নেবেন না। আপনাদের কিছু হলে দল তার দায়দায়িত্ব নেবে না। অনেক আশা নিয়ে এ দেশে এসেছেন, সুতরাং এ দেশের আইন মেনে চালুন। তিনি নেতাদের উদ্দেশ্যে বলেন, কর্মীদের সঙ্গে কখনো উচ্চস্বরে কথা বলবেন না, তাদের সামনে মাথা নিচু করে কথা বলবেন। কারণ তারা আছে বলেই আমি, আপনারা আজকে নেতা। এটা সব সময় মনে রাখবেন। তিনি কর্মীদের বক্তব্যের জের ধরে বলেন, গণসংবর্ধনা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে সবাইতে হয়ত পারা যাবে না, এবার আমরা চেষ্টা করবো কয়েকজন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দিতে। সেটাও নির্ভর করবে পরিস্থিতির উপর।
সভাপতি জাহাঙ্গীর এম আলম বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রীর পুরো সফরে তার অতন্ত্র প্রহরী হিসেবে কাজ করবো। তিনি পতিত স্বৈরাচারী সরকারের সমর্থকদের গণতান্তিক উপায়ে প্রতিহতের ঘোষণা দিয়ে অনুষ্ঠান সফল এবং সার্থক করার জন্য সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথিকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয় এবং সংগঠনের পক্ষ থেকে ক্রেস্ট প্রধান করা হয়। ক্রেস্ট তুলে দেন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ অন্যরা।