মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট
যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের মেইল ব্যালটের ওপর নতুন বিধিনিষেধ আরোপের উদ্যোগ আটকে দিয়েছে। ১৪ সেপ্টেম্বর সোমবারের সিদ্ধান্তের ফলে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে স্টেটগুলো তাদের প্রচলিত নিয়মেই ভোটারদের কাছে মেইল ব্যালট পাঠাতে পারবে। ৪৯-৫০ ভোটে নয়, বরং সুপ্রিম কোর্টের জরুরি আদেশের মাধ্যমে এই উদ্যোগ থামানো হয়। আদালতের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতিরা জানিয়েছেন, চলতি নির্বাচনে প্রশাসনের প্রস্তাব কার্যকর করার চেষ্টা আইনি চ্যালেঞ্জে টিকে থাকার সম্ভাবনা কম। তবে জরুরি আদেশে আদালত বিস্তারিত যুক্তি প্রকাশ করেনি। বিচারপতি স্যামুয়েল আলিটো ও ক্ল্যারেন্স থমাস ভিন্নমত জানিয়েছেন।
ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পনায় মেইল ব্যালটের জন্য স্টেট গুলোকে একই ধরনের খাম ব্যবহার এবং যোগ্য ভোটারদের তালিকা একটি অনলাইন পোর্টালে জমা দেওয়ার নিয়ম করা হয়েছিল। নির্ধারিত নিয়ম না মানলে ডাক বিভাগ সংশ্লিষ্ট স্টেটে ব্যালট পৌঁছে দেওয়া বন্ধ করতে পারত। নির্বাচন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শুরু হয়ে যাওয়ায় এত অল্প সময়ে পুরো ভোটব্যবস্থা পরিবর্তন করা বাস্তবসম্মত নয়। আলাবামা, নর্থ ক্যারোলাইনা ও উইসকনসিনসহ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে এরই মধ্যে ভোটারদের কাছে মেইল ব্যালট পাঠানো শুরু হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে স্টেটের কর্মকর্তারা ও ভোটাধিকার সংগঠনগুলো আদালতে মামলা করে। তাদের অভিযোগ, প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতার মাধ্যমে নির্বাচনের নিয়মে এত বড় পরিবর্তন আনার সাংবিধানিক কর্তৃত্ব নেই। তারা আরও আশঙ্কা প্রকাশ করে যে নতুন ব্যবস্থা চালু হলে ভোটারদের ব্যালট পাঠানো ও গ্রহণের ক্ষেত্রে ব্যাপক বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।
একটি হুইসেলব্লোয়ার প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, প্রস্তাবিত নতুন ডাকব্যবস্থায় প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে বিপুলসংখ্যক মেইল ব্যালট আটকে যেতে পারে। বিশেষ করে নতুন অনলাইন পোর্টালের বারকোড-সংক্রান্ত সমস্যায় পুরো ব্যালটের চালান বাতিল হওয়ার আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছিল।অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন মেইল ব্যালটের নতুন নিয়মগুলোকে নির্বাচন নিরাপদ রাখার জন্য প্রয়োজনীয় পরিবর্তন হিসেবে তুলে ধরেছে। প্রশাসনের যুক্তি ছিল, ডাকযোগে পাঠানো ব্যালটের ব্যবস্থাপনায় আরও একীভূত ও নিয়ন্ত্রিত প্রক্রিয়া প্রয়োজন।
ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে মেইল ভোটিংয়ের সমালোচনা করে আসছেন এবং ২০২০ সালের নির্বাচনে তার পরাজয়ের সঙ্গে মেইল ভোটকে যুক্ত করে অভিযোগ করেছেন। তবে মেইল ব্যালটে ব্যাপক জালিয়াতির দাবির পক্ষে উল্লেখযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। একই সময়ে ট্রাম্প নিজেও বিভিন্ন নির্বাচনে মেইল ব্যালট ব্যবহার করেছেন।
সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের পর স্টেট গুলোর নির্বাচন কর্মকর্তারা স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচনী প্রস্তুতি চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। ওয়াশিংটন, অ্যারিজোনা ও উটাহর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা প্রচলিত নিয়মে নির্বাচন পরিচালনার প্রস্তুতি অব্যাহত রাখবেন। তবে এই সিদ্ধান্তে মেইল ভোটিং নিয়ে বিতর্কের পুরোপুরি অবসান হয়নি। চলতি মধ্যবর্তী নির্বাচনে নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর না হলেও ভবিষ্যতে একই ধরনের আইনি প্রশ্ন আবার আদালতের সামনে আসতে পারে।
সিনেটে ক্রিপ্টো নিয়ন্ত্রণ বিল আটকে গেল
যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে ক্রিপ্টোকারেন্সির জন্য নতুন নিয়ন্ত্রক কাঠামো তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ বিল এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ মঙ্গলবার ৪৯-৫০ ভোটে ব্যর্থ হয়েছে। ‘ক্ল্যারিটি অ্যাক্ট’ নামে পরিচিত বিলটি পাস হলে ২.৩ ট্রিলিয়ন ডলারের ক্রিপ্টো ও ডিজিটাল সম্পদ বাজারের জন্য আরও স্পষ্ট ফেডারেল নিয়ম তৈরি হওয়ার কথা ছিল। বিলটি এগিয়ে নিতে ৬০ ভোট প্রয়োজন ছিল। তবে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন না পাওয়ায় প্রস্তাবটি প্রয়োজনীয় ভোট অর্জন করতে পারেনি। ডেমোক্র্যাটদের প্রধান আপত্তি ছিল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার পরিবারের ক্রিপ্টো ব্যবসা। তাদের দাবি, সরকারি কর্মকর্তারা যাতে দায়িত্বে থাকা অবস্থায় নিজেদের ক্রিপ্টো বিনিয়োগ বা ব্যবসা থেকে ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হতে না পারেন, সে জন্য আরও কঠোর নৈতিকতা বিধান প্রয়োজন।
আপত্তি দূর করতে ট্রাম্প ও রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা বিলটিতে কিছু পরিবর্তন আনেন। এর মধ্যে নির্বাচিত ফেডারেল কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারের সদস্যদের ডিজিটাল সম্পদ ইস্যু করার ওপর বিধিনিষেধ এবং অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলদের অতিরিক্ত প্রয়োগক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব ছিল। তবে ডেমোক্র্যাটরা এসব পরিবর্তনকে যথেষ্ট মনে করেনি।
ক্রিপ্টো শিল্পের দাবি, বিলটি পাস হলে কোম্পানিগুলো আরও স্পষ্ট আইনি কাঠামো পেত এবং ভোক্তা সুরক্ষা ও বাজার নিয়ন্ত্রণ জোরদার হতো। অন্যদিকে বিরোধীদের আশঙ্কা, প্রস্তাবিত কাঠামো শিল্পটিকে অতিরিক্ত সুবিধা দিতে পারে এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা ও ভোক্তা সুরক্ষার জন্য আরও কঠোর বিধান প্রয়োজন।
বিলটি আটকে যাওয়ার পর ক্রিপ্টো বাজারেও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। বিটকয়েনের দাম প্রায় ৪ শতাংশ কমে যায় এবং ক্রিপ্টো-সম্পর্কিত কয়েকটি বড় কোম্পানির শেয়ারের দামও কমেছে।সিনেটের ভোটে বিলটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল হয়নি, তবে এর অগ্রগতি বড় বাধার মুখে পড়েছে। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে থাকায় বিলটি আবার কবে এবং কীভাবে আলোচনায় ফিরবে, তা এখনো অনিশ্চিত।