১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বুধবার, ০৮:০৪:২৭ অপরাহ্ন


আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে হার্ড লাইনে সরকার
সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ
  • আপডেট করা হয়েছে : ১৬-০৯-২০২৬
আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে হার্ড লাইনে সরকার আওয়ামী লীগের দলীয় পতাকা


আওয়ামী লীগের ব্যাপারে আর ঢিলেমি দেখাবে না প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে হার্ড লাইন নিচ্ছে সরকার, পাশাপাশি বাড়াচ্ছে কঠোর নজরদারি। 

হঠাৎ সর্তক পুলিশ

রাজধানীর বেশপথ ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ব্লক চেকসহ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ১৪ সেপ্টেম্বর সোমবার সকালে ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্সের সম্মেলন কক্ষে আগস্ট ২০২৬ মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় এসব নির্দেশনা দেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ। এতে অপরাধীরা যাতে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ঢাকায় এসে অপরাধ সংঘটিত করতে না পারে, সেজন্য আগাম গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের পাশাপাশি সন্দেহভাজনদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণে আনার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। আরও জানা গেলো যে, এখন থেকে আবাসিক হোটেলসহ বিভিন্ন হোটেলের অতিথিদের তালিকা নিয়মিত সংগ্রহ ও সংরক্ষণে জোড়ালো মনিটরিং এর গুরত্ব দেওয়া হয়েছে। যদিও এটা আগেও ছিল। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরে এতোটা কড়াকড়ি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। কিন্তু এখন থেকে হোটেলগুলো থেকে অতিথিদের তথ্য সংগ্রহের কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রয়োজনের সময় যেন এসব তথ্য দ্রুত পাওয়া যায়, তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেলো এধরনের পদক্ষেপ এখন সারা দেশ জুড়েই ছড়িয়ে দেওয়া হবে। 

হার্ড লাইনের আরও নমুনা

রাজধানীর গুলশান থানাধীন এলাকায় শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বেলা পৌনে ১২টায় কার্যক্রম স্থগিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতারা এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সমবেত হন। এই ধরনের খবরে সরকারের ভেতরে বাইরে তোলপাড় হয়ে যায়। কারো কারো মতে, নির্বাচিত সরকারের ভাবমূর্তি নস্যাৎ করাসহ সরকারবিরোধী এজেন্ডা বাস্তবায়ন ও সরকারকে বেকায়দায় ফেলার লক্ষ্যে এধরনের কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। কারো কারো মতে, মাত্র কয়েকদিন আগে এইসব কর্মসূচির ব্যাপারে বিএনপি সরকারের মধ্যে তেমন উচ্চবাচ্য ছিল না। কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এখন থেকে আর নমনীয় পথে হাঁটবে না সরকার। একারণে ঢাকার গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের মিছিলের ঘটনায় ১২ সেপ্টেম্বর শনিবার রাতেই গ্রেফতার করে ফেলা হয়। ১১ সেপ্টেম্বর শুক্রবার গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিল বের করার কারণে এই পর্যন্ত ওই মিছিলে অংশগ্রহণের অভিযোগে ৭৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর পাশাপাশি রাজধানীর গুলশানে সরকার বিরোধী মিছিলের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেফতার কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ২৪ নেতাকর্মীর ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। অন্যদিকে রাজধানীর গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের মিছিলের মতো অন্য স্থানে একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে পুলিশকে আরও সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জোরদার করতে বলা হয় বিট ও কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম। 

রায় ঘোষণা..

এদিকে কারো কারো মতে, গত ১৫ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার ছিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল-২ রায় ঘোষণার দিন। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ দলটির সাত নেতাকে মৃত্যুদন্ড দিয়েছেন আদালত। সরকারের আশঙ্কা এই রায় ঘোষণার কারণে দলটির নেতাকর্মীরা ঝটিকা মিছিল করতে পারে, নিতে পারে নাশকতার আশ্রয়। তা-ই আওয়ামী লীগের মিছিল বন্ধে সতর্ক থাকার আগাম পদক্ষেপ হিসাবে এটা নেওয়া হয়েছে। 

হার্ড লাইনের অন্য কারণ

একটি সূত্র জানায় আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে সামনে রেখেই এধরনের পদেক্ষপ নেওয়া হচ্ছে। যদিও আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো দলীয় প্রতীক বা দলীয় মনোনয়ন ব্যবহার করা হবে না। তারপরেও একে সামনে রেখেই সরকার কঠোর হয়েছে। দীর্ঘ ১০ বছর পর প্রতীক ছাড়া এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। 

গোপন পরিকল্পনা সরকারের কাছে

একটি সূত্র জানায় সরকারের একটি বিশেষ সংস্থার কাছে খবর রয়েছে যে, দেশের ভেতরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আ.লীগ গোপন রাজনৈতিক পরিকল্পনা নিয়েছে। সরকারের কাছে খবর হচ্ছে দলটি নিজেরা পছন্দ না করলেও ঠিক ও-ই দলটির সাথে গোপনে গাটছাড়া বেঁধেছে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে প্রভাব বিস্তার করতে। ইতোমধ্যে রাজধানীতে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের একধরনের হাওয়া বইছে। এখানেই তারা তারা গোপনে অন্যপক্ষের কাজ করতে গুপ্ত পরিকল্পনা নিয়েছে গোপন সমঝোতার ভিত্তিতে। অন্যদিকে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন সাত ধাপে করার পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রথম ধাপে আগামী ১২ নভেম্বর নির্বাচন শুরু করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কারো কারো মতে, একারণে সরকার হার্ড লাইনে..। কেননা শোনা যাচ্ছে স্থানীয় সরকারের নির্বাচণে আওয়ামী লীগ গুপ্তভাবে বা কোথাও কোথাও প্রকাশ্যে কিংবা আরেকটি দলের ব্যানারে কাযক্রম শুরু করতে পরিকল্পনা করেছে। এসব স্থানে তারা ও-ই রাজনৈতিক দলটের সাথে গোপনে বোঝাপড়া সেড়েও নিয়েছে। আবার কারো মতে, দেশের বাইরে আ.লীগ মিছিল মিটিং করলে দলটির নেতাকর্মীরা সমূহ বিপদের মধ্যে পড়তে হচ্ছে। সেক্ষেত্রে দেশের ভেতরে দলের একটি অংশ এই কর্মসূচি নিয়েছে। আর এসব খবরের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার আগে ভাগেই হার্ড লাইন নিয়েছে।

শেয়ার করুন