১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০১:০৩:৪৫ পূর্বাহ্ন


কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে খলিলের মামলা
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ১৬-০৯-২০২৬
কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে খলিলের মামলা মাহমুদ খলিল


ফিলিস্তিনপন্থী অ্যাকটিভিস্ট মাহমুদ খলিল কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তার অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় তার এবং ফিলিস্তিনপন্থী একটি ক্যাম্পাস সংগঠনের অন্যান্য সদস্যের বিরুদ্ধে হয়রানি ও হুমকির অভিযোগ যথাযথভাবে মোকাবিলা করেনি। বরং এসব ঘটনা জানানোর পর বিশ্ববিদ্যালয় তাদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে। মাহমুদ খলিলের নতুন মামলাটি নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল আদালতে দায়ের করা হয়েছে। আদালতে দায়ের করা দেওয়ানি অধিকার মামলায় খলিলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিষ্ক্রিয়তার কারণে সংগঠনের একাধিক সদস্য ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের শিকার হন। মামলায় আরো অভিযোগ করা হয়েছে, খলিলকে ঘিরে ছড়িয়ে পড়া ভুল তথ্য সংশোধনেও বিশ্ববিদ্যালয় কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।

খলিলের অভিযোগ, হয়রানির ঘটনাগুলো তদন্ত করার পরিবর্তে বিশ্ববিদ্যালয় ফিলিস্তিনপন্থী কর্মসূচিগুলোকে নিরাপত্তাঝুঁকি হিসেবে দেখেছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলি সরকারের সমালোচনাকে লক্ষ্য করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাস্তিমূলক নীতিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে বলেও মামলায় দাবি করা হয়েছে।

কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় মামলার নির্দিষ্ট অভিযোগ নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করেনি। তবে বিশ্ববিদ্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ক্যাম্পাসে প্রত্যেক সদস্য যেন স্বাগত, সমর্থিত ও নিরাপদ বোধ করেন, তা নিশ্চিত করা তাদের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব। বৈষম্য ও হয়রানি থেকে বিশ্ববিদ্যালয় কমিউনিটিকে সুরক্ষা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও তারা পুনর্ব্যক্ত করেছে।

কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক গ্র‍্যাজুয়েট শিক্ষার্থী মাহমুদ খলিল গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদকারী শিক্ষার্থীদের অন্যতম মুখপাত্র হিসেবে পরিচিতি পান। ২০২৫ সালের মার্চে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাকে গ্রেফতার করে। তিনি লুইজিয়ানার একটি ইমিগ্রেশন জেলে ১০৪ দিন আটক ছিলেন এবং ওই সময় তার প্রথম সন্তানের জন্মের সময় উপস্থিত থাকতে পারেননি। পরে আদালতের আদেশে তিনি মুক্তি পান। তার বহিষ্কার-সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়া এখনও চলমান।

মামলায় খলিলের পাশাপাশি ফিলিস্তিনপন্থী একটি ক্যাম্পাস সংগঠন এবং সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ জুবাইরিকেও বাদী করা হয়েছে। তারা খলিলের ক্যাম্পাসে প্রবেশাধিকার পুনর্বহাল, সংগঠনটির ওপর স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার এবং ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। এটি কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে খলিলের দ্বিতীয় মামলা। এর আগে ২০২৫ সালে তিনি একটি কংগ্রেশনাল কমিটির কাছে শিক্ষার্থীদের রেকর্ড হস্তান্তর ঠেকাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন।

শেয়ার করুন