১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ৬:১৫:৪৯ পূর্বাহ্ন


নিউইয়র্ক মহানগর আ’লীগের সংবাদ সম্মেলন
‘যেখানে তারেক, সেখানেই প্রতিরোধ’
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ১৬-০৯-২০২৬
‘যেখানে তারেক, সেখানেই প্রতিরোধ’ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ


‘যেখানে তারেক-সেখানেই প্রতিরোধ’ কর্মসূচি উপলক্ষে নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগ এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তারেক রহমানের নিউ ইয়র্ক অবস্থানকালে প্রতিরোধের ঘোষণা দেয়া মহানগর আওয়ামী লীগ। অর্থাৎ ২১ সেপ্টেম্বর জেএফকে এয়ারপোর্টে, ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে ভাষণের সময় জাতিসংঘের সামনে এবং তারেক রহমান যে হোটেলে অবস্থান করবেন সেখানে বিক্ষোভ সমাবেশ।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর সন্ধায় এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয় জ্যাকসন হাইটসের নবান্ন পার্টি হলে। নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি রফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুর রহমান চৌধুরী। বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন ইমদাদুর রহমান চৌধুরী, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ডা. মাসুদ হাসান, আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী, নিউ ইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি রফিকুর রহমান প্রমুখ।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ‘গত ১২ ফেব্রুয়ারির পাতানো নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত অবৈধ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২১ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র আসছেন।’ ‘আমরা মনে করি দেশ পরিচালনায় চরম ব্যর্থতা ও এই ভয়াবহ সংকটের জন্য এই অবৈধ বিএনপি সরকার ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্পূর্ণভাবে দায়ী এবং সেই জন্য জাতিসংঘের আসন্ন ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ এবং ভাষণ দেয়ার কোন অধিকার তার নেই। সুতরাং ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তারেক রহমানের নিউ ইয়র্ক অবস্থানকালে অর্থাৎ ২১ সেপ্টেম্বর জেএফকে এয়ারপোর্টে অবতরণ থেকে শুরু করে তার নিউ ইয়র্ক ত্যাগ করা পর্যন্ত “যেখানে তারেক-সেখানেই প্রতিরোধ”কর্মসূচি গ্রহণ করেছি। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে তারেক রহমানের আগমনের প্রতিবাদে ২১ সেপ্টেম্বর জেএফকে এয়ারপোর্টের সামনে এবং ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ হেডকোয়ার্টারের সামনে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি আরো বলেন, আপনারা জানেন ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশি-বিদেশি চক্রান্তের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন জনগণের ভোটে নির্বাচিত আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। আর এই ষড়যন্ত্রের পেছনে অন্যতম প্রধান কুশীলব ছিলো তারেক রহমান ও তার দল বিএনপি। তারেক রহমানের প্রত্যক্ষ নির্দেশে এই বিএনপি-জামাত অশুভ চক্র কথিত বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের নামে বহু আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী, পুলিশ সদস্যসহ অসংখ্য মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করে ও পুড়িয়ে মারে এবং সরকারি-বেসরকারি সম্পদ ধ্বংস করে ও জ্বালিয়ে দেয়।

পরবর্তীতে ৫ আগস্টের পর তাদের এই বর্বরতা ইতিহাসের সকল রেকর্ড ভেঙে ফেলে দেশকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যায়। রাজধানীতে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ নির্দেশে বিএনপি-জামাতের সন্ত্রাসীরা বঙ্গবন্ধুর ধানমন্ডির ঐতিহাসিক ৩২ নম্বরের বাড়ি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয় এবং আগুন পুড়িয়ে দেয় এবং সারা দেশে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ও মুক্তিযুদ্ধের সকল স্মৃতি চিহ্ন মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়। তারা শত শত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীকে হত্যা এবং তাদের বাড়িঘর ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে। তাদের হামলা-মামলার কারণে আওয়ামী লীগের হাজার হাজার নেতা-কর্মী আজ বিনাবিচারে কারাগারে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। এদের কারণে দেশের চিকিৎসক সমাজ থেকে শুরু করে শিক্ষক সমাজ পর্যন্ত দেশ ছাড়তে, দেশ ছাড়া, ঘর ছাড়া।

ষড়যন্ত্রকারী ও হায়েনাদের দখলে থাকা বিধ্বস্ত বাংলাদেশের মানুষের জীবন আজ অভিশপ্ত ও অন্ধকারাচ্ছন্ন। বাংলাদেশ আজ স্বাধীনতা বিরোধী প্রতিক্রিয়াশীল শক্তির হাতে অবরুদ্ধ। তাদের কারণে দেশ আজ খুন, ছিনতাই, ডাকাতি, সন্ত্রাস, ধর্ষণ, ধর্ষণকারী, দুর্নীতি, চাঁদাবাজির স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। মানুষের জীবনে এখন নিরাপত্তা বলতে কিছু নেই। গ্যাস, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, সারের হাহাকার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের আকাশচুম্বী মূল্যের কারণে দেশের মানুষ চরম দুঃসহ জীবন কাটাচ্ছে।

সুশাসনের অভাবে মাত্র ৬ মাসে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ খেলাপি ঋণের দিক থেকে বৈশ্বিক তালিকায় শীর্ষে বা ১ নম্বরে অবস্থান করছে ঠিক যেমন ২০০১ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত বিএনপির শাসনামলে বাংলাদেশ টানা ৫ বার দুর্নীতিতে “বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন”হয়েছিল।

আমরা মনে করি দেশ পরিচালনায় চরম ব্যর্থতা ও এই ভয়াবহ সংকটের জন্য এই অবৈধ বিএনপি সরকার ও এর অবৈধ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্পূর্ণভাবে দায়ী এবং সেই জন্য জাতিসংঘের আসন্ন ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ এবং ভাষণ দেওয়ার কোনো অধিকার তার নেই।

সংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইমাদাদুর রহমান বলেন, আপনারা জানেন প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন তিনি যখন জাতিসংঘে এসেছিলেন সেই সময় গণসংবর্ধনার আয়োজন করেছিলো নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগ। এবারো বিক্ষোভের কর্মসূচি ঘোষণা করছে মহানগর আওয়ামী লীগ। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ কী কর্মসূচি নিচ্ছে বা সংবাদ সম্মেলন কেন করছে না এটা তাদের ব্যাপার। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগ যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠন নয়। অপর নেতা মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের কোন অস্তিত্ব নেই, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগকে দুই ভাগ করা হয়েছে, একভাগের কমিটি দেয়া হয়েছে, অন্য ভাগের কমিটি এখনো নেই।

শেয়ার করুন