১৯ অগাস্ট ২০২৬, বুধবার, ০৬:৬:৪৮ অপরাহ্ন


অপারেশন জানুসের পুরোনো ফিঙ্গারপ্রিন্ট রেকর্ড ঘেঁটে ২০২৬-এ ডিন্যাচারালাইজেশন অভিযান জোরদার
পুরোনো ফিঙ্গারপ্রিন্টে নজর : বাড়ছে নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ১৯-০৮-২০২৬
পুরোনো ফিঙ্গারপ্রিন্টে নজর : বাড়ছে নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা পুরোনো ফিঙ্গার প্রিন্ট


যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব বাতিলের ডিন্যাচারালাইজেশন মামলা ২০২৬ সালে হঠাৎ বেড়ে গেছে। ২০০৮ থেকে ২০২৬ সালের ১২ জুন পর্যন্ত ফেডারেল আদালতে মোট ১৬৬টি ডিন্যাচারালাইজেশন মামলা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ২০২৬ সালের মে মাসে ১৫টি এবং জুনের প্রথম ১২ দিনেই আরও জুলাই মাসে ১৮টি মামলাসোহো মোট ৪৫ টি মামলা তিন মাসে দায়ের করা হয়। পুরোনো অভিবাসন নথি ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট রেকর্ড পুনরায় যাচাই এবং ভিন্ন পরিচয়ে নাগরিকত্ব নেওয়ার অভিযোগ ডিপার্টমেন্ট অফ জাস্টিস মামলাগুলো দায়ের করেছে । বর্তমান তৎপরতার শিকড় খুঁজে পাওয়া যায় ২০১০ সালে শুরু হওয়া ‘অপারেশন জানুস’ এবং পরবর্তী হিস্টোরিক্যাল ফিঙ্গারপ্রিন্ট এনরোলমেন্ট (এইচএফই) প্রকল্পে।এই নতুন ঢেউয়ের সঙ্গে বহু বছর আগে শুরু হওয়া ‘অপারেশন জানুস’ ও পরবর্তী হিস্টোরিক্যাল ফিঙ্গারপ্রিন্ট এনরোলমেন্ট (এইচএফই) কার্যক্রমের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।

অপারেশন জানুস কী এবং কেন শুরু হয়েছিল

প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা কর্তৃক ২০১০ সালে অপারেশন জানুস শুরু করা হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল পুরোনো অভিবাসন রেকর্ডের সঙ্গে বর্তমান বায়োমেট্রিক তথ্য মিলিয়ে এমন ব্যক্তিদের শনাক্ত করা, যারা অতীতে এক পরিচয়ে অভিবাসন-সংক্রান্ত ব্যবস্থা বা ডিপোর্টেশনের মুখোমুখি হয়ে পরে অন্য পরিচয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন সুবিধা বা নাগরিকত্ব পাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।

‘জানুস’ নামটি রোমান পুরাণের দুই-মুখী দেবতা জানুস থেকে নেওয়া হয়েছিল। একটি মুখ অতীতের দিকে এবং অন্যটি ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে থাকে পুরোনো রেকর্ডের দিকে ফিরে দেখা এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের প্রতারণা ঠেকানোর ধারণা থেকেই এই নামকরণ।

২০১১ সালে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বা ডিএইচএসের একটি অনুসন্ধানে দেখা যায়, ১৯৯০ সাল থেকে ডিপোর্টেশন বা অপসারণের চূড়ান্ত আদেশ পাওয়া, পলাতক বা অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় ৩ লাখ ১৫ হাজার মানুষের পুরোনো ফিঙ্গারপ্রিন্ট রেকর্ড ডিজিটাল সিস্টেমে ছিল না। ফলে তাদের পরবর্তী অভিবাসন আবেদনের সময় আগের পরিচয় বা অভিবাসন ইতিহাস শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছিল।

এই সমস্যার সমাধানে ২০১২ সালে কংগ্রেস ৫০ লাখ ডলার বরাদ্দ করে পুরোনো কাগজের ফিঙ্গারপ্রিন্ট রেকর্ড ডিজিটাল করার জন্য। আইসিই-নেতৃত্বাধীন এইচএফই প্রকল্পে প্রায় ১ লাখ ৬৭ হাজার পুরোনো ফিঙ্গারপ্রিন্ট রেকর্ড ডিজিটাল করা হয়। প্রায় ১ লাখ ৪৮ হাজার রেকর্ড তখনও ডিজিটাইজ করা সম্ভব হয়নি।

একই ব্যক্তি, একাধিক পরিচয়

পুরোনো রেকর্ড ডিজিটাল করার পর ডিএইচএস দেখতে পায়, কিছু ব্যক্তি আগের পরিচয়ে ডিপোর্টেশন বা অপসারণের আদেশ পাওয়ার পর অন্য পরিচয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন সুবিধা নিয়েছেন। ২০১৬ সালের ডিএইচএস অফিস অব ইন্সপেক্টর জেনারেলের প্রতিবেদনে এমন ১ হাজার ২৯ জন ন্যাচারালাইজড নাগরিককে শনাক্ত করা হয়, যাদের একাধিক পরিচয় ও পূর্বের চূড়ান্ত ডিপোর্টেশন আদেশের রেকর্ড ছিল। ওই ব্যক্তিদের মধ্যে ৮৫৮ জনের পুরোনো ফিঙ্গারপ্রিন্ট রেকর্ড তাদের নাগরিকত্ব পাওয়ার সময় ডিএইচএসের ডিজিটাল ব্যবস্থায় ছিল না।

২০১৭ সালের আরেকটি ডিএইচএস পর্যালোচনায় আরও বিস্তৃতভাবে ২ হাজার ৫৩৬ জনকে একাধিক পরিচয় ব্যবহারকারী হিসেবে শনাক্ত করা হয়। ডিএইচএসের আরেকটি পর্যালোচনায় দেখা যায়, বিভিন্ন ধরনের অভিবাসন সুবিধা পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে মোট ৯ হাজার ৩৮৯টি একাধিক-পরিচয় রেকর্ড ছিল; এসবের ৯০ শতাংশের মধ্যে ন্যাচারালাইজেশন, স্থায়ী বসবাসের অনুমতি, ওয়ার্ক অথরাইজেশন বা টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাসের মতো সুবিধা ছিল।

কীভাবে ধরা পড়ে ভিন্ন পরিচয়ের ঘটনা

সমস্যাটির কেন্দ্রে ছিল পুরোনো কাগজের ফিঙ্গারপ্রিন্ট রেকর্ড। আধুনিক ডিজিটাল বায়োমেট্রিক ব্যবস্থা চালুর আগে অভিবাসন কর্মকর্তারা কাগজে ফিঙ্গারপ্রিন্ট নিতেন। এসব রেকর্ডের সবগুলো পরবর্তীতে ডিজিটাল ডাটাবেসে যুক্ত হয়নি। ফলে কোনো ব্যক্তি আগের পরিচয় গোপন করে নতুন নামে অভিবাসন সুবিধা বা নাগরিকত্বের আবেদন করলে স্বয়ংক্রিয় ফিঙ্গারপ্রিন্ট যাচাইয়ের মাধ্যমে আগের রেকর্ড ধরা নাও পড়তে পারত।

ডিএইচএসের দুটি গুরুত্বপূর্ণ বায়োমেট্রিক ব্যবস্থা ছিল আইডেন্ট এবং এফবিআই-এর নেক্সট জেনারেশন আইডেন্টিফিকেশন বা এনজিআই। পুরোনো কাগজের রেকর্ড ডিজিটাইজ না হওয়া এবং অতীতে কিছু গ্রেপ্তার বা অভিবাসন-সংক্রান্ত রেকর্ড এফবিআই-এর ডাটাবেসে না পৌঁছানোর কারণে উভয় ব্যবস্থাতেই তথ্যের ঘাটতি ছিল বলে ওআইজি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

৩ লাখ ১৫ হাজার পুরোনো রেকর্ড

ডিএইচএস ওআইজি-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ সালে আইসিই এমন প্রায় ৩ লাখ ১৫ হাজার ব্যক্তিকে শনাক্ত করে, যাদের ১৯৯০ সাল থেকে চূড়ান্ত ডিপোর্টেশন আদেশ, অপরাধের সাজা বা পলাতক অবস্থার রেকর্ড ছিল, কিন্তু তাদের পুরোনো ফিঙ্গারপ্রিন্ট আইডেন্টে ডিজিটালভাবে সংরক্ষিত ছিল না।

এই সমস্যা সমাধানে ২০১২ সালে কংগ্রেস ৫০ লাখ ডলার বরাদ্দ করে। আইসিই-এর নেতৃত্বে শুরু হয় হিস্টোরিক্যাল ফিঙ্গারপ্রিন্ট এনরোলমেন্ট বা এইচএফই প্রকল্প। কর্মকর্তারা পুরোনো কাগজের ফিঙ্গারপ্রিন্ট কার্ড খুঁজে বের করে সেগুলো ডিজিটাল করে আইডেন্টে যুক্ত করার কাজ শুরু করেন।

প্রকল্পের অর্থ শেষ হয়ে যাওয়ার আগে প্রায় ১ লাখ ৬৭ হাজার ব্যক্তির রেকর্ড পর্যালোচনা ও ডিজিটাইজ করা হয়। কিন্তু প্রায় ১ লাখ ৪৮ হাজার রেকর্ড তখনও ডিজিটাল করা বাকি ছিল।

নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়ও উঠে আসে

ডিএইচএসের ২০১৬ সালের পর্যালোচনায় দেখা যায়, অপারেশন জানুসের মাধ্যমে শনাক্ত কিছু ন্যাচারালাইজড ব্যক্তি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, নিরাপত্তা-সংবেদনশীল কাজ বা বিশেষ নিরাপত্তা অনুমতিসম্পন্ন চাকরিতেও ছিলেন। কয়েকজন নিরাপত্তা-সংবেদনশীল কর্মক্ষেত্রের জন্য প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্রও পেয়েছিলেন।

তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, একাধিক পরিচয়ের রেকর্ড পাওয়া গেলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব বাতিল হয় না। সরকারকে আইনি প্রক্রিয়ায় দেখাতে হয় যে নাগরিকত্ব বেআইনিভাবে অর্জিত হয়েছিল বা নাগরিকত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন কিংবা ইচ্ছাকৃত মিথ্যা তথ্য দেওয়া হয়েছিল।

পাকিস্তানী নাগরিক মুর্তজা আলীর মামলা

এই পুরোনো বায়োমেট্রিক যাচাইয়ের সঙ্গে ২০২৬ সালের নতুন ডিন্যাচারালাইজেশন উদ্যোগের সম্পর্ক বোঝাতে ৬৫ বছর বয়সী পাকিস্তানি নাগরিক মুর্তজা আলীর মামলা একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের অভিযোগ অনুযায়ী, আলী বিভিন্ন নামে একাধিক অভিবাসন সুবিধার আবেদন করেছিলেন। পরে ‘মুহাম্মদ ইকবাল’ নাম ব্যবহার করে তিনি একটি অভিবাসন সুবিধা পান, সেই পরিচয়ে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি অর্জন করেন এবং ২০০৯ সালে একই নামে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব নেন।

পরবর্তীতে ফিঙ্গারপ্রিন্ট বিশেষজ্ঞরা দেখতে পান, ‘মুর্তজা আলী’ এবং ‘মুহাম্মদ ইকবাল’ নামে দাখিল করা ফিঙ্গারপ্রিন্ট একই ব্যক্তির। এরপর তাকে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সংস্থার কাছে মিথ্যা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেওয়ার অভিযোগে ১৮ ইউএসসি ধারা ১০০১-এর অধীনে অভিযুক্ত করা হয়। ২০১৪ সালে আলী অভিযোগ স্বীকার করে দোষী সাব্যস্ত হন। তিনি স্বীকার করেন যে তিনটি ভিন্ন পরিচয় ব্যবহার করে তিনটি পৃথক অভিবাসন সুবিধার আবেদন করেছিলেন।

এরপর ১৪ জুলাই ২০২৬ যুক্তরাষ্ট্র সরকার টেক্সাসের নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্ট ফেডারেল আদালতে তার বিরুদ্ধে চারটি ভিত্তিতে ডিন্যাচারালাইজেশন মামলা দায়ের করে। সরকারের অভিযোগ হলো, আলী অভিবাসন জালিয়াতি, তার নৈতিক চরিত্রের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এমন বেআইনি কর্মকাণ্ড, ন্যাচারালাইজেশন প্রক্রিয়ায় শপথের অধীনে মিথ্যা বক্তব্য এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন ও ইচ্ছাকৃত ভুল তথ্য দেওয়ার মাধ্যমে নাগরিকত্ব অর্জন করেছেন।এখানে মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণযে এসব অভিযোগ সরকারের মামলার বক্তব্য; আদালতের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলো প্রমাণিত বলে ধরে নেওয়া যায় না।

ডিন্যাচারালাইজেশনের প্রধান আইন

ডিন্যাচারালাইজেশনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আইনি ভিত্তিগুলোর একটি হলো ৮ ইউএসসি ধারা ১৪৫১। এই আইনের ১৪৫১(এ) অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির ন্যাচারালাইজেশন যদি বেআইনিভাবে অর্জিত হয় অথবা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন বা ইচ্ছাকৃত মিথ্যা তথ্যের মাধ্যমে অর্জিত হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র সরকার ফেডারেল আদালতে নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা করতে পারে।

আইন অনুযায়ী, নাগরিকত্ব বাতিলের প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আদালতের মাধ্যমে নোটিশ দেওয়ার বিধান রয়েছে এবং সাধারণত তাকে নিজের পক্ষে জবাব দেওয়ার সুযোগ দিতে হয়। আদালত নাগরিকত্ব বাতিল করলে ন্যাচারালাইজেশন সার্টিফিকেটও বাতিল করা হয়।

আইনের ১৪৫১(ই) আরও বলে, কোনো ব্যক্তি যদি ১৮ ইউএসসি ধারা ১৪২৫-এর অধীনে বেআইনিভাবে নাগরিকত্ব অর্জনের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন, তাহলে সংশ্লিষ্ট আদালত তার ন্যাচারালাইজেশন বাতিল করতে পারে।

নাগরিকত্ব বাতিল মানেই সব ক্ষেত্রে একই ফল নয়

ডিন্যাচারালাইজেশনের পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভবিষ্যৎ অভিবাসন অবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ব্যক্তি যদি নাগরিকত্ব পাওয়ার আগে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা বা গ্রিন কার্ডধারী হিসেবে বৈধ অবস্থায় থাকেন, তাহলে কিছু ক্ষেত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের পর তার আগের অভিবাসন অবস্থার প্রশ্ন উঠতে পারে। অন্যদিকে যদি নাগরিকত্ব পাওয়ার মূল ভিত্তিই প্রতারণামূলক পরিচয় বা অবৈধ অভিবাসন সুবিধা হয়ে থাকে, তাহলে তার বৈধ অভিবাসন মর্যাদা নাও থাকতে পারে এবং ডিপোর্টেশনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

আইন এমন পরিস্থিতিও বিবেচনা করে যেখানে কোনো ব্যক্তির স্থায়ী বসবাসের অনুমতিই ভুল তথ্যের ভিত্তিতে পাওয়া হয়েছিল এবং পরে তা বাতিল করা হয়েছে। এমন ক্ষেত্রে ন্যাচারালাইজেশনও ৮ ইউএসসি ধারা ১৪৫১-এর আওতায় পর্যালোচনার মুখে পড়তে পারে।

সুপ্রিম কোর্টের গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড

ডিন্যাচারালাইজেশন শুধু সরকারের অভিযোগের ভিত্তিতে হওয়ার কথা নয়। সুপ্রিম কোর্টের পুরোনো রায়গুলোও সরকারের প্রমাণের মানদণ্ড নির্ধারণ করেছে। কুনগিস বনাম যুক্তরাষ্ট্র মামলায় আদালত ৮ ইউএসসি ১৪৫১(এ)-এর অধীনে বেআইনিভাবে অর্জিত নাগরিকত্ব এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন বা ইচ্ছাকৃত ভুল তথ্যের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব বাতিলের আইনি কাঠামো ব্যাখ্যা করেছে। অন্যদিকে, অপরাধমূলক ডিন্যাচারালাইজেশন মামলায় সরকারের জন্য প্রমাণের মান আরও কঠোর। ফলে বাস্তবে অধিকাংশ ডিন্যাচারালাইজেশন মামলা দেওয়ানি প্রক্রিয়ায় পরিচালিত হয়।

ট্রাম্প প্রশাসনে নতুন করে গতি

বাইডেন প্রশাসনের সময় ডিন্যাচারালাইজেশন মামলা বছরে গড়ে চারটিরও কম ছিল। ২০২৫ সালে দ্বিতীয় ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম বছরে মোট আটটি মামলা হয়। কিন্তু ২০২৬ সালের মে মাস থেকে সংখ্যাটি দ্রুত বেড়ে যায়। এই বৃদ্ধির সঙ্গে বিচার বিভাগের ডিন্যাচারালাইজেশনকে দেওয়ানি আইন প্রয়োগের অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করা এবং পুরোনো ফিঙ্গারপ্রিন্ট রেকর্ড পর্যালোচনা পুনরায় সক্রিয় হওয়ার সম্পর্ক রয়েছে বলে টিআরএসি মনে করছে।

জুন ২০২৬-এ দায়ের করা তিনটি মামলায় ফিঙ্গারপ্রিন্ট বিশ্লেষণের মাধ্যমে একই ব্যক্তিকে অতীতে ভিন্ন পরিচয়ে অভিবাসন সুবিধার আবেদনকারী হিসেবে শনাক্ত করার অভিযোগ রয়েছে। এই প্রবণতা থেকে টিআরএসি ধারণা করছে, পুরোনো এইচএফই রেকর্ড পর্যালোচনা কার্যক্রম আবার সক্রিয় হয়েছে।

সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালের ডিন্যাচারালাইজেশন তৎপরতা যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় পুরোনো পরিচয় ও বায়োমেট্রিক রেকর্ড পুনরায় যাচাইয়ের একটি নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ‘অপারেশন জানুস’ ও পরবর্তী হিস্টোরিক্যাল ফিঙ্গারপ্রিন্ট এনরোলমেন্ট প্রকল্পে সংগৃহীত তথ্য এখন নতুন করে পর্যালোচনার আওতায় আসায় অতীতে ভিন্ন পরিচয় ব্যবহার, অভিবাসন জালিয়াতি বা নাগরিকত্ব আবেদনে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপনের অভিযোগে আরও মামলা সামনে আসতে পারে।

টিআরএসি’র তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মে ও জুনে ডিন্যাচারালাইজেশন মামলার আকস্মিক বৃদ্ধি এই কার্যক্রমের গতি বাড়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত। তবে শুধু পুরোনো রেকর্ডে একাধিক পরিচয় পাওয়া গেলেই নাগরিকত্ব স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয় না। সরকারকে ফেডারেল আদালতে প্রমাণ করতে হবে যে নাগরিকত্ব বেআইনিভাবে অর্জিত হয়েছিল অথবা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন কিংবা ইচ্ছাকৃত ভুল তথ্যের মাধ্যমে ন্যাচারালাইজেশন সম্পন্ন করা হয়েছিল।

ট্রাম্প প্রশাসন ডিন্যাচারালাইজেশনকে দেওয়ানি আইন প্রয়োগের অগ্রাধিকার হিসেবে নেওয়ায় আগামী মাসগুলোতে মামলার সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে পুরোনো ফিঙ্গারপ্রিন্ট রেকর্ডের সঙ্গে বর্তমান পরিচয় ও অভিবাসন নথি মিলিয়ে দেখার প্রক্রিয়া জোরদার হলে বহু বছর আগে নাগরিকত্ব নেওয়া ব্যক্তিদেরও সরকারি পর্যালোচনার মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে প্রতিটি মামলা পৃথকভাবে আদালতে বিচার হবে এবং অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।

শেয়ার করুন