১৯ অগাস্ট ২০২৬, বুধবার, ০৬:৬:৪২ অপরাহ্ন


ঢাকার শক্ত অবস্থানের কারণে আ.লীগের চাঙ্গাভাবে ভাটা
সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ
  • আপডেট করা হয়েছে : ১৯-০৮-২০২৬
ঢাকার শক্ত অবস্থানের কারণে আ.লীগের চাঙ্গাভাবে ভাটা


কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে চাঙ্গাভাবে হঠাৎ ভাটা পড়েছে। জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের বিষয়টি নিয়ে এখনো পর্যন্ত ইতিবাচক খবর না পাওয়ায় আ.লীগ শিবিরে বিভিন্ন ধরনের উদ্বেগ-উৎকন্ঠা বিরাজ করছে। এর পাশাপাশি পারিপাশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিও তাদের ভাবাচ্ছে। 

কি কারণে এতোদিন চাঙ্গা?

ভারতের ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়া (এফসিসি) সম্প্রতি এক ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের পরে দেশে বিদেশে আ.লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে বেশ চাঙ্গা ভাব লক্ষ্য করা গেছে। কেননা ওই অনুষ্ঠানে বেশ দৃঢ়তার সাথে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আভাস দেন যে, তিনি আগামী জাতীয় নির্বাচন, দলীয় কার্যক্রমে অংশ নিতে চান। তিনি আইনি লড়াই ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দেশে ফিরে আসার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এদিকে দলের সভাপতির এই বক্তব্যে দেশে বিদেশে সহজ সরল নেতাকর্মীরা অতি সহজেই বিশ্বাস করে ফেলেছেন যে, তাদের নেত্রী ডিসেম্বরের বাংলাদেশের মাটিতে ফিরে আসছেন। এর পাশাপাশি আ.লীগ আবার ক্ষমতায় আসার প্রেক্ষাপট তৈরি হচ্ছে। 

সেই চাঙ্গা ভাবে এখন যে কারণে ভাটা

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভারতের ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়া (এফসিসি) এই ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনার বক্তব্যের পরে হুট করে দেশে বিদেশে আ.লীগ বেশ চাঙ্গা ভাবটি এখন আর দেখা যাচ্ছে না। কেননা ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়া (এফসিসি) তে শেখ হাসিনার বক্তব্যের পর প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমানের সরকারের শক্ত প্রতিক্রিয়া ভারতকে যেমন বেকায়দায় ফেলেছে, তেমনি দেশে বিদেশে আ.লীগ নেতাকর্মীদেরও মধ্যে উদ্বেগ উৎকন্ঠা দেখা দিযেছে। কেননা খবর বেরিয়েছে যে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের আগে গত১৬ আগস্ট রোববার ঢাকা থেকে কিছু শর্তের কথা বলা হয়েছে। ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে এগুলোকে কঠিন শর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে-শেখ হাসিনা ও অন্যান্য পলাতক অপরাধী ব্যক্তিদের প্রত্যর্পণের বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া এবং তারেক রহমানের সফরের জন্য একটি ‘সহায়ক পরিবেশ’ তৈরি করতে সহায়তা করা। যদিও বলা হচ্ছে যে, ব্রিকস সম্মেলন এবং দ্বিপক্ষীয় সফর-দুই ক্ষেত্রেই তারেক রহমানকে দেওয়া আমন্ত্রণ বহাল রয়েছে।

উল্লেখ্য, ভারত ২১ আগস্টকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরের সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে প্রস্তাব করেছিল বলে গণমাধ্যমের খবর বলা হয়। আর নয়াদিল্লিতে আগামী ১২-১৩ সেপ্টেম্বর ব্রিকস সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর জোট ব্রিকসের ওই সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন নরে›ন্দ্র মোদি। বলা হয় যে, এখন সফরের সময় নির্ধারণের বিষয়টি ঢাকার সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। জানা গছে তারেক রহমান সরকারের এমন অবস্থানে স্বস্তিতে নেই আ.লীগ। এব্যাপারে আ.লীগের বেশ কয়েকজন নেতা সাথে দেশ প্রতিনিধি কথা বলেছেন। তারা সঙ্গতকারণে নাম না প্রকাশ করার শর্তে জানিয়েছেন যে এই ধরনের পরিস্থিতিতে তাদের জন্য সত্যিই বিভিন্ন দিক থেকেই আতঙ্কের ও উদ্বেগের বিষয়। তাদের অভিমত যে কোনো কারণেই হোক না কেনো ভারত হয়তবা শেখ হাসিনাকে এখনই ফেরত দেবে না, বা ভবিষ্যতেও দেবে কি-না সে ব্যাপারেও তারা সন্দিহান। কিন্তু বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এই ধরনের শক্ত প্রতিবাদ ভারত সৌজন্যের খাতিরেও বেশ গুরুত্ব দেবে। ইতোমধ্যে শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠোনোর ব্যাপারে তারা একধরনের জটিলটার বিষয়টিও তুলে ধরেছে। এত বলা হয়েছে যে, শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধের বিষয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ প্রযোজ্য আইন ও প্রচলিত আইনগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে জানা গেলো যে, ভারত আরও জানিয়েছে যে, এ ধরনের প্রত্যার্পণ অনুরোধ ভারতীয় বিচার বিভাগের সামনে উপস্থাপন করতে হবে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতই নেবে। তবে আ.লীগ নেতাকর্মীদের আশঙ্কা ভারতের ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়া (এফসিসি) এই ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনার বক্তব্যের পর ঢাকা শক্ত অবস্থান বড়ো ধরনের বিপত্তি বাধাবে। তাদের আশঙ্কা সামনের দিনে সার্বিক ভূ-রাজনৈতিক ও ভারতের ভেতরে বিভিন্ন ধরনের অস্থিরতায় আপাতত প্রতিবেশী দেশটির প্রতি সর্তক দৃষ্টিই নয় আরও অনেক কিছু সামলাতে হচ্ছে। কেননা একদিকে বিশ্বের ১৫১টি দেশের প্রধান বাণিজ্য অংশীদার চীন, অন্যদিকে আছে সাম্প্রতিক মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি। 

এটি এবছরের ৭ আগস্ট সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি ত্রিপক্ষীয় সামরিক সমঝোতা, যা ভারতকে উদ্বেগের মধ্যে রেখেছে। অন্যদিকে সৌদি আরবের নেতৃত্বে ১৪টি দেশের সমন্বয়ে গঠিত বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোটে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়াও ভারতকে ভাবাচ্ছে। সর্বোপরি কারো কারো মতে, বাংলাদেশ এখন কার্যত মার্কিন বলয়ে রয়েছে। সেক্ষেত্রে ভারত কতটা সদ্য পতিত সরকারের প্রধান শেখ হাসিনাকে নিয়ে মাথা ঘামাবে-এই বিষয়ে আ.লীগের থিংক ট্যাঙ্কদের চিন্তা আছে। ফলে এসব বিষয়গুলির দিকে লক্ষ্য করলে ভারত সামনের দিনে কতটা আ.লীগ কিংবা শেখ হাসিনাকে গুরুত্ব দেবে সে বিষয়টিও অনেক এখন ভাবাচ্ছে। আর এসব কারণের পাশাপাশি তারেক রহমানের সরকারের শক্ত অবস্থান আ.লীগকে ভাবাচ্ছে, তাদের মধ্যে আগের সে-ই চাঙ্গা ভাবেও ভাটা পড়া শুরু করছে বলে কারো কারো অভিমত। কারো কারো মতে, ভারত শেখ হাসিনাকে ফেরত না দিলেও আপাতত ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনের পাশাপাশি তাকে অন্য কোনো সুযোগ সুবিধা বাতিল করে দেয় কি-না সে বিষয়টাও ভাবাচ্ছে আ’লীগ নেতাদের।

শেয়ার করুন