১৯ অগাস্ট ২০২৬, বুধবার, ০৬:৬:৪৮ অপরাহ্ন


ওবায়দুল কাদেরসহ সাত নেতার বিরুদ্ধে মামলার রায়ের অপেক্ষা
বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট করা হয়েছে : ১৯-০৮-২০২৬
ওবায়দুল কাদেরসহ সাত নেতার বিরুদ্ধে মামলার রায়ের অপেক্ষা ওবায়দুল কাদের


বেশ কিছুদিন থেকেই বাংলাদেশে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের দেশে ফেরার প্রসঙ্গে তোলপাড়। জুলাই আন্দোলনের এক মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। ফলে দেশে ফিরলে শেখ হাসিনার অবস্থা কী হবে এ নিয়ে অনেক আলোচনা। এরই মধ্যে দলটির শীর্ষ সাতজন যার মধ্যে রয়েছেনÑসাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও। এদের বিরুদ্ধে অনুরুপ এক মামলার রায় এখণ অপেক্ষমান। যে কোনো মুহূর্তে আসতে পারে ওই রায়। রায় কী হবে সেটা অনুমান করা না গেলেও এদেরও সর্বোচ্চ শাস্তি হতেও পারে। ফলে সব মিলিয়ে শেখ হাসিনার প্রত্যার্বতন নিয়ে কিছুটা চাঙ্গা হওয়া দেশে থাকা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে চিন্তার ভাজ পড়ে গেছে। 

এ শীর্ষ সাত নেতারও যদি বড় ধরনের কোনো শাস্তি হয়, সেটাতে দল টানাপড়েনের মধ্যে পরে যাবে। কেননা, যে কোনো শাস্তি হওয়া মানে পলাতক অবস্থায় দেশে ফেরার পর আইনি জটিলতায় পড়ে যেতে হয়। ফলে দল গোছানোর চেয়ে তার ওই মামলার বিষয়গুলো সুরাহা করতেই দিন, মাস, বছর পার। আর যদি সর্বোচ্চ শাস্তি হয়ে বসে তাহলে এসব নেতা দেশেই ফিরবেন কি না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়াবে। সব মিলিয়ে ওই রায়ের দিকে তাকিয়ে আওয়ামী লীগ। 

এদিকে খবরে প্রকাশ চব্বিশের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচার প্রক্রিয়ায় এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় তৈরি হয়েছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজন পলাতক আসামির মামলার রায় যেকোনো দিন ঘোষণা করা হতে পারে। উভয়পক্ষের দীর্ঘ শুনানি ও যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে গত সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ প্রদান করেন।

বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। চাঞ্চল্যকর এই মামলার আইনি লড়াইয়ে প্রসিকিউশন পক্ষের হয়ে জোরালো যুক্তি উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। অন্যদিকে আসামিপক্ষে আইনি লড়াইয়ে অংশ নেন অ্যাডভোকেট এম হাসান ইমাম এবং ইশরাত জাহান।

এ মামলার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা পলাতক সাত আসামির তালিকায় ওবায়দুল কাদের ছাড়াও রয়েছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।

জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনে রাষ্ট্রপক্ষ এসব আসামির বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে তথ্যপ্রমাণ ও আইনি দলিল পেশ করে। উভয়পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিখণ্ডন ও শুনানির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর ট্রাইব্যুনাল যেকোনো দিন রায় দেওয়ার দিন ধার্য করায় এখন সবার নজর উচ্চ আদালতের এ ঐতিহাসিক রায়ের দিকে। রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সচেতন মহলে এ মামলার রায় এক বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। 

শেয়ার করুন