০৬ অগাস্ট ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০৩:২৭:৫৩ পূর্বাহ্ন


ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মারামারিতে হাসপাতালে ১, গ্রেফতার ১
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৫-০৮-২০২৬
ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মারামারিতে হাসপাতালে ১, গ্রেফতার ১ গ্রেফতার করা হয় জাকির হোসেনকে


নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের আয়োজিত শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতি- মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে একজনকে নিউইয়র্ক পুলিশ গ্রেফতার করে এবং আর একজন রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। জানা গেছে, দুই জনই নব গঠিত যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং দুই জনের বাড়িও বৃহত্তর নোয়াখালি জেলায়। মারামারিতে আহত হয়েছে শিহাব মাহমুদ এবং গ্রেফতার করা হয়েছে জাকির হোসেনকে।

ক্ষমতার দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান সমর্থক ও তার বিদ্রোহী গ্রুপের মধ্য এই অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার পিছনে ড. সিদ্দিকুর রহমানের ইন্ধন আছে বলে অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী গ্রুপের কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নেতা। এই ঘটনার শুরু হয় মহানগর আওয়ামী লীগের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান স্থল থেকে। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ সংগঠনের মধ্যে গ্রুপিং নতুন নয়। আর এই গ্রুপের সুযোগ নেয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। তারা দলের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি করে এবং এক গ্রুপকে অন্য গ্রুপের বিরুদ্ধে লেলিয় দেয়। গত কয়েকটি অনুষ্ঠান থেকেই যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দেয়া হয়। বিশেষ করে তিনি যখন অনাকাঙ্খিতভাবে অনুষ্ঠানে প্রবেশ করেন। তাকে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয় না কিন্তু তিনি ঠিকই তার গ্রুপ নিয়ে অনুষ্ঠানে যান। ঐদিন গত ৩ আগস্ট সন্ধ্যায় তিনি নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের অনুষ্ঠানে যান। তার পক্ষে ছিলো যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রলীগের নব কমিটির কয়েকজন সদস্য আবার মাহমুদুল হাসান ও হৃদয় মিয়ার নেতৃত্বে ছিলো আরেকটি অংশ। অনুষ্ঠানের মধ্যে কথা কাটাকাটি। একপর্যায়ে মারামারি, হাতাহাতি এবং রাস্তার কৌন দিয়ে মাথায় আঘাত। মারামারি নবান্ন অডিটোরিয়ামের নিচ তলা থেকে ৭৩ স্ট্রিটের রাস্তায় চলে আসে। দুই গ্রুপের মারামারির সময় জাকির হোসেন কৌন দিয়ে শিহাব মাহমুদের মাথায় আঘাত করেন। এতে শিহাব মাহমুদের মাথা থেকে রক্ত বের হয়। কে বা কারা পুলিশ কল দিলে সাথে সাথেই পুলিশ আসে। পুরো এলাকা পুলিশ ঘিরে ফেলে। পুলিশ এসে জাতির হোসেনকে গ্রেফতার করে অন্যদিকে শিহাব মাহমুদকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। যে কৌন দিয়ে শিহাব মাহমুদকে জাকির আঘাত করে সেই কৌন পুলিশ উদ্ধার করে নিয়ে যায়। পুলিশ শিহাব মাহমুদের স্টেটমেন্ট এবং মাথার অবস্থা দেখে জাকির হোসেনকে গ্রেফতার করে।

এই ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজদ স্থানীয় প্রিসেক্টে গিয়েছিলেন। কিন্তু জাকির হোসেনকে আনতে পারেননি। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ৪ আগস্ট সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত জাকির হোসেনের জামিন হয়নি। জানা গেছে, তাকে কোর্টে তোলা হবে।

 এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের আয়োজিত শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে আগত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মাঝে এক অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটে ফলে একজনকে চিকিৎসার জন্য হসপিটালে পাঠানো হয় এবং অন্যজনকে নিউইয়র্ক পুলিশ গ্রেফতার করে পুলিশ স্টেশন নিয়ে যায়।

তিনি বিবৃতিতে বলেন, ঘটনার সময় যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ ও আমি বিল্ডিং এর নিচতালা মূল সমাবেশ স্থলে ছিলাম। খবর পেয়ে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হৃদয় মিয়া ও ছাত্রলীগের দুজন সহ ঘটনাস্থলে প্রথম পুলিশের নিকট থেকে, পরে পুলিশ স্টেশন গিয়ে গ্রেপ্তারকৃত ছাত্রলীগের ভাইকে রিলিজ করার চেষ্টা করি। কিন্ত ফলাফল আমাদের পক্ষে আনতে পারিনি। আগামীকাল (৪ আগস্ট) পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে রিলিজের জন্য। ছাত্রলীগের সকল নেতাকর্মীদের শান্ত ও ধৈর্য্য ধারণের আহ্বান জানাচ্ছি যাতে পরিস্থিতির আর অবণতি না ঘটে।

এ অনাকাঙ্খিত ঘটনায় যারা জড়িত তদন্ত করে দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি ক্ষোভের সাথে বলেন, আমরা থানায় গিয়েছি, অন্যরা এখানে সভা করছেন। আমাদের নেত্রী দেশের বাইরে এবং ছাত্রলীগের একজন নেতাকে থানায় নিয়ে গেল কিন্তু তাদের মধ্যে কোন বিকার নেই। এই গুলো হলো দলের মধ্যে গুপ্ত বাহিনী। তিনি বলেন, কতগুলো বদমায়েশ বলে, নো মোর সিদ্দিক? কিন্তু এরা কারা? এইরাই গুপ্ত।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রলীগের সভাপতি হাসান মাহমুদ এবং সাধারণ সম্পাদক হৃদয় মিয়া বলেন, বহিরাগত একটি অংশ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটিয়েছে। কেউ কেউ প্রশ্ন করেছেন, এরা বাহিরাগত কীভাবে? এরা দুইজনতো তাদের কমিটিরই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। শাক দিয়ে কী মাছ ঢাকা সম্ভব? মিথ্যা বলে আসল ঘটনা না লুকিয়ে নিজেদের মধ্যে সমঝোতা করাই শ্রেয় বলে অনেকে মন্তব্য করেছেন।

শেয়ার করুন