০৯ জুলাই ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ৬:০৫:১১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
অপহরণ ও নির্যাতন : লুবনা দুই অপহরণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত নিউইয়র্কে ১ হাজার ২৫০ কিউনি শিক্ষার্থীর জন্য বিনামূল্যে অমনি কার্ড পাইলট কর্মসূচি মসজিদে ইসলামবিরোধী ও প্রাণনাশের হুমকিতে এক ব্যক্তি অভিযুক্ত সুলতানা রাজিয়া ও সৈয়দ রুবেল অপহরণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০ বছর উদযাপনে ধর্মীয় ইতিহাস ঘিরে বিতর্ক দুর্বৃত্তের অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত নর্থ ইস্ট ফিলাডেলফিয়া ইসলামিক সেন্টার ওজনপার্কের বৈঠকখানা রেস্টুরেন্টে হাতবোমা নিক্ষেপ নিউইয়র্কে আইনশৃঙ্খলার উন্নয়নে ১০০ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ ঘোষণা কঠোর অভিবাসন নীতিতে বিপাকে মার্কিন নাগরিকদের বিদেশি স্বামী-স্ত্রী আগাম বন্যার পদধ্বনি, আশঙ্কার ছায়া চট্টগ্রাম-সিলেটে


জ্বালানি সংকট : শুধু কথায় চিড়ে ভিজে না
সালেক সুফী
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৮-০৭-২০২৬
জ্বালানি সংকট : শুধু কথায় চিড়ে ভিজে না


দেখতে দেখতে চার মাস শেষ হয়েছে বিএনপি জোট সরকারের। বিশ্ব পরিস্থিতি আর অভ্যন্তরীণ নানা কারণে দেশে বিরাজ করছে তীব্র জ্বালানি সংকট। দেশের প্রমাণিত গ্যাস সম্পদ দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। নিজেদের জ্বালানি সম্পদ আহরণ আর ব্যবহার বিষয়ে ভ্রান্ত সিদ্ধান্তের কারণে দেশ বিক্ষুদ্ধ বিশ্ব জ্বালানি বাজার থেকে অধিক থেকে অধিকতর জ্বালানি আমদানির চ্যালেঞ্জ মেটাতে লেজে গোবরে অবস্থায় আছে। না আছে পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রা, না আছে জানালো আমদানির জন্য উপযোগী অবকাঠামো। চার মাস হয়ে গেলেও প্রমাণ কয়লা উত্তোলন বিষয়ে সরকারের উদ্যোগ দৃশ্যমান হচ্ছে না। সরকারের মন্ত্রী সাংসদরা বিগত সরকারের জ্বালানি বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে বাগাড়ম্বর করে শ্রুতিমধুর কথা বললেও আওয়ামী লীগ সরকারের গৃহীত কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা ছাড়া নতুন কিছুই করছে না। জ্বালানি বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় চলছে আমলাদের নিয়ন্ত্রণ।

 পেট্রোবাংলার মতো গুরুত্বপূর্ণ সংস্থায় দুই মাস হলো চেয়ারম্যান পদে স্থায়ীভাবে কাউকে পদায়ন করা হয়নি। নিকট অতীতে গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি সংস্থায় একের পর অকারিগরি আমলাদের পদায়ন করে সংস্থাটির কারিগরি বুনিয়াদ ভেঙে ফেলা হয়েছে। পেট্রোবাংলা চেয়ারম্যানকে অবশ্যই জ্বালানি সরবরাহ চেন বিষয়ে সাম্মক ধারণা থাকতে হবে। আর যেহেতু বাংলাদেশ এখন জ্বালানি আমদানির উপর নির্ভরশীল তাই জ্বালানির বিশ্ববাজার বিষয়ে সম্মক ধারণা থাকতে হবে। জ্বালানি মূল্য নির্ধারণ এবং বিদেশি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে চুক্তি বিষয়ে অভিজ্ঞতা প্রয়োজন আছে। কেন বাংলাদেশ পেট্রোবাংলার মতো সংস্থায় জ্বালানি বিষয়ে অভিজ্ঞ পেশাদার কারিগরি কর্মকর্তাদের পদায়ন করতে পারে না। ভূতপূর্ব সরকারের দেখানো ভুল পথেই হাঁটছে সরকার।

বর্তমানে বাপেক্স সীমিত সামর্থ নিয়ে যথেষ্ট ভালো কাজ করছে। বাপেক্সকে প্রণোদনা দিয়ে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়ার জন্য পেট্রোবাংলায় প্রয়োজন একজন দক্ষ, অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্বসম্পন্ন চেয়ারম্যান। অচিরেই হয়তো একসন মোবিল, টোটাল, পেট্রোনাসের মতো কোম্পানির সঙ্গে পিএসসি সম্পাদন এবং ব্যবস্থাপনা করতে হবে। পেট্রোবাংলা যেহেতু জ্বালানি অনুসন্ধান, আহরণ, বিতরণ এবং বিপণনের মুখ্য সংস্থা। তাই পরামর্শ দেবো সচিব পদমর্যাদার দক্ষ ব্যক্তিকে অবিলম্বে পেট্রোবাংলায় দেওয়ার। 

এ মুহূর্তে জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য স্বশাসিত শক্তিশালী পেট্রোবাংলার গুরুত্ব অপরিসীম। শুধু জ্বালানি অনুসন্ধান, আহরণ নয় সঞ্চালন, বিতরণ এবং বিপণন ব্যবস্থাপনায় আধুনিকায়ন প্রয়োজন। বিগত সরকার ভ্রান্ত কৌশলে পেট্রোবাংলাকে দুর্বল রেখে বিশেষ সিন্ডিকেটদের মনিপুলেশনের সুযোগ দিয়েছে। দুঃখের বিষয় বর্তমান সরকার সে পথে হাঁটছে।

এনার্জি ট্রানজিশন বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা প্রশংসনীয়। কিন্তু সে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সরকারি সংস্থায় (স্রেডা) ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন। স্রেডার প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং দক্ষতা বৃদ্ধি করে বেসরকারি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে নিবিড় সম্পৃক্ততায় কাজের ব্যবস্থা করা না হলে সবুজ জ্বালানির পরিকল্পনা মুখ থুবড়ে পড়তে পারে। বাংলাদেশ চাইলেই ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার মেগাওয়াট সবুজ বিদ্যুৎ স্বল্পসময়ে উৎপাদন বা ব্যবহার করতে পারবে না। এর সঙ্গে নানা আনুষঙ্গিক কারিগরি, অর্থনৈতিক এবং ব্যবস্থাপনা চ্যালেঞ্জ জড়িত আছে। অতীতের মতো পান্ডোরা বক্স খুলে দেওয়া হলে হিতে বিপরীত হবে। 

বাংলাদেশের যতটুকু গ্যাস, কয়লাসম্পদ আছে সেটি উন্নত পদ্ধতিতে অনুসন্ধান এবং আহরণের পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণে চৌকষ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। সরকারের মন্ত্রীরা যেভাবে কথা বলছেন বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। অনেকেই প্রশ্ন করতে পারে সদ্য অনুমোদিত বাজেটে কি জ্বালানি খাতে পর্যাপ্ত বরাদ্দ আছে? পূর্ববর্তী সরকার সূচিত পরিকল্পনায় গ্যাস অনুসন্ধান চলছে। নতুন করে সাগরে পিএসসি বিডিং আহ্বান করা হয়েছে। আশা করবো পেট্রোবাংলার দক্ষতা বৃদ্ধি করে আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর সঙ্গে উইন উইন চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। আমরা জানতে চাই দেশের কয়লা সম্পদ আদৌ উত্তোলন করা হবে কি না। অন্তত ৪০ দেশের জ্বালানি ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা নিয়ে বলছি বাংলাদেশ একমাত্র দেশ যারা দুই দশকের বেশি সময় ধরে প্রমাণিত গ্যাস সম্পদ মাটির নিচে ফেলে রেখেছে।

২০২৬ শেষ পর্যায়ে পৌঁছানোর পর কিন্তু নতুন এসে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চ্যালেঞ্জ অথবা পূর্ববর্তী সরকারের ওপর দায় চাপানো যাবে না সচেতন মোহন জ্বালায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় কোনো মৌলিক পার্থক্য দেখতে পাচ্ছে না। এ ধারায় চললে সরকারের বিরুদ্ধে জনরোষ সৃষ্টি হবে। আরেকটি মহল সুযোগের অপেক্ষায় আছে সরকারকে বিব্রত করতে। সরকার হয়তো জ্বালানি বিদ্যুৎ সংকটের ব্যপ্তি বা গভীরতা অনুধাবন করতে পারছে না।

গ্রামে শহরে ব্যাপক লোডশেডিং হচ্ছে। সরকার বলে সব বিষয়ে তাদের ব্যাপক হোমওয়ার্ক ছিল। থাকলে চার মাস সময়ে অন্তত প্রয়োজনীয় ন্যূনতম সংস্কার দৃশ্যমান হতো। জ্বালানি বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা কিছুটা হলেও উন্নতি দেখা যেত, তাই বলছি শুধু কথায় চিড়ে ভেজে না। চকচক করা সব কিছুই সোনা হয় না।

অবিলম্বে পেট্রোবাংলা, জ্বালানির কোম্পানিসমূহে প্রয়োজনীয় সংস্কার, পরিচালনা বোর্ডগুলো কার্যকর অর্থে পুনর্গঠন করে যুদ্ধ প্রস্তুতি নিয়েই জ্বালানি সংকট মোকাবিলা করতে হবে।

শেয়ার করুন