২২ এপ্রিল ২০২৬, বুধবার, ০৫:৪৫:২৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
অবৈধ ট্যারিফ ফেরতের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে নতুন পোর্টাল চালু হার্ভার্ডে ঈদ উদযাপনের পোস্টকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক মার্কিন কংগ্রেসে লড়ছেন বাংলাদেশি আমেরিকান সিনেটর সাদ্দাম সেলিম মদ্যপানের খবরে দ্য আটলান্টিকের বিরুদ্ধে ২৫০ মিলিয়ন ডলারের মামলা কাশ প্যাটেলের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির ৩৬ প্রার্থীর কারা পেলেন মনোনয়ন উজ্জীবিত নববর্ষ উদযাপন যে বার্তা দিয়ে গেল ২০২৬ সালের নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে ১৬ মিলিয়ন অভিবাসী ভোটার আইএমএফ’র শর্তের নেপথ্যে রাজনীতি না অন্যকিছু জুলাই সনদ বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতি দিলেও ‘কিছু রাজনৈতিক দল’ জনগণকে বিভ্রান্ত করছে - তারেক রহমান মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার পেলেন সেই শিক্ষিকা মাহেরীন চৌধুরী


জ্বালানি সংকট মোকাবিলার যা করণীয়
সালেক সুফী
  • আপডেট করা হয়েছে : ২২-০৪-২০২৬
জ্বালানি সংকট মোকাবিলার যা করণীয়


নিজেদের জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় আনাড়িপনার কারণে বিএনপি জোট সরকার জ্বালানি পরিস্থিতি লেজে গোবরে করে ফেলেছে। সঙ্কট কাটিয়ে নির্ভরযোগ্য এবং স্থায়ী জ্বালানি নিরাপত্তা সৃষ্টির জন্য সরকারকে অবিলম্বে স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করে উপযোগী পথ নকশা গ্রহণ করে যুদ্ধ প্রস্তুতি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। কিন্তু সরকারের দুই মাসের ব্যবস্থাপনায় কিন্তু সব কিছু লেজে গোবরে হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

সবাই জানে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ বিশ্ব জ্বালানি বাজারকে টালমাটাল করেছে। যার অশুভ প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেছে দুই মাস হয়ে গেলো। সরকারের মন্ত্রী সাংসদরা বলছে জ্বালানিসহ সব বিষয় ব্যবস্থাপনা নিয়ে তাদের ব্যাপক হোমওয়ার্ক করা ছিল। এখনো প্রতিদিন বলছে দেশে জ্বালানির (ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন, ফার্নেস অয়েল) পর্যাপ্ত মজুত আছে। কিন্তু তবুও জনমনে আতঙ্ক, পেট্রোল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ সারি, ইস্টার্ন রিফাইনারি বন্ধ হওয়া, একটি বাদে বাকি সব সার কারখানা গ্যাসের অভাবে বন্ধ থাকা তাহলে কি জ্বালানি সাপ্লাই চেইনন মোকাবিলায় সরকারের ব্যর্থতা? নাকি অন্য কিছু? সরকার কি চলমান এবং ঘনায়মান জ্বালানি মহাসংকটের ব্যাপ্তি বা গভীরতা সঠিক ভাবে উপলব্ধি করতে পারছে না?

সরকারপ্রধান উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দেয়ার সহায়তায় ২ বিলিয়ন ডলার দ্রুত প্রদানের অনুরোধ করেছে। একে তো সরকার বহুমুখী ঋণ পরিশোধের চাপে আছে। বৈদেশিক ঋণ, ঋণের কিস্তি পরিশোধ সরকারের গলার কাঁটা হয়ে আছে। দেশীয় সূত্র থেকেও সরকার ইতিমধ্যেই ৪০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে বেসরকারি উদ্যোগক্তাদের ঋণ জানালা সংকুচিত করেছে। এখন জ্বালানি ব্যবস্থাপনা অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণ সরকারের আর্থিক শৃংখলা এলোমেলো করে দিতে পারে।

বৈষয়িক সংকটে এলোমেলো হয়ে গাছে জ্বালানি সরবরাহ চেইন হরমুজ প্রণালি কার্যত রুদ্ধ। আরব দেশ এবং পারস্য উপসাগরীয় দেশসমূহ থেকে অর্থ থাকলেও অদূর ভবিষ্যতে জ্বালানি আমদানির সুযোগ সীমিত। বিকল্প সূত্রগুলো থেকেও বাড়তি মূল্যে জ্বালানি ক্রয় আর চড়া মূল্যে জাহাজ যোগে জ্বালানি পরিবহনেও খুব একটা সাফল্য আসেনি। যার ফলশ্রুতিতে অপরিশোধিত তেলের অভাবে বন্ধ হয়ে গাছে দেশের একমাত্র তেল শোধনাগার। এখন পর্যন্ত আমদানিকৃত এলএনজি সরবরাহে ঘাটতি না হলেও সরকারের রেশনিংয়ের কারণে ঘোড়াশালের সার কারখানাটি ছাড়া বাকি সবগুলোর উৎপাদন স্থগিত। যুদ্ধ কিন্তু সার আমদানিতেও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। চলছে বোরো মৌসুম, কিছুদিন পরে শুরু হবে এমন ধানের চাষ। সরকারকে কিন্তু সার সংকট ঘনীভূত হওয়ার আগেই অন্তত আরো দুটি সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ করতে হবে। এদিকে আবার গ্রীষ্মের আগমনে তাপমাত্রা বাড়ছে। গ্রীষ্মের বিদ্যুৎ চাহিদা মেটানোর জন্য বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড পেট্রোবাংলার কাছে প্রতিদিন ১ হাজার ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস চেয়েছে। বিদ্যমান অবস্থায় অন্নান্য গ্রাহকদের সরবরাহ সমন্বয় করেও পেট্রোবাংলা দৈনিক ৯৫০ মিলিয়ন ঘনফুটের বেশি গ্যাস সরবরাহের নিশ্চয়তা দিতে পারছে না। অধিকন্তু এলএনজি আমদানি কমে গেলে ৯৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস বিদ্যুৎ উৎপাদনে দেয়া যাবে কিনা নিশ্চয়তা নেই। আবার সরকার কয়লা আমদানিতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ করতে না পারায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ক্ষমতা অনুযায়ী চালানো যাচ্ছে না। এমনকি জ্বালানির অভাবে তেলভিত্তিক প্ল্যান্টগুলোর পরিচালনায় সংকট সৃষ্টি হচ্ছে। বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিয়ে চালানোর চেষ্টা করছে করছে সরকার। সেটিরও কিন্তু সীমা পরিসীমা আছে। জুন মাসে সরকারকে বাজেট ঘোষণা করতে হবে। জ্বালানিতেই যদি বিপুল সাবসিডি দিতে তাহলে অন্যানো গুরুপূর্ণ খাত কৃষি, সাস্থ্য, শিক্ষা, যোগাযোগ, পরিবেশ উন্নয়নে অর্থ বরাদ্দ কীভাবে হবে। সরকারকে অবশ্যই সুচিন্তিতভাবে জ্বালানি বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয় করতে হবে। এমনভাবে করতে হবে যাতে মূল্যবৃদ্ধি সর্বক্ষেত্রে মূল্য বৃদ্ধি ঘটিয়ে মুদ্রাস্ফীতি সৃষ্টি না করে।

সরকার কিন্তু এখনো জ্বালানি সরবরাহ চেইনের ওপর নিয়ন্ত্রণ স্থাপন করতে পারেনি। আর তাই পদ্মা, মেঘনা, যমুনার ডিপোগুলো থেকে পাম্পগুলোতে জ্বালানি সরবরাহে জটিলতা রয়ে গাছে। অন্তর্বর্তী সরকার আমলে জ্বালানি সেক্টর কোম্পানিসমূহের শীর্ষ ব্যবস্থাপনায় একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল ঘনিষ্ঠ অদক্ষ ব্যক্তিদের পদায়ন করায় তাদের ভুল পরিকল্পনায় পরিস্থিতি সামাল দিতে লেজে গোবরে অবস্থায় পৌঁছেছে সরকার। এখনো একশ্রেণির অসাধু সিন্ডিকেট জ্বালানি মজুত রেখে সরবরাহ চেইনে সংকট অব্যাহত রেখেছে।

সরকার জ্বালানি বিদ্যুৎ ব্যবহারে বিবিধ কৃচ্ছ্রতা চালু করে চাহিদা কমানোর চেষ্টায় কতটুকু সফলতা অর্জন করেছে জানিনা। অনেক দেশ কিন্তু জ্বালানি আমদানিতে ট্যাক্স, ভ্যাট সাময়িকভাবে তুলে নিয়েছে। কিছু দেশ পাবলিক ট্রান্সপোর্টে বিনা ভাড়ায় যাতায়াত ব্যবস্থা করেছে। বাংলাদেশের পক্ষে এর কোনোটাই সুপারিশ যোগ্য না। তবে বাংলাদেশ জ্বালানি আমদানিতে ট্যাক্স ভ্যাট কমানোর বিষয়টি বিবেচনায় আনতে হবে।

বাংলাদেশকে অবশ্যই নিজস্ব প্রাথমিক জ্বালানি জোগান বাড়ানো এবং নবায়ণযোগ্য জ্বালানির প্রসারে সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। শুনেছি পেট্রোবাংলার ৫০ এবং ১০০ কূপ খনন প্রকল্পগুলোতে এযাবৎ কাঙ্ক্ষিত সাফল্য আসেনি। অনেকেই বলছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকা, ছাতক, টেংরাটিলা এলাকায় প্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস অনুসন্ধান কাজ অবিলম্বে শুরু করা উচিত। ভোলা গ্যাস ক্ষেত্রের গ্যাস গ্যাস গ্রীডে সংযুক্তি করার কার্যক্রম অবিলম্বে শুরু করা উচিত। সাগরে এবং স্থলভাবে সমন্বিত গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য অবিলম্বে পিএসসি বিডিং রাউন্ড ঘোষণা করা আবশ্যক।

মনে রাখতে হবে গ্যাস আবিষ্কার এবং সে গ্যাস গ্রিডে নিয়ে আসা কিন্তু নিয়ে কিন্তু অনেক অনিশ্চয়তা আছে। কিন্তু ৫ আবিষ্কৃত কয়লা ফিল্ডগুলো থেকে উন্নত মানের কয়লা উত্তোলন করে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যাবহারে কিন্তু অনিশ্চয়তা নেই। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ কিন্তু উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরিবেশ বিষয়ক শংকা, ভূমি পুনরুদ্ধার, পানি ব্যবস্থাপনা করে কয়লা উত্তোলন করছে। বাংলাদেশে যখন জ্বালানি দুর্ভিক্ষ, জ্বালানি ব্যবস্থাপনা যখন আইসিইউতে মৃত্যুশয্যায় তখন আবিষ্কৃত কয়লাসম্পদ ঠুনকো শঙ্কায় মাটির নিচে ফেলে রাখা আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।

আমি নবায়ণযোগ্য জ্বালানি বিস্তারের বিরুদ্ধে নেই। কিন্তু একথাও মানতে হবে বাংলাদেশ কখনো ২০,০০০-২৫,০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য খাত থেকে উৎপাদন করতে পারবে না। সৌরবিদ্যুৎ বা বায়ুবিদ্যুৎ কখনো বাংলাদেশে বেস লোড হবে না। আর বাংলাদেশের এমিশন সীমিত করার কোন বৈষয়িক দায় নেই। পায়েরা, রামপাল, মাতারবাড়ী, আনোয়ারায় স্থাপিত আধুনিক প্রযুক্তির আমদানিকৃত কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো প্রমাণ করেছে পরিবশেষ সম্মত উপায়ে কয়লা বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। আমি সরকারকে অবিলম্বে আধুনিক বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে কয়লা খনি উন্নয়নের পরামর্শ দিচ্ছি।

আমি একই সঙ্গে গভীর সমুদ্র থেকে মাতারবাড়ি হয়ে পতেঙ্গা পর্যন্ত সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম ) অপেরেশনে আনার জন্য সুপারিশ করছি। একই সঙ্গে ইআরএল ক্ষমতা বাড়ানো এবং উপযুক্ত সঙ্গে আরো একটি তেল শোধনাগার দ্রুত স্থাপনের কাজ হাতে নেয়ার পরামর্শ দিচ্ছি।

বর্তমান পরিস্থিতি প্রমাণ করে ভারতের নুমালিগর রিফাইনারি থেকে পাইপলাইন দিয়ে ডিজেল আমদানি কতটা দূরদৃষ্টিসম্পন্ন ছিল। বাংলাদেশের সীমান্ত অঞ্চলের অদূরে ভারতের আরো তিন-চারটি তেল শোধনাগার আছে। সেখান থেকেও তরল জ্বালানি আমদানির বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

দুনিয়ার বিভিন্ন প্রতিবেশী দেশ যৌথ ব্যবস্থাপনায় প্রাথমিক জ্বালানি অনুসন্ধান আর উন্নয়ন করে থাকে। বাংলাদেশ কেন ভারত এবং মায়ানমারের সঙ্গে যৌথভাবে সীমান্ত এলাকায় গ্যাস তেল অনুসন্ধান করতে পারবে না?

বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান সমস্যা বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিপুল রিজার্ভ মার্জিন। বিদ্যুৎ চাহিদা দ্রুত বাড়াতে বাংলাদেশ পরিকল্পিত বৈদ্যুতিক গাড়ি ব্যবহার সম্প্রসারণ করতে পারে। সাধারণ পরিবহন থেকে শুরু করে রেল পরিবহনে বিদ্যুৎ ব্যবহার হলে একদিকে যেমন এ খাতে জ্বালানি ব্যবহার, পরিবেশ দূষণ কমবে অন্যদিকে বিদ্যুৎ ব্যবহার বাড়ায় ক্যাপাসিটি চার্জ থেকে পরিত্রাণ মিলবে। উপরের ব্যবস্থাগুলো পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন এবং পরিচালনার জন্য সরকারকে নির্মোহভাবে আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ, দেশপ্রেমিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে। 

মন্ত্রীদের কী অতি কথন শুরু? 

বাস্তব পরিস্থিতি এড়িয়ে বিএনপি সরকারের মন্ত্রীদের অনেকে অতিকথন শুরু করেছেন। বাংলাদেশের জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী সম্প্রতি জানিয়েছেন দেশে এখন ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি জ্বালানি মজুত আছে। সে পরিপ্রেক্ষিতে দেশে জ্বালানি সংকট বা বিদ্যুৎ সংকট থাকার কথা না। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে জ্বালানি বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি রীতিমত আতঙ্কজনক। সারা দেশে জ্বালানি সংকটে বন্ধ হয়ে আছে অনেক পেট্রোল পাম্প। খোদ ঢাকা মহানগরীতে জ্বালানি সংগ্রহের জন্য যানবাহনের লাইন দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। গ্যাস, কয়লা, ফার্নেস অয়েলের সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ধস নেমেছে। ঢাকার বাইরে দক্ষিণ বাংলা উত্তর বাংলার অনেক স্থানেই ৮-১০ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। কৃষক সেচের জন্য ডিজেল, বিদ্যুৎ পাচ্ছে। প্রতিমন্ত্রীর দাবির প্রতিফলন কেন মাঠ পর্যায়ে দৃশ্যমান হচ্ছে না। তাহলে কি সাপ্লাই চেইনে কোথাও গলদ আছে? নাকি ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা?

মির্জা ফখরুল ইসলাম বলছেন লোডশেডিং মাত্রা আওয়ামী লীগ সময় থেকে সহনীয়। স্মরণ করে দেখুন, ২০০১-২০০৬ বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের ব্যর্থতার জন্য ২০১০-১১ তীব্র বিদ্যুৎ সংকট ছিল। আওয়ামী লীগ সরকার নানা উদ্যোগ গ্রহণ করে ২০১৪ থেকে দেশকে প্রায় লোডশেডিং মুক্ত করেছিল। করোনা মহামারি অথবা রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের সময়েও দেশে খুব একটা বিদ্যুৎ সংকট হয়নি। তাহলে এতো বিপ্লবী কথা বলে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আশা বিএনপি সরকার কেন বিদ্যুৎ জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছে?

সরকার সংকটের কথা স্বীকার করে কেন সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সমন্বিত করে সংকট মোকাবিলা করার উদ্যোগ নিচ্ছে না? সত্য অস্বীকার আর ইতিহাস বিকৃত করে সংকট থেকে মুক্তি মিলবে না। কৃচ্ছ্রতা, জ্বালানির দক্ষ ব্যবহার, নিজেদের জ্বালানি সম্পদ দ্রুত আহরণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানির অবদান দ্রুত বৃদ্ধিতেই আছে পরিত্রাণ।

শেয়ার করুন