২২ এপ্রিল ২০২৬, বুধবার, ০৪:২৮:৩০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মদ্যপানের খবরে দ্য আটলান্টিকের বিরুদ্ধে ২৫০ মিলিয়ন ডলারের মামলা কাশ প্যাটেলের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির ৩৬ প্রার্থীর কারা পেলেন মনোনয়ন উজ্জীবিত নববর্ষ উদযাপন যে বার্তা দিয়ে গেল ২০২৬ সালের নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে ১৬ মিলিয়ন অভিবাসী ভোটার আইএমএফ’র শর্তের নেপথ্যে রাজনীতি না অন্যকিছু জুলাই সনদ বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতি দিলেও ‘কিছু রাজনৈতিক দল’ জনগণকে বিভ্রান্ত করছে - তারেক রহমান মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার পেলেন সেই শিক্ষিকা মাহেরীন চৌধুরী আজ ১৭ এপ্রিল, ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস টাইম ম্যাগাজিনে বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খালেদা জিয়া সহ দেশের ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও পাঁচ প্রতিষ্ঠানকে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ পদক প্রদান


ভারতের কাছে আ.লীগ-হাসিনা চাপ্টার ক্লোজ
সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ
  • আপডেট করা হয়েছে : ২২-০৪-২০২৬
ভারতের কাছে আ.লীগ-হাসিনা চাপ্টার ক্লোজ শেখ হাসিনা


বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ইস্যুতে ভারত আর বেশি কথা বলা-কে গুরুত্ব দিচ্ছে না। তা-কে তার নিজ দিশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে যেমন দেশটি কোনো ধরনের তৎপরতায় থাকবে না, তেমনি এই ইস্যুকে দিল্লি ‘চাপ্টার ক্লোজ’ হিসাবেই মনে করছে। অপরদিকে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ কি করবে না করবে সে ইস্যুতেও দেশটি আর মাথা ঘামাতে চায় না। ভারতের এমন অভিপ্রায় ফুটে উঠেছে দেশটির পক্ষ থেকে সর্বশেষ ব্রিফিংয়ে। 

কি অভিপ্রায় ভারতের

সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ভারতের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল কিছু গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করে ফেলেছেন। তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ নিয়ে আর কথা না বলে বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে ভারত আগ্রহী। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভারত সফরে দেশটির নতুন সরকারের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে যুক্ত হওয়ার এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে ভারতের ইচ্ছার কথা পুনর্ব্যক্ত করা হয়। এছাড়া দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয় যে, আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্ককেও আরও সুদৃঢ় করতে চায় ভারত।

বিশ্লেষণ কি বলে?

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালের এবারের প্রেস ব্রিফিংটি ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করলে ফুটে উঠবে অনেক কিছু। এতে সহজে ধরে নেওয়া যায় যে, রণধীর জয়সওয়াল গণমাধ্যম থেকে এমন একটি প্রশ্ন আশাই করেছেন। তার বডি লেংগুয়েজে তা-ই বলে। কেননা তার এই ব্রিফিং এর আগে দিল্লি ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বেশ কিছু ঘটনা ঘটে গেছে। এপ্রিলেই বাংলাদেশের নতুন সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণায়ের সাথে বেশ কয়েকভাবে বিভিন্ন ইস্যুতে যোগাযোগ হয়েছে। এই এপ্রিলে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ওই সময়ে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মার সঙ্গে সাক্ষাতে বেশ কয়েকটি বিষয়ের আগাম আভাস মিলেছিল। অবশ্য ওই সাক্ষাতের পরে প্রণয় ভার্মাকে বেলজিয়াম ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে ভারতের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে প্রণয় কুমার ভার্মার সাক্ষাতে পারস্পরিক স্বার্থ ও দ্বিপক্ষীয় লাভের ভিত্তিতে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের সঙ্গে ইতিবাচক, গঠনমূলক এবং দূরদর্শী পন্থায় একত্রে কাজ করার বিষয়ে ভারতের প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করা হয়। অন্যদিকে এই সাক্ষাতের পরে একটি আভাস মিলে যায় বাংলাদেশের কতৃপক্ষের বক্তব্যে। বৈঠকে শেখ হাসিনাকে ফেরানোর বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে হুমায়ূন কবির বলেছিলেন, শেখ হাসিনা বাংলাদেশে রাজনৈতিকভাবে মরে গেছেন। তার আওয়ামী লীগ বলতে বাংলাদেশে এখন আর কিছু নেই। আর এমনটাই আভাস মিললো রণধীর জয়সওয়ালের ওই মন্তব্যেও। তিনিও বলে ফেলেন, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ নিয়ে আর কথা না বলে বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে ভারত আগ্রহী। অর্থ্যাৎ সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও শেখ হাসিনা পুরোটাই এখন ভারতের কাছে অনেক দূরের বিষয় যা-কে বলা হয় পরিত্যক্ষ বিষয়। 

এগুলো আরও বুঝতে পারা যায়, এপ্রিলে ভারত বাংলাদেশের মধ্যে পররাষ্ট্র ক্ষেত্রে আরও কিছু ঘটনা ছিল যা আসলেই বেশ ইঙ্গিতবহ। প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সভাপতি নিতিন নবীনের কাছে একটি চিঠি দেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এছাড়া এপ্রিলে তিন দিনের শুভেচ্ছা সফরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ভারতে ছিলেন। এই সময়ে আর সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন হুমায়ুন কবির। অন্যদিকে আঞ্চলিক বিষয় নিয়ে কথা সময় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও ছিলেন। ফলে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালের এবারের প্রেস ব্রিফিং দেশটিতে আশ্রয় পাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেষ হাসিনার প্রসঙ্গ যে এসে যাবে তা একোবারেই স্বাভাবিক। কেননা দেখা গেলো যে, রণধীর জয়সওয়ালের প্রেস ব্রিফিংয়ে শেখ হাসিনার প্রসঙ্গটি আসলে তিনি পুরোটায় লিখিত জবাবই দেন। যেনো এটা আগেভাগেই প্রস্তুত করা ছিল। একারণে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালে জবাবে শেখ হাসিনার প্রসঙ্গের উত্তরে বাংলাদেশের চলমান বিচারিক ও অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আসা এই অনুরোধটি বর্তমানে ভারত সরকার খতিয়ে দেখছে বলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। রণধীর জয়সওয়ালকে একটি লিখিত বক্তব্যে পাঠ করেই বলতে হয়েছে তাদের দীঘদিনের ঐতিহাসিক সম্পর্কের দল আওয়ামী লীগের ব্যাপারে। যে-ই উত্তরের মধ্যে আসলে শেষ হাসিনার প্রসঙ্গ-ও চলে আসে। তাকে বলতে হয়েছে যে, ‘আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ নিয়ে আর কথা না বলে বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারেই ভারত আগ্রহী। এটাকে অনেকে বলে থাকেন আওয়ামী লীগের প্রতি কূটনৈতিক চপোটঘাত ছাড়া কিছুই না। এর পাশাপাশি সার্বিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রতি ইঙ্গিত করে রণধীর জয়সওয়ালের মন্তব্য ইঙ্গিতপূর্ণ। তিনি জানান যে, আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্ককেও আরও সুদৃঢ় করতে চায় ভারত। কেননা এখন এই সময়ে ভূ-রাজনৈতিক কারণে আমেরিকা একটি ফ্যাক্টর। একথা অনেকেরই মুখে মুখে যে বাংলাদেশের বিষয়ে এখন সব কিছু আমেরিকার পরামর্শে হচ্ছে এবং হবে। তা-ই আমেরিকাকে সাথে নিয়ে ভারত বাংলাদেশ ইস্যুতে কাজ করতে গিয়ে সেখানে শেখ হাসিানাকে টেনে আনার বিষয়টি এমুহূর্তে বেশ স্পশকাতর। এবং ভারতের যে কিছুই করার নেই-রণধীর জয়সওয়ালে জবাবে তা পাওয়া গেছে। অর্থ্যৎ ভারতের কাছে এখন আ.লীগ ও শেখ হাসিনা চাপ্টার ক্লোজ।

শেয়ার করুন