০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, মঙ্গলবার, ০৬:৩৩:০১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বাসসের নবনিযুক্ত এমডি ও প্রধান সম্পাদককে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবর্ধনা বাসস'র এমডি ও প্রধান সম্পাদক পদে নিয়োগ পেলেন কাদের গনি চৌধুরী কপ সম্মেলনে যোগ দিতে নভেম্বরে তুরস্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নেপাল-তিব্বতে বন্যায় প্রাণহানি বেড়ে ৩৯২, নিখোঁজ প্রায় ১,৪০০ আফগান-আমেরিকান হিসেবে প্রথমবার মার্কিন কংগ্রেসে আইশা ওয়াহাব আমেরিকানদের গৃহস্থালি ঋণ ১৮.৮ ট্রিলিয়ন, ক্রেডিট কার্ড ১.২৬ ট্রিলিয়ন ওহাইওতে মসজিদে সাত বছরে তৃতীয় হামলা জনপ্রিয় হচ্ছে তিন বছরের কলেজ ডিগ্রি, তবে আছে বিতর্ক মুসলিম নারীকর্মীর বৈষম্যের অভিযোগে ওক পার্ক সিটির বিরুদ্ধে মামলা সশস্ত্র ডাকাতের গুলিতে বাংলাদেশি মহসিন রানা নিহত


সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির ৩৬ প্রার্থীর কারা পেলেন মনোনয়ন
বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২২-০৪-২০২৬
সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির ৩৬ প্রার্থীর কারা পেলেন মনোনয়ন নারী আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রাপ্তরা


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে ৩৬ জন প্রার্থীর চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণা করেছেন বিএনপি। ২০ এপ্রিল নয়াপল্টন দলীয় কার্যালয়ে এসব প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। চূড়ান্ত তালিকায় অভিজ্ঞদের পাশাপাশি তারুণ্য ও ধর্মীয় বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নারীদের সমন্বয় করা হয়েছে। ঠাঁই পেয়েছেন রাজপথের পরীক্ষিত নেত্রীরা। অতীতে যেসব নেত্রী আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন, ফ্যাসিস্ট সরকারবিরোধী আন্দোলনে রাজপথে ছিলেন, বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে দলের পক্ষে অবদান রেখেছেন তাদেরকে মূল্যায়ন করা হয়েছে। এসব প্রার্থীর বেশিরভাগই উচ্চশিক্ষিত ও ছাত্ররাজনীতিতে সম্পৃক্ত ছিলেন। এছাড়া মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক ১০ জন সংসদ সদস্য। অভিনয় ও শিল্পী জগতের কাউকেই দেয়া হয়নি মনোনয়ন। সংখ্যালগুদের মধ্যে ৪ জন স্থান পেয়েছেন। ভোটে হেরে যাওয়া তিনজন রয়েছে। দলের ত্যাগী নেত্রীদের মূল্যায়নে খুশি তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। তবে কয়েকজন প্রার্থীকে নিয়ে রয়েছে সমালোচনাও।

ত্রয়োদশ সংসদের সংরক্ষিত আসনের এমপি হতে বিএনপির মনোনয়ন কিনেছিলেন সহস্রাধিক নারী। এর মধ্যে জমা পড়ে ৯ শতাধিক। এসব প্রার্থীর টানা দুদিন সাক্ষাৎকার নেয় মনোনয়ন বোর্ড। মনোনয়নপ্রাপ্তদের মধ্যে অভিজ্ঞ সাবেক ১০ সংসদ সদস্যকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন—বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান, রেহানা আক্তার রানু, শিরিন সুলতানা, রাশেদা বেগম হীরা, বিলকিস ইসলাম, হেলেন জেরিন খান, নিলুফার চৌধুরী মনি, শাম্মী আক্তার, সুলতানা আহমেদ, নেওয়াজ হালিমা আর্লি। তারা সবাই সাবেক ছাত্রনেত্রী ও দলের জন্য দীর্ঘ ত্যাগ-সংগ্রাম রয়েছে। এছাড়া ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত হয়েছেন এমন তিনজনও পেয়েছেন মনোনয়ন। তারা হলেন—ঢাকা-১৪ আসনের সানজিদা ইসলাম তুলি, যশোর-২ আসনের সাবিরা সুলতানা, শেরপুর-১ আসনের ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা। তারা তিনজনই ফ্যাসিস্ট আমলে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। মহিলা দল থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খান। বিএনপির মিডিয়া সেল থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন দুজন। তারা হলেন—মাহমুদা হাবিবা ও শাম্মী আক্তার। ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন তিনজন। তারা হলেন— ফেরদৌস আহমেদ, আরিফা সুলতানা, নাদিয়া পাঠান। তারাও বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন। ছাত্রদলের বর্তমান কমিটি থেকে দুজন মনোনয়ন পেয়েছেন। তারা হলেন—যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মানসুরা আক্তার, সানজিদা ইয়াসমিন। তাদের দুজনেরই জুলাই আন্দোলনে সামনের সারিতে ছিলেন। স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি প্রয়াত শফিউল বারী বাবুর স্ত্রী বীথিকা বিনতে হুসাইনও পেয়েছেন মনোনয়ন। তিনি ছাত্রদলের সাবেক নেত্রী ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘অর্পণ আলোক’-এর সভাপতি। ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে কারাবরণের শিকার ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানাকেও দেওয়া হয়েছে মনোনয়ন। এছাড়া ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী, সাবেক ছাত্রদল নেত্রী শওকত আরা উর্মি, সেলিনা সুলতানা নিশিতাও মনোনয়ন পেয়েছেন। তারা সবাই বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। ওদিকে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নন, এমন কয়েকজন সংরক্ষিত কোটায় মনোনয়ন পেয়েছেন। এদের একজন হলেন—প্রয়াত বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট এবাদুর রহমান চৌধুরীর কন্যা জহরত আদিব চৌধুরী। তিনি মোবাইল অপারেটর বাংলা লিংকের সিইও। এদিকে তৃতীয় মাত্রার উপস্থাপক জিল্লুর রহমানের স্ত্রী ফাহমিদা হকও মনোনয়ন পেয়েছেন। এদিকে গোপালগঞ্জের সুবর্ণা শিকদার ঠাকুরকে মনোনয়ন দেওয়ায় সমালোচনা শুরু হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। সুবর্ণা ঠাকুর গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন এমন তথ্য আসছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ার পর তিনি দাবি করছেন, আওয়ামী লীগের কমিটিতে অনুমতি না নিয়েই তার নাম রাখা হয়েছিল। সুবর্ণা ঠাকুর মতুয়া সম্প্রদায়ের একজন নারী। তিনি ওড়াকান্দি হরিচাঁদ ঠাকুর পরিবারের সদস্য ও পেশায় শিক্ষক।

এদিকে আওয়ামী লীগ আমলের এপিপি মাধবী মার্মাকে মনোনয়ন দেওয়ায় বিতর্ক উঠেছে সামাজিকমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে। ২০০৯ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের নিযুক্ত বান্দরবান জেলার সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মাধবী। পরবর্তী সময়ে ২০১৫ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের মনোনয়নে নোটারি পাবলিক হিসেবে নিয়োগ পান। সর্বশেষ অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ছিলেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য।

যে ৩৬ জন মনোনয়ন পেলেন : সেলিমা রহমান, শিরীন সুলতানা, রাশেদা বেগম হীরা, রেহানা আক্তার রানু, নেওয়াজ হালিমা আর্লি, মোসা. ফরিদা ইয়াসমিন, বিলকিস ইসলাম, শাকিলা ফারজানা, হেলেন জেরিন খান, নিলোফার চৌধুরী মনি, নিপুণ রায় চৌধুরী, জীবা আমিন খান, মাহমুদা হাবিবা, মোছা. সাবিরা সুলতানা, সানসিলা জেবরিন, সানজিদা ইসলাম তুলি, সুলতানা আহমেদ, ফাহমিদা হক, আন্না মিনজ, সুবর্ণা শিকদার, শামীম আরা বেগম স্বপ্না, মোসাম্মৎ শাম্মী আক্তার, ফেরদৌসী আহমেদ, বীথিকা বিনতে হোসাইন, মোছা. সুরাইয়া জেরিন, মানছুরা আক্তার, জহরত আদিব চৌধুরী, মমতাজ আলো, ফাহিমা নাসরিন, আরিফা সুলতানা, মোছা. সানজিদা ইয়াসমিন, নাদিয়া পাঠান পাপন, শওকত আর আক্তার, মাধবী মার্মা, সেলিনা সুলতানা, রেজেকা সুলতানা।

শেয়ার করুন