১৮ এপ্রিল ২০২৬, শনিবার, ১১:২৭:২৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার পেলেন সেই শিক্ষিকা মাহেরীন চৌধুরী আজ ১৭ এপ্রিল, ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস টাইম ম্যাগাজিনে বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খালেদা জিয়া সহ দেশের ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও পাঁচ প্রতিষ্ঠানকে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ পদক প্রদান যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েল নিয়ে জনমত বদলাচ্ছে টেক্সাসে পাঠ্যক্রমে ইসলাম ও সংখ্যালঘু ইতিহাস পরিবর্তন ঘিরে তীব্র বিতর্ক ট্রাম্প অ্যাকাউন্টস : চার মিলিয়নের বেশি শিশু নিবন্ধিত নিউ ইয়র্কে ২-কে চাইল্ড কেয়ার হবে পূর্ণ দিবস ও বছরব্যাপী ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থীদের ডিপোর্টেশন ঠেকানোর রায় দেওয়ায় দুই অভিবাসন বিচারককে বরখাস্তের অভিযোগ ইমিগ্রেশন আপিল বোর্ডে মাহমুদ খলিলের আপিল খারিজ


গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী কর্মসূচি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী
বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট করা হয়েছে : ০২-০৭-২০২৫
গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী কর্মসূচি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী


রাজধানীর বিজয় সরণিতে বাঙালির ইতিহাসের স্মারক সম্বলিত দেয়াল ভেঙে ফেলায় সিপিবির ক্ষোভ জানিয়ে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম ও সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স।

বলেছেন, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে নানা কর্মসূচি এবং অনেকের অনেক বক্তব্য মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী হয়ে দাঁড়াচ্ছে, যা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী। গত ৩০ জুন সোমবার এক বিবৃতিতে রাজধানীর বিজয় সরণিতে ‘মৃত্যঞ্জয়ী প্রাঙ্গন’-এ বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের থেকে শুরু করে ৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে তৈরি সাতটি স্মারক দেয়াল ভেঙে ফেলায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, মুক্তিযুদ্ধ আমাদের অন্যতম ভিত্তি ও অহংকার। এটা একদিনে সংগঠিত হয়নি। বৃটিশবিরোধী সংগ্রাম থেকে শুরু করে ‘৫২-এর ভাষা আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় অসংখ্য সংগ্রামের শেষ পর্বে ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ। ঐ মুক্তিযুদ্ধের স্মারক মুছে ফেলে সেখানে জুলাই অভ্যুত্থানের স্মারক নির্মাণের যে কথা শোনা যাচ্ছে তা অত্যন্ত বিব্রতকর এবং তা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাবিরোধী। জুলাই আগস্ট গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের গণতন্ত্রের পথে উত্তরণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তা শুধু বাংলাদেশে নয় সারা পৃথিবীর গণতন্ত্রকামী মানুষের জন্য স্মরণীয় এবং ফ্যাসিস্ট স্বৈরশাসকদের জন্য আতঙ্কের কারণ হয়ে থাকবে।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, জুলাই-আগস্ট ২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থান ১৯৭১ সালের চেতনারই ধারাবাহিকতা। কিন্তু আমরা অত্যন্ত উদ্যোগের সাথে লক্ষ্য করছি, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে নানা কর্মসূচি এবং অনেকের অনেক বক্তব্য মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী হয়ে দাঁড়াচ্ছে, যা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন যে, জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের স্মৃতির স্মারক নির্মাণ করা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের স্মারককে মুছে ফেলে ঐ স্থানে স্মৃতির মিনার নির্মাণ করা অত্যন্ত ভুল সিদ্ধান্ত হবে। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ অন্য যথাযোগ্য জায়গা নির্ধারণ করে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের স্মারক নির্মাণের আহ্বান জানান। বিবৃতিতে ‘২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের স্মারক নির্মাণ এর পাশাপাশি সারাদেশে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সম্বলিত সকল স্মারক যথাযথ যোগ্যতায় সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের আহ্বান জানানো হয়।

এদিকে রাজধানীর বিজয় স্মরণীতে মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মারক সম্বলিত দেয়াল ভেঙে ফেলায় নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাম গণতান্ত্রিক জোটে। এক যৌথ বিবৃতিতে বাম গণতান্ত্রিক জোটের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, সিপিবি সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ, বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ, বাসদ (মার্কসবাদী)-এর কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক মাসুদ রানা, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক পার্টির নির্বাহী সভাপতি আব্দুল আলী বলেন, ২০২৪ এর গনঅভ্যুত্থানের স্মৃতি স্মারক নির্মাণ করতে যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া ও রাজধানীতে উপযুক্ত জায়গা নির্ধারণ করা প্রয়োজন। কিন্তু রাজধানীর বিজয় স্মরণীতে ‘মৃত্যঞ্জয়ী প্রাঙ্গন’ এ বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের থেকে শুরু করে ৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ কে নিয়ে তৈরি সাতটি স্মারক দেয়াল ভেঙে ফেলে ঐ স্থানে ‘২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের স্মারক নির্মাণ কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, মুক্তিযুদ্ধ আমাদের অন্যতম ভিত্তি, এটা একদিনে সংগঠিত হয়নি। বৃটিশ বিরোধী সংগ্রাম থেকে শুরু করে ‘৫২’র ভাষা আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় অসংখ্য সংগ্রামের শেষ পর্বে ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ। নেতৃবৃন্দ বলেন, জুলাই আগস্ট ২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থান ১৯৭১ সালের চেতনারই ধারাবাহিকতা। মুক্তিযুদ্ধকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এই ধারাকে অগ্রসর করা যাবে না। বিবৃতিতে ‘সারাদেশে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সম্বলিত সকল স্মারক যথাযথ যোগ্যতায় সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের আহ্বান জানান হয়।

শেয়ার করুন