১৭ এপ্রিল ২০২৬, শুক্রবার, ০২:৩৭:২২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
টাইম ম্যাগাজিনে বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খালেদা জিয়া সহ দেশের ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও পাঁচ প্রতিষ্ঠানকে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ পদক প্রদান যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েল নিয়ে জনমত বদলাচ্ছে টেক্সাসে পাঠ্যক্রমে ইসলাম ও সংখ্যালঘু ইতিহাস পরিবর্তন ঘিরে তীব্র বিতর্ক ট্রাম্প অ্যাকাউন্টস : চার মিলিয়নের বেশি শিশু নিবন্ধিত নিউ ইয়র্কে ২-কে চাইল্ড কেয়ার হবে পূর্ণ দিবস ও বছরব্যাপী ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থীদের ডিপোর্টেশন ঠেকানোর রায় দেওয়ায় দুই অভিবাসন বিচারককে বরখাস্তের অভিযোগ ইমিগ্রেশন আপিল বোর্ডে মাহমুদ খলিলের আপিল খারিজ লংআইল্যান্ডে মসজিদ সম্প্রসারণে প্রশাসনিক বাধা নাটক-সিনেমা দেখে কি বার্তা দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী?


ইমিগ্রেশন আপিল বোর্ডে মাহমুদ খলিলের আপিল খারিজ
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ১৫-০৪-২০২৬
ইমিগ্রেশন আপিল বোর্ডে মাহমুদ খলিলের আপিল খারিজ মাহমুদ খলিল


যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন আপিল বোর্ড গত ১০ এপ্রিল মাহমুদ খলিলের বহিষ্কার মামলা বাতিলের আবেদন খারিজ করেছে। এ সিদ্ধান্ত অনেকটাই প্রত্যাশিত বলে মনে করা হলেও, এর ফলে সাবেক কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনকর্মী খলিল আবারও গ্রেফতার ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের ঝুঁকিতে পড়েছেন। খলিলের আইনজীবীদের তথ্য অনুযায়ী, বোর্ড অব ইমিগ্রেশন আপিলস (বিআইএ) ৯ এপ্রিল তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বহিষ্কার আদেশ জারি করে। যদিও এই বোর্ডের সিদ্ধান্তগুলো সাধারণত প্রকাশ্যে আনা হয় না, তবুও জানা গেছে যে তার আপিল খারিজ করা হয়েছে এবং বহিষ্কারের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার পথ উন্মুক্ত হয়েছে। তবে খলিলকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক বা বহিষ্কার করা হচ্ছে না। তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন, ফেডারেল আদালতে চলমান একটি পৃথক মামলার কারণে তাকে বর্তমানে আইনত আটক বা বহিষ্কার করা সম্ভব নয়। সেই মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তার অবস্থান অপরিবর্তিত থাকবে।

মামলার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, বোর্ড অব ইমিগ্রেশন আপিলসের সিদ্ধান্ত সত্ত্বেও খলিলকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক বা বহিষ্কার করা যাবে না। নিউ জার্সির একটি ফেডারেল জেলা আদালত পূর্বেই নির্দেশ দিয়েছে যে, তার বিরুদ্ধে বহিষ্কার কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত থাকবে, যতক্ষণ না তার হেবিয়াস করপাস মামলা নিষ্পত্তি হয়। বর্তমানে এই মামলা থার্ড সার্কিট কোর্ট অব আপিলসে বিচারাধীন।

আইনজীবীরা অভিযোগ করেছেন যে, খলিলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো তার সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করে। বিশেষ করে, সরকারের পক্ষ থেকে বিদেশনীতি সংক্রান্ত কারণ দেখিয়ে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা একটি ফেডারেল আদালত আগেই প্রশ্নবিদ্ধ বলে মন্তব্য করেছিল। তবুও বোর্ড অব ইমিগ্রেশন আপিলস সেই অভিযোগকে ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছে, যা নিয়ে নতুন করে আইনি বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

খলিলের প্রধান আইনজীবী মার্ক ভ্যান ডার হাউট এ সিদ্ধান্তকে অভূতপূর্ব ও ভিত্তিহীন বলে আখ্যা দিয়েছেন। তার মতে, এটি শুধু প্রমাণবিহীন নয়, বরং একটি বিদ্যমান আদালতের আদেশের পরিপন্থী। তিনি জানান, এ রায়ের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত আইনি লড়াই চালানো হবে। এদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলোও এ ঘটনাকে গভীর উদ্বেগের সঙ্গে দেখছে। আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের আইনজীবীরা বলছেন, যদি আদালতের হস্তক্ষেপ না থাকতো, তাহলে সরকার যে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে একই ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারতো। তাদের মতে, এ মামলা শুধু একজন ব্যক্তির নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ভবিষ্যতের সঙ্গেও জড়িত।

ইমিগ্রেশন অধিকার কর্মীদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের সময় থেকে ইমিগ্রেশন আপিল বোর্ডে যে পরিবর্তন আনা হয়েছিল, তার প্রভাব এখনো বিদ্যমান। সে সময় বোর্ডের আকার কমানো এবং বহিষ্কার প্রক্রিয়া দ্রুততর করার জন্য নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়, যা বর্তমান সিদ্ধান্তগুলোতেও প্রতিফলিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বর্তমানে মামলাটি ফিফথ সার্কিট কোর্ট অব আপিলসে আপিলের প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি থার্ড সার্কিটে চলমান হেবিয়াস মামলার ওপরও অনেক কিছু নির্ভর করছে। আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত খলিল যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে পারবেন এবং তাকে বহিষ্কার করা যাবে না। রায়ের প্রতিক্রিয়ায় খলিল বলেন, তিনি এই সিদ্ধান্তে বিস্মিত নন। তার মতে, এটি একটি পক্ষপাতদুষ্ট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সিদ্ধান্ত। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “আমি কোনো অপরাধ করিনি। আমার একমাত্র অপরাধ হলো ফিলিস্তিনে গণহত্যার বিরুদ্ধে কথা বলা। এ প্রশাসন অভিবাসন ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে আমাকে শাস্তি দিতে চাচ্ছে।

৩১ বছর বয়সী মাহমুদ খলিল একজন গ্রিনকার্ডধারী স্থায়ী বাসিন্দা। তিনি কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। গত বছরের মার্চ মাসে তার গ্রেফতারের ঘটনা প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে আসে, যা যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে সমালোচনা করা অনাগরিকদের বিরুদ্ধে ফেডারেল পর্যায়ে কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবে দেখা হয়।

সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, কলাম্বিয়ায় ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভে তার নেতৃত্ব হামাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। তবে এই অভিযোগের পক্ষে এখনো কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি এবং খলিল এসব অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন। একই সঙ্গে তিনি নিজের বিরুদ্ধে ইহুদিবিদ্বেষের অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেছেন।

গ্রেফতারের পর খলিল প্রায় ১০৪ দিন ইমিগ্রেশন হেফাজতে ছিলেন। এই সময়ে তিনি তার প্রথম সন্তানের জন্মও মিস করেন। পরে নিউ জার্সির একটি ফেডারেল আদালত তাকে মুক্তির নির্দেশ দেয়। তবে চলতি বছরের শুরুতে তার মামলায় একটি বড় ধাক্কা আসে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের একটি আপিল আদালতের প্যানেল ২-১ ভোটে রায় দেয় যে নিউ জার্সির বিচারক তার ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করে খলিলকে মুক্তি দিয়েছিলেন। আদালত জানায়, ফেডারেল আদালতে চ্যালেঞ্জ করার আগে মামলাটি সম্পূর্ণভাবে ইমিগ্রেশন আদালতের প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে।

বর্তমানে খলিলের আইনজীবীরা এ রায় পুনর্বিবেচনার জন্য পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চের কাছে আবেদন করেছেন। এছাড়া তারা আপিল প্যানেলের এক বিচারকের বিরুদ্ধে আপত্তি তুলেছেন, যিনি পূর্বে বিচার বিভাগে দায়িত্ব পালনকালে শিক্ষার্থী আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে তদন্তের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই মামলা শুধু একজন অভিবাসীর আইনি লড়াই নয়; বরং যুক্তরাষ্ট্রে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক অবস্থান এবং অভিবাসন আইনের প্রয়োগ নিয়ে একটি বড় প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। মামলার চূড়ান্ত ফলাফল ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনাগুলোর ওপরও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন