১৮ এপ্রিল ২০২৬, শনিবার, ০৬:৪২:৪১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার পেলেন সেই শিক্ষিকা মাহেরীন চৌধুরী আজ ১৭ এপ্রিল, ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস টাইম ম্যাগাজিনে বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খালেদা জিয়া সহ দেশের ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও পাঁচ প্রতিষ্ঠানকে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ পদক প্রদান যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েল নিয়ে জনমত বদলাচ্ছে টেক্সাসে পাঠ্যক্রমে ইসলাম ও সংখ্যালঘু ইতিহাস পরিবর্তন ঘিরে তীব্র বিতর্ক ট্রাম্প অ্যাকাউন্টস : চার মিলিয়নের বেশি শিশু নিবন্ধিত নিউ ইয়র্কে ২-কে চাইল্ড কেয়ার হবে পূর্ণ দিবস ও বছরব্যাপী ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থীদের ডিপোর্টেশন ঠেকানোর রায় দেওয়ায় দুই অভিবাসন বিচারককে বরখাস্তের অভিযোগ ইমিগ্রেশন আপিল বোর্ডে মাহমুদ খলিলের আপিল খারিজ


ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন পদক্ষেপ : সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর বাতিল
৬০০ জীবিত অভিবাসীকে ‘মৃত’ ঘোষণা
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ১৬-০৪-২০২৫
৬০০ জীবিত অভিবাসীকে ‘মৃত’ ঘোষণা সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড


যুক্তরাষ্ট্রে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন আবারও অভিবাসন নীতিতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এবার ছয় শতাধিক জীবিত অভিবাসী, যাদের বেশির ভাগই লাতিনোকে ‘মৃত’ হিসেবে ঘোষণা করে, তাদের সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর বাতিল করা হয়েছে। এতে তাদের বৈধভাবে কাজ করা, সরকারি সুবিধা পাওয়া এবং ব্যাংকিংসহ অন্যান্য মৌলিক সেবা গ্রহণ কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, এসব অভিবাসীর নাম ও সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর মৃতদের তথ্য সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত ফেডারেল ডাটাবেজ ‘ডেথ মাস্টার ফাইল’-এ স্থানান্তরিত করা হয়েছে, যদিও তারা কেউই বাস্তবে মৃত নন। কীভাবে এই অভিবাসীদের নির্বাচন করা হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ধারণা করা হচ্ছে, বাইডেন প্রশাসনের অধীনে সিপিবি ওয়ান অ্যাপ ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশকারী প্রায় ৯ লাখ অভিবাসীর মধ্য থেকেই এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে। ১৪ এপ্রিল হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ তাদের বৈধ অবস্থান বাতিল করে এবং ‘স্বেচ্ছায়’ নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়।

হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানান, এ পদক্ষেপের লক্ষ্য অবৈধ অভিবাসীদের স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগে বাধ্য করা। দাবি করা হচ্ছে, এসব অভিবাসীর মধ্যে কেউ কেউ অপরাধ বা সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে জড়িত; যদিও এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র এলিজাবেথ হাসটন বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গণনির্বাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। অবৈধ অভিবাসীদের আর্থিক প্রণোদনা বন্ধ করে আমরা তাদের স্বদেশে ফিরে যাওয়ার জন্য উৎসাহিত করছি। এ পদক্ষেপে জড়িত রয়েছে ইলন মাস্কের নেতৃত্বাধীন ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিসিয়েন্সি টিম, যাদের কাজ হলো সরকারি ব্যয় হ্রাস ও কর্মী ছাঁটাই। তারা দাবি করেছেন, অভিবাসীদের জন্য অতিরিক্ত সরকারি ব্যয় কমাতেই এই পদক্ষেপ জরুরি।

বর্তমান ও সাবেক সোশ্যাল সিকিউরিটি কর্মকর্তারা এই সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের মতে, জীবিত কাউকে মৃত হিসেবে ঘোষণা করা যুক্তরাষ্ট্রের প্রাইভেসি আইনের সরাসরি লঙ্ঘন। এমনকি সোসাল সিকিউরিটি কর্তৃপক্ষের একটি ব্লগ পোস্টেও বলা হয়েছে, কাউকে ভুলক্রমে মৃত হিসেবে তালিকাভুক্ত করা ‘ধ্বংসাত্মক’ হতে পারে এবং এতে গুরুতর আর্থিক ক্ষতি হতে পারে।

ডেমোক্রেসি ফরওয়ার্ডের প্রেসিডেন্ট স্কাই পেরিম্যান জানিয়েছেন, এ প্রেসিডেন্ট একাধিকবার আইন লঙ্ঘন করছেন এবং চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স সিস্টেমের অপব্যবহার করছেন। আমরা এ পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার কথা ভাবছি।

এই ৬ হাজার অভিবাসীর মধ্যে প্রায় ১ হাজার জন মেডিকেইড সুবিধা পাচ্ছিলেন, ৪১ জন বেকার ভাতা এবং ২২ জন শিক্ষার্থী ঋণগ্রহণ করেছিলেন। এখন তারা ‘মৃত’ তালিকাভুক্ত হওয়ায় এসব সুবিধা বন্ধ হয়ে গেছে বা বন্ধ হওয়ার পথে।

এই পদক্ষেপের ফলে শুধু সরকারি সুবিধাই নয়, কাজের সুযোগ, আবাসন সুবিধা ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের ক্ষমতাও ঝুঁকিতে পড়েছে। মানবাধিকার সংস্থা ও সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে এ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।অনেকেই মনে করছেন, এটি ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসনবিরোধী কঠোর নীতিরই আরো একটি নজির, যা যুক্তরাষ্ট্রের মৌলিক মানবাধিকার ও আইনি কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে উঠছে।

শেয়ার করুন