২৮ মে ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০৪:১৫:৩৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
অ্যাডভান্সড প্যানক্রিয়াটিক ক্যানসার চিকিৎসায় যুগান্তকারী অগ্রগতি ইসলামবিদ্বেষী গ্রাফিতি ঘিরে মুসলিম কম্যুনিটিতে আতঙ্ক যুক্তরাষ্ট্রে মর্টগেজ সুদের হার ৯ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ ইসরায়েল ডে প্যারেড বর্জনের ঘোষণা জোহরান মামদানির ওজনপার্ক মসজিদ আল-আমানের নতুন কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠিত ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিতেই চলবে ভিসা ও অভিবাসন ব্যবস্থা, বললেন রুবিও নিউইয়র্কে ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য এক্সেলসিয়র স্কলারশিপ আবেদন শুরু ৪ লাখ সাশ্রয়ী আবাসনের পরিকল্পনা ঘোষণা মেয়রের উপকূলের ১৯ জেলার প্রাণ-প্রকৃতি ঝুঁকিতে মাহমুদ খলিলকে ডিপোর্ট ঠেকাতে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার প্রস্তুতি


মাহমুদ খলিলকে ডিপোর্ট ঠেকাতে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার প্রস্তুতি
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৭-০৫-২০২৬
মাহমুদ খলিলকে ডিপোর্ট ঠেকাতে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার প্রস্তুতি কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির সাবেক গ্রাজুয়েট স্টুডেন্ট মাহমুদ খলিল


ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনের পরিচিত মুখ এবং সাবেক কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির গ্র‍্যাজুয়েট স্টুডেন্ট মাহমুদ খলিলকে ডিপোর্ট করার সরকারি প্রচেষ্টা ঘিরে আইনি লড়াই নতুন মোড়ে পৌঁছেছে। ফেডারেল আপিল কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ একটি রায় বহাল রাখার পর এবার যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন খলিলের আইনজীবীরা। গত শুক্রবার ফিলাডেলফিয়াভিত্তিক থার্ড ইউএস সার্কিট কোর্ট অব আপিলস পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে মামলাটি পুনর্বিবেচনার আবেদন ৬-৫ ভোটে খারিজ করে দেয়। এর ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের ডিপোর্টেশন প্রক্রিয়া আরো একধাপ এগিয়ে যায়। এর আগে জানুয়ারিতে থার্ড সার্কিটের তিন বিচারকের একটি প্যানেল রায় দেয় যে, নিউ জার্সির ফেডারেল জাজ মাইকেল ফারবিয়ার্জ মাহমুদ খলিলের আটকাদেশ ও মুক্তি সংক্রান্ত বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার জুরিসডিকশন রাখেন না। আদালত জানায়, ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত এ ধরনের বিরোধ আগে ইমিগ্রেশন কোর্ট সিস্টেমের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। এ সিস্টেমটি যুক্তরাষ্ট্রের জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট পরিচালনা করে এবং এটি সাধারণ ফেডারেল জুডিশিয়াল সিস্টেম থেকে আলাদা। 

খলিলের পক্ষে থাকা আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন বা এসিএলইউ জানিয়েছে, তারা থার্ড সার্কিটের কাছে রায় কার্যকর স্থগিতের আবেদন করেছে, যাতে সুপ্রিম কোর্টে আপিল চলাকালে খলিলকে আটক বা ডিপোর্ট করা না যায়। এসিএলইউর সিনিয়র কাউন্সেল ব্রেট ম্যাক কফম্যান এক বিবৃতিতে বলেন, আজকের সিদ্ধান্তই শেষ কথা নয়। আমরা এখনো বিশ্বাস করি যে, পরবর্তী ধাপগুলোতে আমাদের কনস্টিটিউশনাল আর্গুমেন্টগুলো শক্ত অবস্থানে রয়েছে। তবে মামলার মূল প্রশ্ন-ট্রাম্প প্রশাসন মাহমুদ খলিলকে তার ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলন ও ইসরায়েলবিরোধী বক্তব্যের কারণে ডিপোর্ট করতে চাইছে কি না এবং তা অসাংবিধানিক কি না-এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত রায় হয়নি। 

থার্ড সার্কিটের জাজ শেরিল অ্যান ক্রাউস, যিনি মামলাটি পূর্ণ বেঞ্চে শুনানির পক্ষে ছিলেন, ভিন্নমত পোষণ করে বলেন, আদালত খলিলের কনস্টিটিউশনাল দাবিগুলো অর্থবহভাবে পর্যালোচনার দায়িত্ব এড়িয়ে যাচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, জুডিশিয়াল ব্রাঞ্চ যদি নিজেই নিজেকে অপ্রাসঙ্গিক করে তোলে, তাহলে এক্সিকিউটিভ ব্রাঞ্চের ওপর সাংবিধানিক নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে পড়বে। 

৩১ বছর বয়সী মাহমুদ খলিল বর্তমানে লুইজিয়ানায় দায়ের করা আরেকটি আপিল মামলাও লড়ছেন। সেখানে বোর্ড অব ইমিগ্রেশন আপিলস তার ডিপোর্টেশন অর্ডার বহাল রেখেছে। খলিলের আইনজীবীদের দাবি, ইমিগ্রেশন জাজ তার পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ এভিডেন্স বিবেচনা করেননি এবং গ্রিনকার্ড অ্যাপ্লিকেশনে তথ্য গোপনের অভিযোগ ভুলভাবে বহাল রেখেছেন। তাদের মতে, এই অভিযোগ মূলত তার রাজনৈতিক প্রতিবাদ কর্মকাণ্ডের প্রতিশোধ হিসেবে আনা হয়েছে। 

ইমিগ্রেশন জাজ ইঙ্গিত দিয়েছেন, খলিলকে আলজেরিয়া বা সিরিয়ায় পাঠানো হতে পারে। দূরসম্পর্কীয় আত্মীয়ের সূত্রে তিনি আলজেরিয়ার সিটিজেনশিপ দাবি করতে পারেন, আর সিরিয়ায় তিনি একটি ফিলিস্তিনি রিফিউজি ক্যাম্পে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তবে তার আইনজীবীরা বলছেন, ওই দুদেশে ফেরত পাঠানো হলে তিনি ‘মর্টাল ডেঞ্জারের’ মুখে পড়বেন। কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটিতে ফিলিস্তিনপন্থী স্টুডেন্ট আন্দোলনের একজন প্রকাশ্য সংগঠক হিসেবে পরিচিত খলিলকে ২০২৫ সালের মার্চে গ্রেফতার করা হয়। এরপর তিনি লুইজিয়ানার একটি ইমিগ্রেশন ডিটেনশন সেন্টারে তিন মাস বন্দি ছিলেন। সে সময় তিনি নিজের সন্তানের জন্মও দেখতে পারেননি। 

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন, খলিল এমন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছেন যা হামাসের সঙ্গে অ্যালাইন্ড। যদিও এ দাবির পক্ষে সরকার এখন পর্যন্ত কোনো অ্যাভিডেন্স প্রকাশ করেনি এবং তার বিরুদ্ধে কোনো ক্রিমিনাল চার্জও আনা হয়নি। খলিল এসব অভিযোগকে বেসলেস এবং রিডিকিউলাস বলে বর্ণনা করেছেন। তার ভাষায়, স্বাধীন ফিলিস্তিন এবং গাজায় জেনোসাইড বন্ধের দাবিতে কথা বলার কারণেই আমাকে গ্রেফতার ও আটক করা হয়েছে। 

ট্রাম্প প্রশাসন একটি খুব কম ব্যবহৃত স্ট্যাটিউটের আওতায় খলিলকে ডিপোর্ট করার চেষ্টা করছে। ওই আইনে বলা হয়েছে, এমন কোনো ননসিটিজেনকে বহিষ্কার করা যেতে পারে যার মতাদর্শ বা কর্মকাণ্ড যুক্তরাষ্ট্রের ফরেন পলিসি ইন্টারেস্টের জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত হয়। ২০২৫ সালের জুনে জাজ মাইকেল ফারবিয়ার্জ মন্তব্য করেন, সরকারের এ যুক্তি সম্ভবত আনকনস্টিটিউশনাল ঘোষিত হবে এবং তিনি খলিলের মুক্তির নির্দেশ দেন। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন সে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে। পরে থার্ড সার্কিট ২-১ ভোটে প্রশাসনের পক্ষে অবস্থান নেয়। 

উল্লেখ্য, স্টুডেন্ট আন্দোলন তদন্তে জড়িত সাবেক জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট কর্মকর্তা জাজ এমিল বোভ মামলাটির পূর্ণাঙ্গ পুনর্বিবেচনা ভোটে অংশ নেননি। পরে তিনি নিজেকে মামলা থেকে সরিয়ে নেওয়ার আবেদনও খারিজ করে দেন। 

শেয়ার করুন