১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ৬:৩৪:২৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার বন্ধ : ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা মসজিদ ও ডিয়ারবর্নের মেয়রকে হুমকির অভিযোগে রোজভিলের নারী অভিযুক্ত ইসলামবিরোধী বক্তব্যের বিরুদ্ধে টেক্সাসে মুসলিমদের পাল্টা লড়াই তিন ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীকে গুলি : জেসন ইটন দোষী সাব্যস্ত অনথিভুক্ত শিশুদের সরকারি শিক্ষার অধিকার নিয়ে নতুন বিতর্ক প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রবাসী বাংলাদেশী ফোরামের ৯ দাবি ‘বেস্ট অব দ্য ওয়েস্ট’ ইয়ুথ লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ডে সম্মানিত তাহমিদ চৌধুরী সরকারি কর্মকর্তা সেজে বাড়ছে প্রতারণা চল্লিশ বছর আগের সেই দিনটির কথা দিয়েই শুরু ড. খলিলের চুক্তি না হলে ইরানকে ধ্বংসের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের


আদালতে সিএনএন-এমএস নাও-পলিটিকো
হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার বন্ধ : ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৩-০৯-২০২৬
হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার বন্ধ : ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা


হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের বিরুদ্ধে গত ২১ সেপ্টেম্বর মামলা করেছে তিনটি জাতীয় সংবাদমাধ্যম: সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকো। ওয়াশিংটন ডিসির ইউএস ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট ফর দ্য ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়ায় মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলাটির নম্বর ১:২৬-সিভি-০৩২৮৭ এবং এটি ফেডারেল বিচারক টিমোথি জে. কেলির কাছে শুনানির জন্য পাঠানো হয়েছে।

মামলায় তিন সংবাদমাধ্যম অভিযোগ করেছে, তাদের সাংবাদিকদের প্রেস-ক্রেডেনশিয়াল বাতিল এবং হোয়াইট হাউসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ফার্স্ট অ্যামেন্ডমেন্টে সুরক্ষিত সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং ফিফথ অ্যামেন্ডমেন্টের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অধিকার লঙ্ঘন করেছে। তারা আদালতের কাছে জরুরি ভিত্তিতে একটি টেম্পোরারি রেস্ট্রেইনিং অর্ডার (টিআরো) চেয়েছে, যাতে সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার পুনর্বহাল করা হয়।

আদালতে আজ বুধবার মামলাটির অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদনের ওপর শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। বিচারক টিমোথি জে. কেলি এর আগে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে সিএনএনের তৎকালীন হোয়াইট হাউস প্রতিবেদক জিম আকোস্তার প্রেস-ক্রেডেনশিয়াল পুনর্বহালের পক্ষে সাময়িক আদেশ দিয়েছিলেন।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর ট্রাম্প সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোকে হোয়াইট হাউস থেকে নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দেন। এরপর গত ১৯ সেপ্টেম্বর তিন প্রতিষ্ঠানের সাংবাদিকরা হোয়াইট হাউসে প্রবেশ করতে গেলে তাদের প্রেস ব্যাজ নিষ্ক্রিয় থাকার কথা জানানো হয় এবং কয়েকজন সাংবাদিকের ব্যাজ সিক্রেট সার্ভিস জব্দ করে।

তিন সংবাদমাধ্যমের অভিযোগ, তাদের প্রতিবেদন ট্রাম্প প্রশাসনের পছন্দ না হওয়ার কারণেই প্রবেশাধিকার বাতিল করা হয়েছে। মামলায় তারা বলেছে, সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিষয়বস্তুর ভিত্তিতে সরকারি প্রবেশাধিকার সীমিত করা হলে তা মতভিত্তিক বৈষম্যের প্রশ্ন তৈরি করে। তারা আরো বলেছে, এ ধরনের পদক্ষেপ বহাল থাকলে ভবিষ্যতে অন্য সংবাদপ্রতিষ্ঠানও সরকারের অপছন্দের প্রতিবেদন প্রকাশের কারণে একই ধরনের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। গত ২১ নেপ্টেম্বর সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বলেন, হোয়াইট হাউস মুক্ত সংবাদমাধ্যমের ওপর আক্রমণ করছে না; বরং তার ভাষায়, প্রশাসন ফেক নিউজ-এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে। হোয়াইট হাউসও বলেছে, প্রেসের স্বাধীনতা সংবিধান দ্বারা সুরক্ষিত হলেও কোনো নির্দিষ্ট সংবাদপ্রতিষ্ঠানের সাংবাদিকের হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার সাংবিধানিক অধিকার হিসেবে নিশ্চিত নয়।

এই বিরোধের মধ্যে প্রেসিডেন্টের নিয়মিত টেলিভিশন প্রেস পুল নিয়েও নতুন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সিএনএনকে প্রেস পুলের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর অন্যান্য বড় টেলিভিশন নেটওয়ার্কও ট্রাম্পের নিউইয়র্ক সফরের ভিডিও কভারেজ নিয়ে যৌথভাবে কাজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ট্রাম্পের সফরের কিছু কর্মসূচি নিয়মিত টেলিভিশন পুল কভারেজ ছাড়াই অনুষ্ঠিত হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়।

মামলায় সংবাদমাধ্যমগুলো ১৯৭৭ সালের একটি ফেডারেল আপিল আদালতের নজিরসহ আগের কয়েকটি মামলার কথা উল্লেখ করেছে। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে সিএনএনের সাংবাদিক জিম আকোস্তার প্রেস পাস বাতিলের ঘটনায়ও আদালত সাময়িকভাবে তার প্রবেশাধিকার পুনর্বহাল করেছিল। বর্তমান মামলায় সেই আইনি নজিরগুলোর প্রাসঙ্গিকতা নিয়েই আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করা হবে।

তিন সংবাদমাধ্যমের পক্ষে ফার্স্ট অ্যামেন্ডমেন্ট আইনজীবী থিওডোর জে. বুট্রস জুনিয়র আদালতে প্রতিনিধিত্ব করছেন। তিনি বলেছেন, হোয়াইট হাউসে প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার প্রশ্ন তৈরি করেছে। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার একটি প্রশাসনিক সুবিধা, কোনো সংবাদমাধ্যমের অবাধ প্রবেশের সাংবিধানিক অধিকার নয়। মামলার ফলাফলের মাধ্যমে শুধু সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোর হোয়াইট হাউস প্রবেশাধিকার নয়, প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের সম্পর্ক এবং সরকারি স্থাপনায় সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকারের আইনি সীমা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা আসতে পারে।

শেয়ার করুন