ফ্লোরিডার ওচোপিতে অ্যালিগেটর আলকাট্রাজ নামে পরিচিত অস্থায়ী অভিবাসন আটককেন্দ্র পরিদর্শন করছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ফ্লোরিডার বহুল আলোচিত অভিবাসন আটককেন্দ্র ‘অ্যালিগেটর আলকাট্রাজে’ ৭৯ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে কয়েক মিনিট থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা পর্যন্ত ছোট ধাতব ঘেরের মধ্যে রাখা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (ডিএইচএস) অফিস অব ইন্সপেক্টর জেনারেলের (ওআইজি) নতুন এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব ঘেরের প্রতিটির মেঝের আয়তন ছিল প্রায় ১৮ বর্গফুট।
ওআইজির কর্মকর্তারা ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে কেন্দ্রটিতে আকস্মিক পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের সময় তারা দেখতে পান, আটকদের জন্য ব্যবহৃত ছোট ধাতব ঘেরগুলোকে কেন্দ্রের কর্মীরা ‘কামিং এরিয়া’ বা শান্ত হওয়ার স্থান হিসেবে বর্ণনা করছেন। কর্মীদের দাবি ছিল, এসব ঘেরে রাখা হলে আটক ব্যক্তিরা পরিস্থিতি থেকে কিছুটা দূরে সরে শান্ত হতে পারতেন এবং কিছু আটক ব্যক্তি নিজেরাই সেখানে থাকার অনুরোধ করতেন। তবে ওআইজির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ধরনের ছোট ধাতব ঘের ব্যবহার করে আটক রাখার ঘটনা তারা আগে কোনো আইসিই আটককেন্দ্রে দেখেনি। প্রতিবেদনে বলা হয়, এ ধরনের সীমাবদ্ধ স্থানে মানুষকে রাখা অত্যন্ত অস্বাভাবিক এবং মানবিক আচরণের মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৭ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ১৮ জানুয়ারির মধ্যে ৭৯ জন আটক ব্যক্তিকে এসব ধাতব ঘেরে রাখা হয়। তাদের সেখানে থাকার গড় সময় ছিল এক ঘণ্টার কিছু কম। সর্বনিম্ন কয়েক মিনিট এবং সর্বোচ্চ প্রায় দুই ঘণ্টা পর্যন্ত তাদের সেখানে রাখা হয়েছিল। কেন্দ্রের ভেতরে থাকা ঘেরের পাশাপাশি বাইরে অন্তত দুটি ধাতব ঘেরও পরিদর্শকরা দেখতে পান। ওআইজি আরো জানায়, অন্তত একটি ঘটনায় এসব ঘের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধাতব ঘেরগুলোর দরজায় তালা লাগানোর ব্যবস্থা ছিল। তবে কেন্দ্রের কর্মীরা পরিদর্শকদের জানিয়েছিলেন যে এগুলোতে আটক ব্যক্তিদের তালাবদ্ধ করা হতো না।
আটককেন্দ্রটির আবাসন ব্যবস্থাতেও অতিরিক্ত ভিড়ের তথ্য পাওয়া গেছে। কেন্দ্রটির আটটি আবাসন ইউনিটে প্রতিটিতে ২২ থেকে ৩১ জন করে আটক ব্যক্তি ছিলেন। পরিদর্শকদের কাছে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এসব ইউনিটে ফেডারেল মানদণ্ড অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত জায়গার তুলনায় কম জায়গা ছিল। শুধু আবাসন নয়, পানীয় পানি ও ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা নিয়েও সমস্যা পাওয়া যায়। আটক ব্যক্তিরা পরিদর্শকদের জানান, তারা পর্যাপ্ত পরিষ্কার পানীয় পানি পেতেন না এবং সপ্তাহে তিনবার গোসলের সুযোগ পেতেন। গোসলের স্থানগুলোতে ছোট পোকামাকড়ের উপস্থিতিও পরিদর্শকরা দেখতে পান।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, কেন্দ্রটি পরিচালনার ক্ষেত্রে কোন আটক মানদণ্ড অনুসরণ করা হচ্ছিল, তা স্পষ্ট ছিল না। ডিএইচএসের পক্ষ থেকে বলা হয়, কেন্দ্রটির দৈনন্দিন পরিচালনার কর্তৃত্ব ফ্লোরিডা রাজ্যের হাতে ছিল। অন্যদিকে, আইসিই আটক ব্যক্তিদের জন্য নির্ধারিত মানদণ্ড প্রযোজ্য হওয়ার কথা থাকলেও ফ্লোরিডা ঠিক কোন মানদণ্ড অনুসরণ করছিল, তা নিয়ে পরিদর্শকদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়।ডিএইচএসের একজন মুখপাত্র অবশ্য প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগের বিরোধিতা করেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, অ্যালিগেটর আলকাট্রাজ আগের প্রশাসনগুলোর সময় ব্যবহৃত একই ফেডারেল আটক মানদণ্ড অনুসরণ করেছিল এবং অমানবিক পরিস্থিতি বা অতিরিক্ত শক্তি ব্যবহারের অভিযোগকে তিনি অস্বীকার করেন।
ফ্লোরিডা গভর্নর রন ডেস্যান্টিসের যোগাযোগবিষয়ক পরিচালকও প্রতিবেদন নিয়ে মন্তব্য করেছেন। তিনি দাবি করেন, ধাতব ঘেরগুলো সহিংস অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের জন্য ব্যবহৃত হতো এবং কেন্দ্রটি ফেডারেল মানদণ্ড মেনে চলেছে বলে দাবি করেন।
‘অ্যালিগেটর আলকাট্রাজ’ ২০২৫ সালের গ্রীষ্মে ফ্লোরিডার এভারগ্লেডস এলাকার একটি বিমানবন্দরের রানওয়েতে দ্রুত নির্মাণ করে চালু করা হয়। পরে কেন্দ্রটি ২০২৬ সালের জুনে কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। ফলে ওআইজির প্রতিবেদনে দেওয়া সংশোধনী সুপারিশগুলো কেন্দ্রটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে আর কার্যকর করা হয়নি। কেন্দ্রটি এখন বন্ধ থাকলেও সেখানে আটকদের কী ধরনের পরিবেশে রাখা হয়েছিল এবং অভিবাসন আটককেন্দ্রে ফেডারেল ও রাজ্য কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব কী? এসব প্রশ্ন নতুন করে সামনে এসেছে।