১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ৬:৩৩:৫৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার বন্ধ : ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা মসজিদ ও ডিয়ারবর্নের মেয়রকে হুমকির অভিযোগে রোজভিলের নারী অভিযুক্ত ইসলামবিরোধী বক্তব্যের বিরুদ্ধে টেক্সাসে মুসলিমদের পাল্টা লড়াই তিন ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীকে গুলি : জেসন ইটন দোষী সাব্যস্ত অনথিভুক্ত শিশুদের সরকারি শিক্ষার অধিকার নিয়ে নতুন বিতর্ক প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রবাসী বাংলাদেশী ফোরামের ৯ দাবি ‘বেস্ট অব দ্য ওয়েস্ট’ ইয়ুথ লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ডে সম্মানিত তাহমিদ চৌধুরী সরকারি কর্মকর্তা সেজে বাড়ছে প্রতারণা চল্লিশ বছর আগের সেই দিনটির কথা দিয়েই শুরু ড. খলিলের চুক্তি না হলে ইরানকে ধ্বংসের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের


ডেটিং অ্যাপে ‘প্রথাগত গৃহিণীর’ ছদ্মবেশ, এফবিআইয়ের সতর্কতা
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৩-০৯-২০২৬
ডেটিং অ্যাপে ‘প্রথাগত গৃহিণীর’ ছদ্মবেশ, এফবিআইয়ের সতর্কতা এফবিআই


যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্মকর্তাদের অনলাইনে ফাঁদে ফেলে তাদের পরিচয় প্রকাশ এবং ব্যক্তিগত তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য একদল নারী ভুয়া ডেটিং প্রোফাইল তৈরি করছিল বলে সতর্ক করেছিল ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)। ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালে এফবিআইয়ের শিকাগো ফিল্ড অফিস থেকে এ বিষয়ে একটি অভ্যন্তরীণ মেমো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন সংস্থার কাছে পাঠানো হয়। মেমোতে বলা হয়, জানুয়ারি ২০২৬ সালে অল্পসংখ্যক নারী অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে ভুয়া অনলাইন ডেটিং অ্যাকাউন্ট তৈরি করেছিলেন। এসব প্রোফাইলে ট্র‍্যাডিশনাল ওয়াইফ বা ঐতিহ্যবাহী গৃহিণীর জীবনধারার ছবি ও পরিচয় ব্যবহার করা হয়েছিল। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের আকৃষ্ট করার জন্য তাদের পছন্দ ও আগ্রহের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিভিন্ন তথ্যও দেওয়া হয়েছিল।

এফবিআইয়ের মেমো অনুযায়ী, কথিত পরিকল্পনার উদ্দেশ্য ছিল অভিবাসন প্রয়োগকারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের অনলাইনে অথবা সরাসরি সাক্ষাতের জন্য প্রলুব্ধ করা। এরপর তাদের পরিচয় প্রকাশ্যে তুলে ধরে ব্যক্তিগত তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। এ ধরনের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের কর্মকাণ্ডকে ডক্সিং বলা হয়। মেমোতে বলা হয়, এই কৌশলের উদ্দেশ্য ছিল সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা কর্মকর্তাদের জনসমক্ষে বিব্রত করা এবং অভিবাসন আইন প্রয়োগের কার্যক্রম থেকে তাদের নিরুৎসাহিত করা।

তবে মেমোতে ভুয়া ডেটিং প্রোফাইলগুলো কোথায় তৈরি করা হয়েছিল, কোন ডেটিং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা হয়েছিল কিংবা এসব প্রোফাইলে কী ধরনের নির্দিষ্ট তথ্য দেওয়া হয়েছিল, তার কোনো উদাহরণ প্রকাশ করা হয়নি। কোনো অভিবাসন কর্মকর্তাকে বাস্তবে এসব প্রোফাইলের মাধ্যমে ফাঁদে ফেলা বা তার ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছিল কি না, সেটিও মেমোতে নিশ্চিত করা হয়নি। সরকারি স্বচ্ছতা নিয়ে কাজ করা অলাভজনক প্রতিষ্ঠান প্রপার্টি অব দ্য পিপল একটি অঙ্গরাজ্যের তথ্য অধিকার আইনের আওতায় নথিটি সংগ্রহ করে। পরে নথিটি এনবিসি নিউজের কাছে সরবরাহ করা হয়। এফবিআইও মেমোটির সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

এফবিআই এক বিবৃতিতে জানায়, নির্দিষ্ট গোয়েন্দা নথি নিয়ে তারা সাধারণত মন্তব্য করে না। তবে জনগণ এবং দায়িত্ব পালনকারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নিরাপত্তায় সহায়তার জন্য সংস্থাটি নিয়মিতভাবে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী অংশীদারদের কাছে তথ্য সরবরাহ করে। ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালের এই সতর্কবার্তা এমন এক সময়ে আসে, যখন যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অভিবাসন আইন প্রয়োগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ও প্রতিবাদ চলছিল। মিনেসোটার টুইন সিটিজ এলাকায় হাজার হাজার অভিবাসন কর্মকর্তা মোতায়েন করে ফেডারেল সরকার অপারেশন মেট্রো সার্জ নামে অভিযান পরিচালনা করেছিল।

জানুয়ারি মাসে মিনিয়াপোলিসে অভিবাসন আইন প্রয়োগবিরোধী বিক্ষোভের সময় মার্কিন নাগরিক রেনে গুড ও অ্যালেক্স প্রেটি নিহত হওয়ার পর ওই অভিযান ধীরে ধীরে কমিয়ে আনা হয়। ঘটনাগুলো যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ এবং ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি করে।অন্যদিকে, শিকাগোতে এর কয়েক মাস আগে অপারেশন মিডওয়ে ব্লিটজ নামে একটি বড় ধরনের অভিবাসন অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল। তবে এফবিআইয়ের ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালের মেমোতে ভুয়া ডেটিং প্রোফাইল তৈরির কথিত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ওই অভিযানের সরাসরি কোনো সম্পর্কের কথা বলা হয়নি।

প্রকাশিত নথি অনুযায়ী, এফবিআইয়ের সতর্কবার্তার মূল বিষয় ছিল অভিবাসন কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে কথিত একটি অনলাইন প্রতারণামূলক কৌশলের সম্ভাবনা। তবে কোনো কর্মকর্তাকে বাস্তবে ফাঁদে ফেলা বা ডক্সিংয়ের শিকার করা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে মেমোতে নিশ্চিত কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।

শেয়ার করুন