২৩ জুলাই ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০৩:১৬:২১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
স্ত্রী-সন্তানকে বাঁচাতে গিয়ে দগ্ধ নোয়াখালীর সোহাগের মৃত্যু ব্রঙ্কসে ‘ডিটেকটিভ ফার্স্ট গ্রেড দিদারুল ইসলাম ওয়ে’ ফিলাডেলফিয়ার মসজিদে অগ্নিবোমা হামলা : গ্রেফতার ভিনসেন্ট ল্যাং নেতানিয়াহুকে গ্রেফতারের আইনি সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন মেয়র ইতিহাসের দ্বারপ্রান্তে আবদুল এল-সায়েদ নিউইয়র্কে ২.১ বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক কার্যক্রম সৃষ্টি, পর্যটন ও ব্যবসায় বড় সাফল্য টেক্সাসে মুসলিম শিক্ষাবিদের মামলা গ্রিনকার্ড আবেদনকারীদের জন্য ১ লাখ ডলারের বন্ড বিবেচনায় ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসন অভিযানে ব্যাপক নাগরিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এসিএলইউর প্রতিবেদনে গ্রিনকার্ড মূল্যায়নে মেডিকেইড, ফুড স্ট্যাম্প ও আবাসন সহায়তা বিবেচনায় নেবে ট্রাম্প প্রশাসন


২০২৫ সালে ‘পাবলিক চার্জ’ পর্যালোচনায় ৫ লাখ ৮৮ হাজার গ্রিনকার্ড আবেদনকারী
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ২২-০৭-২০২৬
২০২৫ সালে ‘পাবলিক চার্জ’ পর্যালোচনায় ৫ লাখ ৮৮ হাজার গ্রিনকার্ড আবেদনকারী ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি


যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিনকার্ড আবেদনের ক্ষেত্রে ‘পাবলিক চার্জ’ বিধির আওতায় ২০২৫ সালে প্রায় ৫ লাখ ৮৮ হাজার আবেদনকারী পর্যালোচনার মুখোমুখি হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি। সংস্থাটি তথ্য অনুযায়ী, গ্রিনকার্ড আবেদনকারীরা ভবিষ্যতে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন কি না, তা মূল্যায়নের অংশ হিসেবেই এ পর্যালোচনা করা হয়। অতীতে মূলত নগদ সহায়তা কর্মসূচি বিবেচনায় নেওয়া হলেও, নতুন নীতির আওতায় আয়ভিত্তিক আরো বিভিন্ন সরকারি সহায়তা কর্মসূচিও মূল্যায়নের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

ডিএইচএস আরো জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন ‘পাবলিক চার্জ’ নীতির কারণে অনেক অভিবাসী পরিবার সরকারি সুবিধা গ্রহণে অনীহা দেখাতে পারে। ডিএইচএসের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৯ লাখ ৫০ হাজার মানুষ মেডিকেইড, খাদ্য সহায়তা (ফুড স্ট্যাম্প), শিশু স্বাস্থ্য বীমা এবং ফেডারেল আবাসন সহায়তাসহ ছয়টি সরকারি কর্মসূচি থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করতে পারেন অথবা নতুন করে আবেদন না-ও করতে পারেন।

অভিবাসন অধিকারকর্মীদের আশঙ্কা, গ্রিনকার্ড আবেদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার ভয়ে অনেক যোগ্য পরিবার স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্য সহায়তা এবং অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা গ্রহণ থেকেও বিরত থাকতে পারে। তাদের মতে, এর প্রভাব বিশেষ করে নিম্ন আয়ের অভিবাসী পরিবার এবং তাদের শিশুদের ওপর বেশি পড়বে।

গ্রিনকার্ড পেতে কঠোর হচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিনকার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে নতুন করে কঠোর নীতি চালু করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা গ্রহণ বা ভবিষ্যতে সেসব সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকলে গ্রিনকার্ড আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে তা নেতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হতে পারে।সোমবার প্রকাশিত চূড়ান্ত বিধিমালায় বলা হয়েছে, অভিবাসন কর্মকর্তারা এখন গ্রিনকার্ড আবেদনকারীদের ‘পাবলিক চার্জ’ বা সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার সম্ভাবনা মূল্যায়নের সময় আগের তুলনায় আরো বিস্তৃত পরিসরের সরকারি সুবিধা বিবেচনায় নিতে পারবেন। এর মাধ্যমে ২০২২ সালে বাইডেন প্রশাসনের চালু করা নীতি বাতিল করা হয়েছে, যেখানে নগদ নয়, এমন সুবিধাগুলো মূল্যায়নের বাইরে রাখা হয়েছিল।

ডিএইচএস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এ নীতির উদ্দেশ্য হলো অভিবাসীদের আত্মনির্ভরশীলতা নিশ্চিত করা, সরকারি সম্পদের সুরক্ষা করা এবং করদাতাদের অর্থের ওপর নির্ভরশীলতা কমানো। অতীতে মূলত নগদ সহায়তা, যেমন টেম্পোরারি অ্যাসিস্ট্যান্স ফর নিডি ফ্যামিলিজ এবং সাপ্লিমেন্টাল সিকিউরিটি ইনকাম গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনা করা হতো। তবে নতুন নীতির আওতায় আয়ভিত্তিক আরো বিভিন্ন সরকারি সহায়তা কর্মসূচিও মূল্যায়নের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। অভিবাসন অধিকারকর্মীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, নতুন নিয়মের ফলে বহু অভিবাসী পরিবার খাদ্য সহায়তা, মেডিকেইড, শিশু স্বাস্থ্যবীমা, আবাসন ভর্তুকি এবং অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে নাম নিবন্ধন করতে ভয় পাবে। এমনকি যেসব সুবিধা তাদের মার্কিন নাগরিক সন্তানদের জন্য বৈধভাবে প্রাপ্য, সেগুলো থেকেও তারা বিরত থাকতে পারেন। ডিএইচএসও স্বীকার করেছে যে নতুন নিয়মের কারণে অনেক পরিবার সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব এড়াতে সরকারি সহায়তা কর্মসূচি থেকে নিজেদের সরিয়ে নিতে পারে।

নতুন বিধিমালা ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। ইতোমধ্যে অভিবাসন অধিকার সংগঠনগুলো এর তীব্র সমালোচনা করেছে। তাদের দাবি, এ নীতি নিম্ন আয়ের অভিবাসী পরিবারগুলোর ওপর গুরুতর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং অনেক যোগ্য পরিবারকে প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা গ্রহণ থেকেও নিরুৎসাহিত করবে।

শেয়ার করুন