১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০৪:২৫:২৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :


এবারের বাংলাদেশ সফর অম্ল মধুর স্মৃতিধন্য করেছে
সালেক সুফী
  • আপডেট করা হয়েছে : ১০-০৯-২০২৬
এবারের বাংলাদেশ সফর অম্ল মধুর স্মৃতিধন্য করেছে বিদ্যুৎ লাইন


দীর্ঘ দেড় বছর পর সংক্ষিপ্ত সফরে বাংলাদেশে এসেছিলাম খোলা মন নিয়ে গ্যাস-বিদ্যুৎ দুর্ভিক্ষের সময় অভিজ্ঞতা থেকে কিছু সৎ পরামর্শ দিতে। প্রথম ১০ দিন বসুন্ধরা সিটি এলাকায় ছিলাম। কয়েকদিন বাংলাদেশ পাওয়ার এনার্জি রিসার্চ কাউন্সিলে এবং বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে সময় কাটিয়ে জ্বালানি বিদ্যুৎ সেক্টরের হাল চাল বুঝতে চেষ্টা করেছি। পেট্রোবাংলা, তিতাস গ্যাস, বাপেক্স, জিটিসিএল শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জ্বালানি পরিস্থিতির স্বরূপ বুঝতে চেষ্টা করলাম। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, ডিপিডিসি, ন্যাশনাল লোড ডেসপাস সেন্টারে উপস্থিত হয়ে বিদ্যুৎ গ্রিডের সক্ষমতা এবং সীমাবদ্ধতার বাস্তব রূপ দেখলাম। এরই মাঝে নানা প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় উপস্থিত হয়ে মতবিনিময় করলাম। গাজীপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে শ্রীপুর এলাকায় একদিন কাটিয়ে গ্যাস সংকট বিষয়ে জানতে চেষ্টা করলাম। জিটিসিএলের আশুগঞ্জ গ্যাস ম্যানিফোল্ড স্টেশন, বিজিএফসিএলের তিতাস গ্যাস ক্ষেত্রে চীনের খনন কোম্পানি কর্তৃক গভীর স্তরে গ্যাস খনন কাজ দেখলাম।

সুযোগ হয়েছিল বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্দালয়ের ট্রিপল ই অনুষদের নবীন বরণ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হয়ে জেনজিদের সৃজনশীলতা দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছি। অন্যদিকে দলীয় দূষণে দূষিত ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে কিছুটা হতাশ হয়েছি। তবে বুয়েট দ্বিতীয় সফরে ট্রিপল-ই অনুষদের একটি রিসার্চ ল্যাবে সোলার বিদ্যুতের ব্যাটারি উৎপাদনের উদ্যোগ দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছি। নতুন উপাচার্যের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকারেও পরিবর্তনের শুভ লক্ষণ দেখেছি।

কয়েকবার গ্যাস সেক্টরের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকারে জ্বালানি বিদ্যুৎ সেক্টরের বর্তমান অবস্থা এবং উন্নয়নের পথ নকশা নিয়ে আলাপ করেছি। 

ইতিমধ্যে আপনারা জেনেছেন আমি মেলবোর্নে প্রবাসী একজন বিদগ্ধ ব্যক্তির সঙ্গে একটি কোম্পানী গড়ে তুলেছি। কাজের এলাকা মূলত নবায়ণযোগ্য জ্বালানি এবং ইভি নিয়ে দেশে বিদেশে কাজ। আমাদের সঙ্গে দেশ-বিদেশে কাজ করার জন্য সম্পৃক্ত একটি শীর্ষ স্থানীয় চীনা কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তা বাংলাদেশে এসে বাজার যাচাই করে গেল।

আমি ইতিমধ্যে জ্বালানি বিদ্যুৎ সেক্টরে কাজ করা দুটি শীর্ষস্থানীয় কোম্পানির সঙ্গে আলাপ করে কোম্পানি দুটিকে বিদেশে কাজ করতে উৎসাহিত করেছি। জ্বালানি বিদ্যুৎ সেক্টর নিয়ে আমাদের একটা থিংক ট্যাংক আছে। আমরা একটা সভায় মিলিত হয়ে আমরা বিদ্যমান পরিস্থিতি উন্নয়নে কিছু বাস্তবায়নযোগ্য পরামর্শ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম।

সবাই জানেন ক্রীড়াঙ্গন এবং সাংবাদিক সমাজে আমার ব্যাপক সম্পৃক্ততা আছে। প্রেস ক্লাবে বর্ষীয়ান সাংবাদিক কয়েকজনের সঙ্গে মিলিত হয়েছি। পরলোকগত সকল ক্রীড়াভাষ্যকারদের স্মরণ সভায় অংশ গ্রহণের সুযোগ হয়েছে।

বিশ্বাস করুন একমাস সময়ে আমার আত্মীয় পরিজনদের কাছে যাওয়ার সুযোগ হয়নি। আরো দিন দশক দেশে থাকবো। এই সময়ে হয়ত দেশের অন্যান্য সেক্টর নিয়ে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বিষয়ে জানতে চেষ্টা করবো।

পরিশেষে বলি জ্বালানি বিদ্যুৎ ব্যাবস্থাপনা নিয়ে আশাবাদী হতে পারছি। কিছু কিছু ক্ষেত্রে নগ্ন দলীয় করণের কারণে কিছু দক্ষ কর্মকর্তাকে অপসারণ করা হয়েছে। বিশেষত গুরুত্বপূর্ণ পেট্রোবাংলা বর্তমানে জ্বালানি সংকট মোকাবিলা করতে পারবে কি না, সন্দেহ আছে। বর্তমান সরকার কিন্তু এখনো পর্যন্ত জ্বালানি সেক্টরকে আমলা নির্ভরতা এবং সিন্ডিকেট মুক্ত করতে পারে নি। তবে এখনো সুযোগ আছে অতি প্রয়োজনীয় সংস্কার করে যুদ্ধ প্রস্তুতি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়লে ঘুরে দাঁড়ানোর। প্রয়োজন নির্মোহভাবে যোগ্য ব্যক্তিদের যথা স্থানে পদায়িত করে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়া।

সময় হলেই ফিরে যাবো অস্ট্রেলিয়ায়। এখন সেখানে বসন্ত। পুষ্প পল্লবে সুশোভিত আমাদের বর্তমান আবাসস্থলে অপেক্ষায় আছে আমার নাতি জোহায়ের আর নাতনি ফাতিমা। আছে দিগন্ত বিস্তৃত প্রশান্ত মহাসাগর উপকূল, জাকারান্ডা, গোল্ডেন ওয়াটেল রঙে রঙিন জনপথ। স্মৃতিতে জেগে থাকবে মায়ের দেশ বাংলাদেশ।

শেয়ার করুন