১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০৪:১২:৪৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :


নতুন সরকারের ৬ মাস পেরোতেই লংমার্চ কেন?
সালেক সুফী
  • আপডেট করা হয়েছে : ১০-০৯-২০২৬
নতুন সরকারের ৬ মাস পেরোতেই লংমার্চ কেন? লংমার্চের চিত্র


জুলাই ২০২৪ আন্দোলনে সরকার পতনের পর মেটিকুলাস পরিকল্পনায় রাষ্ট্র পরিচালনার কর্তৃত্ব পাওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের অপশাসনে লন্ডভন্ড হয়েছিল সামাজিক ব্যবস্থাপনা। ধ্বংসযজ্ঞ, মব সন্ত্রাসে শান্তি-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছিল বিপর্যস্ত। রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় পূর্ববর্তী সরকারের জ্বালানি বিদ্যুৎ উন্নয়নের গুরুত্ত্বপুর্ণ উদ্যোগ বাতিল করে জ্বালানি বিদ্যুৎ সেক্টরে সংক্রমিত হয়েছিল ক্যানসারের মতো দুরারোগ্য ব্যাধি।

এমতাবস্থায় দেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ এবং তাদের রাজনৈতিক আদর্শের সমর্থক রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচনের বাইরে রাখা নির্বাচনে নিরংকুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত বহুবিধ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার বিবিধ পরিকল্পনা গ্রহণ সরকার যখন যুদ্ধ করছে ঠিক তখনি পার্লিয়ামেন্টে বিরোধী দল জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে রাজপথ উত্তপ্ত করতে চেষ্টা করছে। জনগণের প্রশ্ন স্মরণকালের সবচেয়ে কঠিন এবং জটিল জ্বালানি বিদ্যুৎ জ্বালানি মহাসংকট সংকট এবং এর অশুভ প্রতিক্রিয়ায় সব ক্ষেত্রে যখন সংকট ঘনায়মান তখন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলগুলোর সরকার বিরোধী আন্দোলন দায়িত্বহীন বলেই বিবেচিত হচ্ছে।

নিরংকুশ সংখাগরিষ্ঠতায় রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে অধিষ্ঠিত সরকার তাদের রাজনৈতিক অঙ্গীকারের ভিত্তিতে সরকার পরিচনা করবে সেটি স্বাভাবিক। একদল প্রবাসী তথাকথিত বিশেষজ্ঞ স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য যে তথাকথিত জুলাই সনদ ঘোষণা করেছিল সেখানেও বিএনপিসহ কয়েকটি দল নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছিলো। এমতাবস্থায় বর্তমান সরকার জুলাই সনদ অবিকলভাবে বাস্তবায়ন করবে কেন? আর সরকারকে অন্তত এক দেড় বছর সময় দিতে হবে তাদের রাজনৈতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নের। 

বিরোধী দল চায় সংবিধান বাতিল, রাজনৈতিক ইতিহাস থেকে মুক্তিযুদ্ধকে মুছে ফেলা। স্বাধীনতা বিরোধী রাজনৈতিক দল জামাত দেশবাসীকে রাজনীতির দীক্ষা দিতে চায়। ভেবে দেখুন সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে ২০২৬ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হলে জামাত বা সহযোগী দলগুলো কতগুলো আসন পেতো নির্বাচনে। ১১ দলীয় জোট কিন্তু সরকারের পায়ে পারা দিয়ে সংকট সৃষ্টি করছে। সংকট সময়ে শান্তি-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সৃষ্টি করে অচল অবস্থা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। হয়তো এ পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের পরোক্ষ মদত থাকতে পারে।

যাহোক বিরোধী দলগুলোর উচিত সংসদে তাদের ভূমিকা জোরদার রেখে সরকারকে দায়িত্ব পূর্ণ বিরোধী দল হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করবে। জ্বালানি বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলা করতে সরকার বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহন করেছে। এগুলো বাস্তবায়নের জন্য বিরোধী দলসহ সর্বস্তরের জনগণের সহযোগিতা অপরিহার্য। এই মুহূর্তে লংমার্চের মতো হঠকারী কার্যক্রম নিন্দনীয় বলে মনে করি।

শেয়ার করুন