১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০৪:২৬:৩৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :


ভবিষ্যতে শিক্ষাব্যবস্থা প্রস্তুতে শিক্ষকদের এআই-সংক্রান্ত দক্ষতা অপরিহার্য
বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট করা হয়েছে : ১০-০৯-২০২৬
ভবিষ্যতে শিক্ষাব্যবস্থা প্রস্তুতে শিক্ষকদের এআই-সংক্রান্ত দক্ষতা অপরিহার্য প্রতীকী ছবি


কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার শিক্ষণ-শেখার প্রক্রিয়াকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, উদ্ভাবনভিত্তিক এবং শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক করে তুলতে পারে । ভবিষ্যতের জন্য শিক্ষাব্যবস্থা প্রস্তুত করতে শিক্ষকদের ডিজিটাল ও এআই-সংক্রান্ত দক্ষতা বৃদ্ধি অপরিহার্য।

ঢাকার মিরপুরস্থ প্রাইমারি টিচার্স’ ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (পিটিআই)-এ “প্রাথমিক শিক্ষকদের আইসিটি-এআই কম্পিটেন্সি ফ্রেমওয়ার্ক এবং ডিপিএড পাইলটিং কর্মসূচির মূল্যায়ন প্রতিবেদন উপস্থাপন” শীর্ষক একটি কর্মশালায় এসব বক্তব্য উঠে আসে। 

প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, শিক্ষকদের পেশাগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল রূপান্তরের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি আধুনিক শিক্ষক উন্নয়ন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে ইউনেস্কো বাংলাদেশের কারিগরি সহযোগিতায় জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) কর্মশালাটির আয়োজন করে।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহিনা ফেরদৌসী, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বাজেট ও অডিট) শাহানা সারমিন, ইউনেস্কো ঢাকা প্রোগ্রাম অফিসার শিরীন আক্তার। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির মহাপরিচালক ফরিদ আহমদ। 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, বলেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়ন ও ধারাবাহিক পেশাগত বিকাশ নিশ্চিত করা সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দাবি। তিনি উল্লেখ করেন যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার শিক্ষণ-শেখার প্রক্রিয়াকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, উদ্ভাবনভিত্তিক এবং শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক করে তুলতে পারে। এ প্রেক্ষাপটে প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য একটি জাতীয় আইসিটি-এআই কম্পিটেন্সি ফ্রেমওয়ার্ক প্রণয়নের উদ্যোগকে তিনি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও সময়োপযোগী বলে অভিহিত করেন।

কর্মশালায় উপস্থাপিত আইসিটি-এআই কম্পিটেন্সি ফ্রেমওয়ার্ক শীর্ষক গবেষণায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য প্রয়োজনীয় ডিজিটাল সাক্ষরতা, প্রযুক্তির শিক্ষণগত ব্যবহার, নৈতিক ও দায়িত্বশীল এআই প্রয়োগ এবং পেশাগত অনুশীলনের বিভিন্ন দক্ষতাক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে উপস্থাপিত ডিপ্লোমা ইন প্রাইমারি এডুকেশন (ডিপিএড) পাইলটিং কর্মসূচির মূল্যায়ন প্রতিবেদন-এ কর্মসূচির কার্যকারিতা, অর্জন, চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন কৌশলগত সুপারিশ তুলে ধরা হয়। কর্মশালায় গবেষণা প্রতিবেদন এবং আলোচকবৃন্দের বক্তব্যে ভবিষ্যৎ গুণগত প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়নে সরকারি এবং বেসরকারি উভয় ক্ষেত্রে শিক্ষক নিয়োগে গ্রাজুয়েট এর পরিবর্তে শিক্ষককেই নিয়োগ প্রদানের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে ভেবে গবেষণা তাৎপর্য তুলে ধরেন। 

ইউনেস্কো বাংলাদেশের প্রতিনিধি তাঁর বক্তব্যে বলেন, ভবিষ্যতের জন্য শিক্ষাব্যবস্থা প্রস্তুত করতে শিক্ষকদের ডিজিটাল ও এআই-সংক্রান্ত দক্ষতা বৃদ্ধি অপরিহার্য। তিনি শিক্ষক উন্নয়নে বাংলাদেশ সরকারের চলমান উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং এ ক্ষেত্রে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির সঙ্গে ইউনেস্কোর অব্যাহত সহযোগিতার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। 

এদিকে বিশেষ অতিথিবৃন্দ তাঁদের বক্তব্যে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক প্রস্তুতি ও পেশাগত উন্নয়নের গুরুত্বের ওপর জোর দেন। তাঁরা মত প্রকাশ করেন যে, গবেষণালব্ধ তথ্য ও প্রমাণভিত্তিক সুপারিশসমূহ ভবিষ্যৎ শিক্ষক শিক্ষা নীতি, প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং পেশাগত উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও প্রাসঙ্গিক করে তুলতে সহায়ক হবে।

কর্মশালায় মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর, শিক্ষক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, শিক্ষা গবেষক এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীরা গবেষণার ফলাফল ও সুপারিশসমূহ নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা করেন এবং প্রাথমিক শিক্ষা খাতের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে সেগুলোর কার্যকর প্রয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলাদেশে শিক্ষক শিক্ষা ও পেশাগত উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং প্রমাণভিত্তিক পরিকল্পনার সমন্বয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উভয় গবেষণার ফলাফল সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সামনে উপস্থাপন করা হয়। এটি স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে দক্ষ, প্রযুক্তি-সক্ষম এবং ভবিষ্যৎমুখী শিক্ষক প্রস্তুতের প্রচেষ্টাকে আরও বেগবান করবে বলে প্রত্যাশা করা হয়।

শেয়ার করুন