শিক্ষার্থীদের ইন স্টেট টিউশন ও আর্থিক সহায়তা
নিউইয়র্কের পাবলিক কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অনিবন্ধিত বা নথিহীন অভিবাসী শিক্ষার্থীদের ইন-স্টেট টিউশন ও আর্থিক সহায়তার সুযোগ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের আইনি চ্যালেঞ্জে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন অভিবাসী শিক্ষার্থীরা। তাদের আশঙ্কা, স্টেটের বর্তমান সুবিধা বাতিল হলে অনেকের পক্ষেই কলেজের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না।
গত ১০ আগস্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস কর্তৃক নিউইয়র্কের বিরুদ্ধে নিউইয়র্কের নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে মামলা দায়ের করে। মামলাটির নম্বর ১:২৬-সিভি-০১৫২৭। একই দিনে কানেকটিকাট ও ভারমন্টের বিরুদ্ধেও পৃথক মামলা করা হয়। নিউইয়র্কের মামলায় বিবাদী করা হয়েছে স্টেট অব নিউইয়র্ক, স্টেট ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কের বোর্ড অব ট্রাস্টিজ, সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কের বোর্ড অব ট্রাস্টিজ, নিউইয়র্ক হায়ার এডুকেশন সার্ভিসেস করপোরেশন এবং সংস্থাটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডরিস বি. গনজালেসকে।
ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিসের অভিযোগ, নিউইয়র্কের আইন অনিবন্ধিত অভিবাসী শিক্ষার্থীদের নিউইয়র্কে বসবাসের ভিত্তিতে ইন-স্টেট টিউশন ও নির্দিষ্ট রাষ্ট্রীয় আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগ দেয়, অথচ অন্য স্টেটের মার্কিন নাগরিক শিক্ষার্থীরা একই সুবিধা পায় না। সরকারের দাবি, এটি ফেডারেল আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। মামলায় বিশেষভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন আইনের ৮ ইউএসসি ১৬২৩(এ) ধারা উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলায় নিউইয়র্কের স্টেট ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্ক এবং সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্ক বা কিউনিতে অনিবন্ধিত অভিবাসীদের ইন-স্টেট টিউশন দেওয়ার বিধানের পাশাপাশি কিছু রাষ্ট্রীয় আর্থিক সহায়তা ও কমিউনিটি কলেজের আর্থিক সহায়তার বিধানও চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। ফেডারেল সরকার আদালতের কাছে এসব আইনকে অসাংবিধানিক ও ফেডারেল আইনে অগ্রাহ্যযোগ্য ঘোষণা এবং সেগুলোর প্রয়োগ বন্ধে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চেয়েছে।
বর্তমানে নিউইয়র্কের নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী অনিবন্ধিত অভিবাসী শিক্ষার্থীরা ইন-স্টেট টিউশন সুবিধা পেতে পারেন। এর মধ্যে রয়েছে নিউইয়র্কের কোনো অনুমোদিত হাইস্কুলে অন্তত দুই বছর পড়াশোনা করা, সেখান থেকে স্নাতক হওয়া এবং স্নাতকের পাঁচ বছরের মধ্যে সানি বা কিউনিতে আবেদন করা। একই ধরনের যোগ্যতার ভিত্তিতে নিউইয়র্কের কিছু রাষ্ট্রীয় আর্থিক সহায়তাও পাওয়া যায়।
ফেডারেল সরকারের মামলায় সুইনি ও কিউনির টিউশন ব্যবস্থার পাশাপাশি নিউইয়র্ক হায়ার এডুকেশন সার্ভিসেস করপোরেশনের মাধ্যমে দেওয়া কিছু আর্থিক সহায়তাও চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। বিচার বিভাগের অভিযোগ অনুযায়ী, সুইনি ও কিউনিতে যোগ্য অনিবন্ধিত অভিবাসী শিক্ষার্থীরা নিউইয়র্কের বাসিন্দাদের জন্য নির্ধারিত কম টিউশন দিতে পারেন। উদাহরণ হিসেবে মামলায় বলা হয়েছে, সুইনিতে বার্ষিক ইন-স্টেট টিউশন প্রায় ৭ হাজার ৭০ ডলার, যেখানে আউট-অব-স্টেট শিক্ষার্থীদের জন্য তা প্রায় ১৭ হাজার ৭৩০ ডলার। কিউনিতে ১২ ক্রেডিটের পূর্ণকালীন কোর্সে বাসিন্দা শিক্ষার্থীদের টিউশন প্রতি সেমিস্টারে ৩ হাজার ৪৬৫ ডলার, যেখানে অনাবাসী শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে তা প্রতি ক্রেডিটে ৬২০ ডলার।
ট্রাম্প প্রশাসন এ মামলাকে বৃহত্তর অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবে দেখছে। ফেডারেল সরকারের যুক্তি, অনিবন্ধিত অভিবাসীদের জন্য এমন উচ্চশিক্ষা সুবিধা রাখা যাবে না, যা অন্য অঙ্গরাজ্যের মার্কিন নাগরিকদের দেওয়া হয় না। মামলায় প্রশাসন ১৯৯৬ সালের ফেডারেল আইনের বিধান এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ২০২৫ সালের নির্বাহী আদেশগুলোরও উল্লেখ করেছে।
অন্যদিকে নিউইয়র্কের কর্মকর্তারা স্টেটের আইন রক্ষার অবস্থানে রয়েছেন। গভর্নর ক্যাথি হকুলের কার্যালয় জানিয়েছে, তারা স্টেটের আইন বৈধ এবং আদালতে তা বহাল থাকবে বলে আত্মবিশ্বাসী। সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব থেকে শিক্ষার্থীদের রক্ষা করতে বিভিন্ন বিকল্প নিয়েও কাজ করছে স্টেট গভর্নমেন্ট। কিউনিও জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের অভিবাসন মর্যাদা নির্বিশেষে তারা পুরো বিশ্ববিদ্যালয় কমিউনিটির পাশে রয়েছে।
মামলাটি এখন নিউইয়র্কের নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল আদালতে বিচারাধীন। ফলে নিউইয়র্কের অনিবন্ধিত অভিবাসী শিক্ষার্থীদের ইন-স্টেট টিউশন ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক সহায়তার ভবিষ্যৎ শেষ পর্যন্ত আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।