০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০৮:৪১:১৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ইসরায়েলের সমালোচনা, বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা বাতিল ও বহিষ্কার অসাংবিধানিক রাজু হত্যার অভিযুক্ত আতোস্তা গ্রেফতার নিউইয়র্কে মাদকে মৃত্যু ৪৫ শতাংশ কমেছে ক্যালিফোর্নিয়ায় ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহাকে স্বীকৃতি দিতে বিল পাস মসজিদে তিন মুসলিম হত্যাকাণ্ড : লিন্ডসের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ উল্টো পথে আসা গাড়ির ধাক্কায় বাংলাদেশি মা-মেয়ে নিহত আশ্রয়প্রার্থী শতাধিক অভিবাসীকে আফ্রিকার ৮ দেশে পাঠালো যুক্তরাষ্ট্র ডাকা প্রাপকদের গ্রিনকার্ড প্রাপ্তিতে বাড়তে পারে জটিলতা নাগরিকত্ব প্রত্যাশীদের জন্য ‘নেইবারহুড ইনভেস্টিগেশন’ ৩৫ বছর পর আবার চালু করলো ইউএসসিআইএস নিউইয়র্কে একের পর এক অপরাধ


নিউইয়র্কে এক মাসে ২,১৯৭ অভিবাসী আটক
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ০২-০৯-২০২৬
নিউইয়র্কে এক মাসে ২,১৯৭ অভিবাসী আটক সংবাদ সম্মেলনে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়েইন মুলিন


নিউইয়র্কে অভিবাসনবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ফেডারেল কর্মকর্তারা ১ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার জানিয়েছেন, গত এক মাসে নিউইয়র্ক স্টেটে অভিবাসীকে ২,১৯৭ জনকে আটক করা হয়েছে। একই সঙ্গে আরও বেশি সংখ্যক ফেডারেল এজেন্ট নিউইয়র্কে পাঠানো এবং নতুন করে অভিযান চালানোর প্রস্তুতি চলছে বলেও জানানো হয়েছে। ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিইর নেতৃত্বে পরিচালিত ‘অপারেশন রটেন অ্যাপল’-এর আওতায় ২৭ জুলাই থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত এই ২,১৯৭ জনকে আটক করা হয় বলে ফেডারেল কর্মকর্তারা জানান। মঙ্গলবার লোয়ার ম্যানহাটনে ফেডারেল ২৬ প্লাজাতে এক সংবাদ সম্মেলনে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়েইন মুলিন এ তথ্য প্রকাশ করেন।

সেক্রেটারি মুলিনের দাবি, অভিযানে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে গ্যাং সদস্য, ধর্ষণের অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তি, হত্যাকারী এবং শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন অপরাধে জড়িত ব্যক্তিরাও রয়েছেন। তিনি বলেন, এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে নিউইয়র্ক সিটি মেয়র জোহরান মামদানি কিংবা নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোচুলের কোনো সহযোগিতা ছাড়াই।

সিকিউরিটি মুলিন বলেন, নিউইয়র্ক সিটি ও রাজ্যের সাংচুয়ারি নীতির কারণে স্থানীয় রাজনীতিবিদরা ফেডারেল অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন। তার ভাষায়, অপারেশন রটেন অ্যাপল এমন কাজ করেছে যা নিউইয়র্কের সাংচুয়ারি রাজনীতিবিদরা করতে অস্বীকার করছেন আর এর মাধ্যমে অঙ্গরাজ্যকে আরও নিরাপদ করা হয়েছে।

আরও ফেডারেল এজেন্ট পাঠানো হবে

নিউইয়র্কে আরও ফেডারেল এজেন্ট পাঠানো হবে কি না এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে মুলিন সরাসরি বলেন, ‘অবশ্যই।’ তিনি বলেন, নিউইয়র্কের মেয়র ও গভর্নর ফেডারেল সরকারের সঙ্গে কাজ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তাই আইনশৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য যত বেশি সম্ভব ফেডারেল কর্মী ও এজেন্ট নিউইয়র্কে পাঠানো হবে। মুলিন আরও অভিযোগ করেন, মেয়র মামদানি ও গভর্নরের সমর্থনে চলতি বছর এমন আইন পাস করা হয়েছে, যা স্থানীয় সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে আইসিইর সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে সীমিত করেছে। তার মতে, এই আইনই নিউইয়র্কে ফেডারেল সরকারের সরাসরি অভিযান বাড়ানোর অন্যতম কারণ।

মুলিন মেয়র মামদানির কঠোর সমালোচনা করে বলেন, তিনি আমেরিকান জনগণের প্রত্যাশা এবং প্রকৃত জননিরাপত্তার বাস্তবতা থেকে অত্যন্ত বিচ্ছিন্ন। তার দাবি, যেসব ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে, তাদের নিউইয়র্কের রাস্তাঘাট থেকে সরিয়ে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।

গভর্নর হোচুলের প্রশ্ন

তবে নিউ ইয়র্ক গভর্নর ক্যাথি হোচুল ফেডারেল সরকারের প্রকাশিত সংখ্যা ও দাবিগুলো নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের প্রকাশিত যেকোনো সংখ্যা সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করা উচিত। গভর্নর হোচুল আরও প্রশ্ন তোলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন বলেছিলেন যে প্রশাসন শুধু সবচেয়ে খারাপের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে, তখন কেন দেওয়ানি অভিবাসন আইন প্রয়োগের ওপর এত বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

অভিবাসন সংগঠনের তীব্র প্রতিবাদ

নিউইয়র্ক ইমিগ্রেশন কোয়ালিশনের প্রেসিডেন্ট ও সিইও মুরাদ আওয়াদেহ ফেডারেল সরকারের ঘোষণার তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি মুলিনের বক্তব্যকে তথ্যভিত্তিক নয় বলে দাবি করেন এবং অভিযোগ করেন, নিউইয়র্কের স্থানীয় আইন ও নির্বাচিত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে জনমত তৈরির উদ্দেশ্যে এই সংবাদ সম্মেলন ব্যবহার করা হয়েছে।

আওয়াদেহের দাবি, নিউইয়র্কে সাংচুয়ারি নীতি জননিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর—এমন বক্তব্যের পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ নেই। তিনি আইসিইর কার্যক্রমের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারী কমিউনিটির সদস্যদেরও ফেডারেল সরকারের সমালোচনার বিষয় বানানোর অভিযোগ করেন।

নাসাউ কাউন্টিতেও আইসিই সহযোগিতা

নিউইয়র্কের অন্যান্য এলাকায়ও আইসিইর সঙ্গে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। নাসাউ কাউন্টিতে এর আগে পুলিশ বিভাগ আইসিইকে দেওয়ানি অভিবাসন আইন প্রয়োগে সহায়তার জন্য ১০ জন গোয়েন্দাকে নিয়োগ করেছিল। এছাড়া নাসাউ কাউন্টি শেরিফের বিভাগ তাদের ইস্ট মিডো কারাগারে আইসিইর জন্য হাজার হাজার আটক ব্যক্তিকে রাখছে বলে জানানো হয়েছে।

অপারেশন রটেন অ্যাপল-এর মাধ্যমে গত এক মাসে ২,১৯৭ জনকে আটকের ঘোষণা এবং সামনে আরও এজেন্ট ও অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা নিউইয়র্কে ফেডারেল অভিবাসন আইন প্রয়োগ নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। একদিকে ফেডারেল কর্মকর্তারা এটিকে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার অভিযান হিসেবে তুলে ধরছেন, অন্যদিকে নিউইয়র্কের নির্বাচিত নেতারা ও অভিবাসন অধিকার সংগঠনগুলো ফেডারেল সরকারের পদ্ধতি ও দাবির সমালোচনা করছে।

শেয়ার করুন