মেয়র জোহরান মামদানিকে ক্রেস্ট প্রদান করেন শাহরিয়ার রহমান
ভালো। মহৎ উদ্দেশ্য নিয়েই সংগঠনটির নাম রাখা হয়েছিল। যেমন নাম ঠিক তেমন কর্ম। নামের সঙ্গে মিল রেখেই শুরু থেকে এ পর্যন্ত ভালোর আয়োজন কম্যুনিটিতে প্রশংসিত হয়েছে। এ সংগঠনটি তাদের জনসেবামূলক, বিশেষ করে স্বল্প আয়ের মানুষদের জন্য, কাজের মধ্য দিয়ে নিউইয়র্কে কেবল বাংলাদেশি কম্যুনিটিকেই নয়, নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসনে এবং অলবেনিতে স্টেট প্রশাসনেও সাড়া জাগিয়েছে। সারা বছর জুড়ে নানা জনহিতৈষীমূলক কাজের পাশাপাশি বিনামূল্যে বিপুল সংখ্যক মানুষের কাছে বিপুল পরিমাণে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
অন্য বছরের মতো এবারও তারা গত ২৭ আগস্ট ব্যাক টু স্কুল প্রোগ্রামে শত শত ছাত্রছাত্রীর মধ্যে স্কুলসামগ্রী বিতরণ করে। দিনভর বৃষ্টির মধ্যেই বিপুল সংখ্যক মানুষ ছেলেমেয়েদের নিয়ে এই স্কুলসামগ্রী নেওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন। এরই মাঝে দুপুর ঠিক দেড়টায় মেয়র জোহরান মামদানি এসে উপস্থিত হন জ্যামাইকার ১৭৫ স্ট্রিটে হিলসাইড এভেন্যুর মেজর মার্ক পার্কে। তাকে বৃষ্টির মধ্যে সঙ্গে করে মঞ্চের কাছে নিয়ে যান ‘ভালো’র কান্ডারি সিইও শাহরিয়ার রহমান। বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে মেয়র হাসিমুখে মঞ্চে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখতে গিয়ে সেখানে উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তাদের নাম উল্লেখ করেন। তিনি ‘ভালোর’ ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, আমাদের সিটিতে এমন যেন কেউ না থাকে যে স্কুলের জন্য অর্থাভাবে স্কুল সাপ্লাইজ কিনতে পারবে না। তিনি বলেন, আমাদের চৌকস টিম তাদের খুঁজে বের করতে কাজ করে চলেছে।
মেয়র বলেন, সিটি হলের ভেতরে যারা অপরিসীম পরিশ্রম করছেন সিটির মানুষদের জন্য তারা তো আছেনই, সিটি হলের বাইরে যারা কাজ করছেন তাদেরও আমরা স্যালুট জানাই। ভালো এবং শাহ তাদের অন্যতম।
এরপর মেয়র সরাসরি ফেন্সের অপর দিকে দাঁড়ানো শত শত শিশুর হাতে রঙিন গিফট ব্যাগ তুলে দেন। এই ব্যাগে ছিল নানা ধরনের খেলনাসহ অন্যান্য উপহার। উপহার পেয়ে শিশুরা আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে ওঠে। মেয়র তাদের সঙ্গে হ্যান্ডশেক করেন এবং অনেকের সঙ্গে ছবি তোলেন।
মেয়র যাওয়ার আগে সবাইকে ধন্যবাদ জানান এ ধরনের নিডি মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য।
এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি মেলিন্ডা কাটজ, পাবলিক অ্যাডভোকেট জুমানি উইলিয়াম, সিটি কাউন্সিলসদস্য লিন্ডা লি, কাউন্সিলসদস্য ড. নানতাসা উইলিয়ামসের প্রতিনিধি, কুইন্স বরো প্রেসিডেন্টের প্রতিনিধি ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ সাদিক, জর্জিয়া স্টেট সিনেটর নাবিলাহ ইসলাম পার্কেস, মেয়র অফিসের প্রশাসনিক প্রধান মীর বাশার, ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির অফিসের কম্যুনিটি আউটরিচ অফিসার রোকেয়া আকতার, জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা, সভাপতি ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার, ইলহান একাডেমির প্রধান আবদুর রশিদ, মূলধারার রাজনীতিক জে মোল্লা সানি প্রমুখ। মেয়রের পর্বটি সঞ্চালনা করেন এস নবী।
মেয়র মামদানি চলে যাওয়ার পর সারিবদ্ধভবে দাঁড়িয়ে থাকা অভিভাবকরা ছেলেমেয়েদের নিয়ে স্কুলসামগ্রী গ্রহণ করেন। পৃথক পৃথক টেবিলে পৃথক পৃথক আইটেম সাজানো ছিল। যেমন ব্যাকপ্যাক, ডজন পেন্সিল প্যাক, ডজন পেন প্যাক, রুলড খাতা, ইরেজার, পেন-পেন্সিল কেস, প্লাস্টিক ফোল্ডার, স্টিক-অন স্লিপ, ওয়াটার বটল ইত্যাদি ২০টি আইটেম।
ভালোর প্রধান নির্বাহী শাহরিয়ার আলম বলেন, ভালো কাজ করার লক্ষ্যেই আমরা এ প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি করি। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই আমরা ভাল করে যাচ্ছি। যে কারণে কম্যুনিটিতে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। আজকে এ বৃষ্টির মধ্যেও পুরো পার্কটি নতুন প্রজন্মের কলকোকলিতে ভরে উঠেছে। আজকে আমরা প্রায় ৫ শতাধিক ছাত্রছাত্রীর মধ্যে স্কুলসামগ্রী বিতরণ করেছি।