১৩ অগাস্ট ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০৪:৩৫:০৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন ১৮ অক্টোবর মাইর শুরু হয়েছে কেবল, আসল মারই তো শুরুই হয়নি সাবওয়ে স্টেশন ঠান্ডা রাখতে নতুন পরিকল্পনা শিশুদের টিকা নীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ শতবর্ষী চেম্বারস স্ট্রিট সাবওয়ে স্টেশন সংস্কারে বড় প্রকল্প মুসলিম হওয়ায় মৃত্যুর হুমকি, অভিযোগ ফ্লোরিডার রিপাবলিকান কংগ্রেস প্রার্থীর হিজাব পরা নারীকে হামলার অভিযোগ : জোনাথন স্ট্রিপের বিরুদ্ধে হেট ক্রাইমের মামলা ইসলাম ও মুসলিম খ্রিস্টান সম্পর্কের অগ্রণী গবেষক এস্পোসিতোর মৃত্যু মসজিদে অগ্নিসংযোগের চেষ্টা, ৪০ বছর কারাদণ্ডের মুখে ভিনসেন্ট তারেক রহমানের ভারত সফরে প্রাণান্ত চেষ্টা মোদী সরকারের


গ্যাস সরবরাহ সুনামি থেকে কী সংকেত পেলো বাংলাদেশ?
সালেক সুফী
  • আপডেট করা হয়েছে : ১২-০৮-২০২৬
গ্যাস সরবরাহ সুনামি থেকে কী সংকেত পেলো বাংলাদেশ?


এমনিতেই জ্বালানি সরবরাহ দুর্যোগে ধুঁকতে থাকা জ্বালানি বিদ্যুৎ খাত মহাসঙ্কটে পরে দিশেহারা হয়েছে জুলাই ২১ থেকে অগ্নি দুর্ঘটনার কবলে পরে মহেশখালী উপকূলে স্থাপিত মার্কিন কোম্পানি এক্সেলারেট এনার্জির ভাসমান টার্মিনাল থেকে ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট আর এলএনজি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায়। এমনিতেই দেশে বিরাজিত ১০০০-১২০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস ঘাটতি ১৫০০ মিলিয়ন ঘনফুটে পৌঁছানোয় বিতরণ নেটওয়ারকে ত্রাহি মধুসুধন অবস্থা। শুরু হয় বিদ্যুতের ভয়াবহ লোড শেডিং , হাহাকার শোনা যায় সিএনজি ব্যাবহারকারীদের, শিল্প কারখানা গুলোতে সৃষ্টি হয় অচলাবস্থা। যাই হোক দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা এই আতংকের আপাতত অবসান ঘটেছে। কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে সকল গ্রাহকদের। আশা করি এই বিপর্যয় থেকে বাংলাদেশ শিক্ষা নিয়েছে। আমি আসলে কি হয়েছিল এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের সঙ্কটকালে কি করণীয় সেই বিষয়গুলো নিয়ে সরকারের জ্বালানি পলিসি মেকার্সরা প্রকৃত জ্বালানি পরামর্শকদের সঙ্গে দ্রুত অনুপুঙ্খ পরামর্শ করে কার্যকরি ব্যবস্থা গ্রহণ করার পরামর্শ দিবো।

প্রশ্ন হলো দুর্ঘটনা না পরিচালনাগত ব্যার্থতা সেটি কে নির্ধারণ করবে। আর এই ব্যর্থতার জন্য ভোক্তাদের যে ক্ষয়ক্ষতি আর ভোগান্তি হয়েছে তার জন্য কাউকে কি জবাবদিহির আওতায় আনা হবে? দেখলাম জ্বালানি সচিব পরিবর্তন করা হলো, পেট্রোবাংলার সংশ্লিষ্ট পরিচালককে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। এগুলো কাকতলীয় কিনা জানিনা। যেখানে গোটা জ্বালানি খাত চলছে “উঠ ছেড়ি তোর বিয়ে”- দর্শনে সেখানে উদোর পিন্ডি বুদোর ঘাড়ে দিলে আখেরে রক্ষা হবে না। সবাই জানে পেট্রোবাংলার মত গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে কয়েক মাস হলো পূর্ণকালীন চেয়ারম্যান নেই। নিয়ম করা হয়েছে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান এবং কয়েকজন পরিচালক আসবে মন্ত্রণালয় হতে। পেট্রোবাংলার ১৩ কোম্পানিতে অনেক যোগ্য দক্ষ কর্মকর্তা ১৫-২০ বছরের অভিজ্ঞতা নিয়েও পেট্রোবাংলার শীর্ষ পদে যেতে পারে না। আর অনভিজ্ঞ প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা ২-৩ পেট্রোবাংলার শীর্ষ পদে থেকে কোন উল্লেখযোগ্য অবদান না রেখেই ফিরে যান। ২০০০ থেকেই এই ধারা চলছে। জ্বালানি সংকটের মহামারির মুহূর্তে নতুন সরকার বিষয়টি উপলব্ধি করে পেট্রোবাংলা এবং কোম্পানিগুলোর অবকাঠামোতে প্রয়োজনীয় সংস্কার না আনলে জ্বালানি বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক বিড়ম্বনার মত ঘটনা সরকারকে বিব্রত করতেই থাকবে।

আমি সরকার প্রধানকে অনুরোধ করবো অবিলম্বে পেট্রোবাংলার অবসরগ্রহণকৃত প্রাক্তন প্রমাণিত দক্ষ শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রশাসনিক সংস্কার করা। না হলে ২০২৭-২০৩০ জ্বালানি সেক্টরে অনাকা্িঙ্খত ঘটনা ঘটতেই থাকবে।

আজ গ্যাসের চাহিদা ৪২০০-৪৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট। ১১০০ মিলিয়ন আমদানিকৃত এলএনজিসহ মোট সরবরাহ ২৭০০-২৭৫০ মিলিয়ন ঘনফুট। কাকে রেখে কাকে সরবরাহ করবে গ্যাস? ১২-১৩% গ্যাস রান্নার কাজে পোড়ানো হচ্ছে। বিকল্প আছে এলপিজি, বিদ্যুৎ ব্যাবহারের, ৫-৬% বাবরিত হয় সিএনজি, বিকল্প আছে গাড়িতে জ্বালানি ব্যাবহারের। সার উৎপাদনে এমনিতেই রেশনিং চলছে। ২০০ মিলিয়ন গ্যাস চুরি আর অপচয় হয়। সরকারকে কিছু অতি প্রয়োজনীয় আর অজনপ্রিয় সিদ্ধান্ত নিতেই হবে না হলে আম চলা দুটোই যাবে। মায়ানমার থেকে গ্যাস আমদানি বা আইএসও বাহনে এলএনজি আমদানির মরীচিকার পিছনে ছুটে সময় নষ্টের বিলাসিতা না করাই ভালো।

শেয়ার করুন