আটলান্টার হার্টসফিল্ড-জ্যাকসন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা তল্লাশি চৌকিতে এক যাত্রীর পরিচয়পত্র (আইডি) যাচাই করছেন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস)-এর এক কর্মকর্তা
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আইন প্রয়োগে নতুন কৌশল নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। দেশজুড়ে বিভিন্ন বিমানবন্দরে ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেফতার করছে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস)। এ নিয়ে অভিবাসন আইনজীবীরা বিদেশি নাগরিকদের অভ্যন্তরীণ বিমান ভ্রমণের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিচ্ছেন।
এবিসি নিউজের হাতে আসা একটি অভ্যন্তরীণ অভিবাসন নথি অনুযায়ী, ক্যালিফোর্নিয়া থেকে ভার্জিনিয়াসহ অন্তত নয়টি স্টেটের বিমানবন্দরে এ ধরনের অভিযান চালানো হয়েছে। নথিতে অন্তত ২৭টি গ্রেফতারের তথ্য রয়েছে। তবে এসব গ্রেফতার ঠিক কোন সময়ের মধ্যে হয়েছে, তা উল্লেখ করা হয়নি।
অভিবাসন আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে এমনও রয়েছেন যাদের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অপরাধের রেকর্ড নেই। অনেকের কাছেই বৈধ ওয়ার্ক পারমিট বা হিউম্যানিটারিয়ান প্যারোল-সংক্রান্ত নথি ছিল, কিন্তু তাদের অভিবাসন আবেদন এখনো চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হয়নি।
ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) এক বিবৃতিতে জানায়, বাইডেন প্রশাসনের সময় অবৈধভাবে অবস্থানরত অভিবাসীদের দেশজুড়ে অবাধে বিমান ভ্রমণের যে নীতি কার্যকর ছিল, ট্রাম্প প্রশাসন তা বাতিল করেছে।
ডিএইচএসের এক মুখপাত্র বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের আর দেশের ভেতরে বিমান ভ্রমণ করতে দেওয়া হবে না। তারা কেবল যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বিমান ব্যবহার করতে পারবেন।
নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বাফেলোভিত্তিক অভিবাসন আইনজীবী রোজানা বেরার্ডি বলেন, চূড়ান্ত বহিষ্কার আদেশপ্রাপ্ত বা বৈধ অভিবাসন মর্যাদা হারানো কাউকে গ্রেফতারের ক্ষমতা আইসের আগে থেকেই ছিল। তবে এখন গ্রেফতারের পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে।
তার ভাষায়, আইস এখন ট্রান্সপোর্টেশন সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (টিএসএ)-এর সঙ্গে সমন্বয় করে বিমানবন্দরের চেক-ইন কাউন্টার ও বোর্ডিং গেটে যাত্রীদের পরিচয় যাচাই করছে। আগে যেভাবে দীর্ঘ নজরদারি বা বাসায় গিয়ে অভিযান চালানো হতো, এখন তার পরিবর্তে নিরাপত্তা চৌকিতে নাম মিলিয়ে দ্রুত গ্রেফতার করা হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, অভ্যন্তরীণ বিমান ভ্রমণ এখন লাখো বিদেশি নাগরিক, বৈধ ভিসাধারী এবং গ্রিনকার্ডের আবেদনকারীদের জন্য এক ধরনের অভিবাসন-পর্যবেক্ষণে পরিণত হয়েছে।
বেরার্ডির মতে, যাদের গ্রিন কার্ডের আবেদন বিচারাধীন রয়েছে, তারা আইনগতভাবে একটি ধূসর অঞ্চলে অবস্থান করছেন। কারণ আবেদন বিচারাধীন থাকলেও তা অনুমোদিত স্থায়ী বাসিন্দার সমান সুরক্ষা দেয় না। আইস সে সুযোগকেই কাজে লাগিয়ে গ্রেফতার ও আটক করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এদিকে গত ৩০ জুলাই আমেরিকান ওভারসাইট নামে একটি নিরপেক্ষ নজরদারি সংস্থা ফ্রিডম অব ইনফরমেশন অ্যাক্টের মাধ্যমে সংগ্রহ করা টিএসএ ও আইসের মধ্যে স্বাক্ষরিত ১৬ পৃষ্ঠার সমঝোতা স্মারক বা মেমোরেন্ডাম অব অ্যাগ্রিমেন্ট প্রকাশ করেছে।
চুক্তি অনুযায়ী, জাতীয় নিরাপত্তা, পরিবহন নিরাপত্তা, আইন প্রয়োগ এবং অভিবাসন ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনার স্বার্থে টিএসএ ও আইসের মধ্যে যাত্রী-সংক্রান্ত নির্দিষ্ট তথ্য আদান-প্রদান ও সংরক্ষণের নীতিমালা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ তথ্য বিনিময়ের আইনি ভিত্তি হিসেবে সিকিউর ফ্লাইট ফাইনাল রুলের উল্লেখ রয়েছে।
এর আগে গত মার্চে কংগ্রেসে অর্থায়নসংক্রান্ত অচলাবস্থার কারণে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি আংশিকভাবে কার্যক্রম সীমিত করলে ট্রাম্প প্রশাসন দেশজুড়ে এক ডজনের বেশি বিমানবন্দরে টিএসএর জনবল ঘাটতি পূরণে আইসের কর্মকর্তাদের মোতায়েন করেছিল।
নতুন এ পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে অভিবাসী অধিকার সংগঠন ও আইনজীবীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, বিমানবন্দরকে অভিবাসন আইন প্রয়োগের নতুন কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করলে বৈধ কাগজপত্র থাকা বা আবেদন বিচারাধীন অবস্থায় থাকা অনেক বিদেশি নাগরিকও অপ্রত্যাশিতভাবে আটক হওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।