০৩ জুন ২০২৬, বুধবার, ০৩:৩৪:১৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
আরবি ভাষা ও শিক্ষা যুক্তরাষ্ট্রে জনপ্রিয় হচ্ছে গ্রিনকার্ডের আবেদন নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অপব্যাখ্যার পর পুনঃব্যাখ্যা, মামলার প্রস্তুতি বিশ্ব কূটনীতির সর্বোচ্চ মঞ্চে আবারো বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন ভিসা : দুইবারের বেশি দূতাবাসে যেতে হবে না অনলাইন জুয়ার বিস্তার উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে বড়রা এ প্রজন্মকে হাটে নিয়ে বিক্রি করে দিয়েছে খালেদা জিয়ার নামে নামকরণ : তারেক রহমানের ‘না’ সাক্ষাৎকার ছাড়াই দ্রুত আশ্রয় আবেদন বাতিলের পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনের নিউ জার্সির আইস ডিটেনশন সেন্টারে অমানবিক আচরণের অভিযোগ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আজ ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী


নদী-খাল পুনরুদ্ধার হোক জাতীয় প্রাধিকার
সালেক সুফী
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৩-০৬-২০২৬
নদী-খাল পুনরুদ্ধার হোক জাতীয় প্রাধিকার


নদীমাতৃক বাংলাদেশের অধিকাংশ মৃতপ্রায় নদনদী, খাল-বিল পুনঃখননের মাধ্যমে পুনরুদ্ধার হতে হবে গণতান্ত্রিক সরকারের অন্যতম প্রধান পুনরুদ্ধার। বাংলাদেশের নদীগুলো মূলত উজানে নেপাল আর ভারত থেকে উৎপত্তি হয়ে বাংলাদেশকে পলিমাটি সমৃদ্ধ করে দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরে মিলিত হয়েছে। কৃষিপ্রধান বাংলাদেশকে কৃষিপণ্য, পুষ্প পল্লব, মাছ, জলজ সম্পদে সমৃদ্ধ করায় নদনদীর অবদান অপরিসীম। বাংলাদেশের ঠিকানা বলা হয় পদ্মা, মেঘনা যমুনাকে। স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও বাংলাদেশের প্রধান প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে অধিকাংশ অভিন্ন নদনদীর পানিবণ্টন বিষয়াদি অনিষ্পন্ন থাকায় অসংখ্য শাখা নদীগুলো ঠিকানাবিহীন হয়ে গেছে।

এর সঙ্গে যোগ হয়েছে অবৈধ দখল, অবাধ দূষণ। উজানে ফারাক্কা বাঁধের প্রভাবে মূল পদ্মা নদীতেই পানি প্রবাহ কমে বিস্তীর্ণ পদ্মা অববাহিকায় মরুকরণ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। তিস্তা নদীর পানি বণ্টন দীর্ঘদিন ঝুলে থাকায় উত্তরবঙ্গ, যশোর, কুষ্টিয়া অঞ্চলেও অনেক শাখা নদী অস্তিত্বহীন হয়ে পড়েছে। এমতাবস্থায় কৃষি নির্ভর বাংলাদেশকে সেচ পাম্পের মাধ্যমে ভূতলের পানি উঠিয়ে কৃষিকাজ চালাতে হচ্ছে। নদীগুলোতে মৎস্যসম্পদ সীমিত হয়ে পড়েছে। জলপথে সীমিত হয়ে গেছে দেশব্যাপী যোগাযোগ ব্যবস্থা। শুস্ক মৌসুমে যেমন ব্যাহত হচ্ছে কৃষিকাজ ঠিক তেমনি বর্ষায় প্লাবনে ভেসে যাচ্ছে ক্ষেতের ফসল। একসময় ঢাকা, চট্টগ্রামসহ মহানগরীগুলোতে ছিল জালের মত বিস্তৃত খাল বিল. দখল দূষণে হারিয়ে গেছে অধিকাংশ খাল বিল। অপরিকল্পিত নগরায়নের কারণে মহানগরগুলো এখন জলজট, দূষণে বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

দুনিয়ার অধিকাংশ শহরের নাগরিক সভ্যতা বিকশিত হয়েছে একটি নদী ঘিরে। ঢাকার চারপাশে আছে বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, তুরাগ, বালু চারটি নদী। সব সরকার বলে নদীগুলো দখলমুক্ত করে ব্যাপক নদীখনন করে পরিবেশ উন্নয়ন করবে। জলপথে যোগাযোগ উন্নীত করে নগরীর যান জোট কমাবে। একই সঙ্গে নগরের খালগুলো পুনঃখনন করে জলাবদ্ধতা দূর করবে। কিন্তু প্রভাবশালীদের দুষ্টু প্রভাবে সব পরিকল্পনা মাঠে মারা যায়। তারেক জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি জোট সরকার নতুন করে খালখনন আর নদী উদ্ধারের যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সেটিকে জনসম্পৃক্ত করে বাধাহীন ভাবে এগিয়ে নিলে ৩-৫ বছরের মধ্যে সুফল মিলবে। কৃষি, যোগাযোগ, পরিবেশ রক্ষা, মৎস্য সম্পদ, জলজ সম্পদ উন্নয়নে বাপজ উন্নয়ন সাধিত হওয়ায় অর্থনীতি সমৃদ্ধ হবে। 

সরকার পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, কথা হচ্ছে তিস্তা ব্যারেজ নিয়েও। কিন্তু এ প্রকল্পগুলোর সাফল্য নির্ভর করবে উজানে নদীগুলোর পানি বণ্টন চুক্তির ওপর। প্রতিবেশী ভারতকে অবশ্যই আন্তর্জাতিক নিয়ম নিতে মেনে লোয়ার রাইপেরিয়ান বাংলাদেশের ন্যায্য অধিকার মেনে নিতে হবে। পদ্মা পানি বণ্টন চুক্তি নবায়ন করতে হবে, তিস্তাচুক্তি অবিলম্বে সম্পাদন করতে হবে। আশা করি, ভারত বাংলাদেশ পরস্পরের সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে অচিরেই পানি বণ্টন চুক্তি সম্পাদন করবে।

ব্যক্তিগতভাবে ঝালকাঠিতে জন্ম, ফরিদপুরে বেড়ে ওঠার কারণে এবং ঢাকা শহরে সত্তর দশক থেকে ২০০০ পর্যন্ত থাকার অভিজ্ঞতায় উপলব্ধি করে যদি ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা কীভাবেস অনেক সম্ভাবনার অপমৃত্যু ঘটিয়েছে। এখনো কিন্তু সমন্বিত পরিকল্পনা এবং সঠিক বাস্তবায়নের মাদ্ধমে পরিবর্তন সম্ভব।

শেষকথা, বাংলাদেশিদের উচিত নিজেদের স্বার্থে সরকারের নদী-খাল পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত হয়ে সরকারের উদ্যোগকে সফল করা।

শেয়ার করুন