২৩ জুলাই ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০৩:১৬:১৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
স্ত্রী-সন্তানকে বাঁচাতে গিয়ে দগ্ধ নোয়াখালীর সোহাগের মৃত্যু ব্রঙ্কসে ‘ডিটেকটিভ ফার্স্ট গ্রেড দিদারুল ইসলাম ওয়ে’ ফিলাডেলফিয়ার মসজিদে অগ্নিবোমা হামলা : গ্রেফতার ভিনসেন্ট ল্যাং নেতানিয়াহুকে গ্রেফতারের আইনি সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন মেয়র ইতিহাসের দ্বারপ্রান্তে আবদুল এল-সায়েদ নিউইয়র্কে ২.১ বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক কার্যক্রম সৃষ্টি, পর্যটন ও ব্যবসায় বড় সাফল্য টেক্সাসে মুসলিম শিক্ষাবিদের মামলা গ্রিনকার্ড আবেদনকারীদের জন্য ১ লাখ ডলারের বন্ড বিবেচনায় ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসন অভিযানে ব্যাপক নাগরিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এসিএলইউর প্রতিবেদনে গ্রিনকার্ড মূল্যায়নে মেডিকেইড, ফুড স্ট্যাম্প ও আবাসন সহায়তা বিবেচনায় নেবে ট্রাম্প প্রশাসন


অভিবাসন আদালতে গণশুনানি বা ‘মেগা মাস্টার’ শুনানি নিয়ে বিতর্ক
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ২২-০৭-২০২৬
অভিবাসন আদালতে গণশুনানি বা ‘মেগা মাস্টার’ শুনানি নিয়ে বিতর্ক ইমিগ্রেশন কোর্ট


যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আদালতগুলোতে নতুন ধরনের গণশুনানি বা মেগা মাস্টার শুনানি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করছে, দীর্ঘদিনের মামলার জট কমিয়ে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে অভিবাসন আইনজীবী, সাবেক বিচারক ও অধিকারকর্মীদের অভিযোগ, এ পদ্ধতির মূল লক্ষ্য হলো অভিবাসীদের দ্রুত বহিষ্কার করা। জুলাই ২০২৬-এ ম্যাসাচুসেটসের চেলমসফোর্ড অভিবাসন আদালতে অনুষ্ঠিত এক শুনানিতে বিচারক ক্রিস্টিন ওলসনের তালিকায় ১০০ জনেরও বেশি অভিবাসীর মামলা ছিল, যা সাধারণ দিনের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি। প্রতি আধাঘণ্টায় একসঙ্গে প্রায় এক ডজন আবেদনকারীকে আদালতে ডাকা হয়। তাদের মধ্যে ছিলেন মধ্য আমেরিকা, ব্রাজিল, হাইতি ও মেক্সিকো থেকে আসা অভিবাসীরা। অনেকেই জানান, তাদের মূল আশ্রয় শুনানি ২০২৮ সালে হওয়ার কথা থাকলেও হঠাৎ কয়েক দিনের নোটিশে নতুন শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

অভিবাসন আইনজীবীদের ভাষায়, এসব গণশুনানিকে বলা হচ্ছে মেগা মাস্টার শুনানি। তাদের মতে, এতো বিপুলসংখ্যক মামলা একসঙ্গে তালিকাভুক্ত হওয়ায় অনেক আবেদনকারী যথাযথভাবে নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ পাচ্ছেন না। ম্যাসাচুসেটসের অভিবাসন আইনজীবী জেসন জিয়ানেত্তি বলেন, শুধু সময়সূচি নির্ধারণের শুনানিতে অনুপস্থিত থাকলেও বিচারক বহিষ্কারের আদেশ দিতে পারেন, যা পরে বাতিল করা অত্যন্ত কঠিন। তার দাবি, দুই দশকের বেশি সময়ের আইনজীবী জীবনে এতো বড় পরিসরের শুনানি তিনি আগে দেখেননি। আইনজীবীদের অভিযোগ, অনেক অভিবাসী ডাকযোগে আদালতের নোটিশই পাচ্ছেন না। ফলে শুনানির তারিখ জানতে তাদের নিয়মিত সরকারি ওয়েবসাইট পর্যবেক্ষণ করতে হচ্ছে। এছাড়া কাগজপত্র শুধু হার্ড কপিতে জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা এবং আইনজীবী ছাড়া ব্যক্তিগতভাবে আদালতে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ অনেকের জন্য অতিরিক্ত ভোগান্তি সৃষ্টি করছে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আদালতগুলোতে প্রায় ৩২ লাখ মামলা বিচারাধীন রয়েছে। শুধু ম্যাসাচুসেটসেই বিচারাধীন মামলার সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৫২ হাজার। ট্রাম্প প্রশাসন ২০২৬ সালে অধিকাংশ মামলার নিষ্পত্তি এক বছরের মধ্যে এবং আটক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ৬০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

১৫ জুলাই ২০২৬ সিনেট জুডিশিয়ারি কমিটির শুনানিতে ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ১০ লাখের বেশি অভিবাসন মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে এবং মামলার জট প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার কমেছে। অন্যদিকে বিচার বিভাগের আওতাধীন এক্সিকিউটিভ অফিস ফর ইমিগ্রেশন রিভিউ জানিয়েছে, মামলার দীর্ঘসূত্রতা এড়াতে প্রয়োজনে বড় পরিসরের শুনানির ব্যবস্থা করা হচ্ছে এবং আদালতের সময়সূচিতে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হচ্ছে।

আমেরিকান ইউনিভার্সিটির গবেষক অস্টিন কোচারের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এপ্রিল ও মে ২০২৬-এ দেশজুড়ে প্রায় ৩০ হাজার মামলা ‘মেগা মাস্টার’ শুনানির মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছে। এর মধ্যে ৬৫ শতাংশ মামলায় বহিষ্কারের আদেশ দেওয়া হয়েছে এবং ওই আদেশগুলোর ৮৫ শতাংশই জারি হয়েছে আবেদনকারী আদালতে অনুপস্থিত থাকায়।

এদিকে জুলাই ২০২৬ থেকে চেলমসফোর্ড ও বোস্টনের অভিবাসন আদালতগুলোতে স্বেচ্ছাসেবীরা নিয়মিত শুনানি পর্যবেক্ষণ করছেন। তাদের উদ্দেশ্য আদালতের কার্যক্রম নথিভুক্ত করা এবং অভিবাসীরা ন্যায্য বিচার পাচ্ছেন কি না তা পর্যবেক্ষণ করা।

স্বেচ্ছাসেবী পর্যবেক্ষক মিশেল কান্তারা বলেন, আদালতের কার্যক্রম আরো দক্ষ করা গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা যেন ন্যায্য বিচারপ্রক্রিয়ার বিনিময়ে না হয়। তার দাবি, শুনানিতে প্রায় অর্ধেক আবেদনকারী উপস্থিত থাকতে পারেন না। ভাষাগত সমস্যা, আইনজীবীর অভাব এবং আদালতের বিশৃঙ্খল পরিবেশ অনেককে কার্যকরভাবে নিজেদের মামলা পরিচালনা করতে বাধাগ্রস্ত করছে।

অভিবাসন অধিকারকর্মীদের মতে, আদালতের দক্ষতা বাড়ানোর উদ্যোগের পাশাপাশি আবেদনকারীদের যথাযথ নোটিশ, ভাষান্তর সেবা এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের পূর্ণ সুযোগ নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, প্রশাসনের অবস্থান হলো দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা মামলার জট কমাতে এবং বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

শেয়ার করুন