২৩ জুলাই ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০৪:১৫:৩৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
স্ত্রী-সন্তানকে বাঁচাতে গিয়ে দগ্ধ নোয়াখালীর সোহাগের মৃত্যু ব্রঙ্কসে ‘ডিটেকটিভ ফার্স্ট গ্রেড দিদারুল ইসলাম ওয়ে’ ফিলাডেলফিয়ার মসজিদে অগ্নিবোমা হামলা : গ্রেফতার ভিনসেন্ট ল্যাং নেতানিয়াহুকে গ্রেফতারের আইনি সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন মেয়র ইতিহাসের দ্বারপ্রান্তে আবদুল এল-সায়েদ নিউইয়র্কে ২.১ বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক কার্যক্রম সৃষ্টি, পর্যটন ও ব্যবসায় বড় সাফল্য টেক্সাসে মুসলিম শিক্ষাবিদের মামলা গ্রিনকার্ড আবেদনকারীদের জন্য ১ লাখ ডলারের বন্ড বিবেচনায় ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসন অভিযানে ব্যাপক নাগরিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এসিএলইউর প্রতিবেদনে গ্রিনকার্ড মূল্যায়নে মেডিকেইড, ফুড স্ট্যাম্প ও আবাসন সহায়তা বিবেচনায় নেবে ট্রাম্প প্রশাসন


প্রধানমন্ত্রীকে একলা চলার পরিণতি মনে করিয়ে দিলো যুগপৎ আন্দোলনের সঙ্গীরা
সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ
  • আপডেট করা হয়েছে : ২২-০৭-২০২৬
প্রধানমন্ত্রীকে একলা চলার পরিণতি মনে করিয়ে দিলো যুগপৎ আন্দোলনের সঙ্গীরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান


ফ্যাসিবাদী স্টাইলে একলা চলার ভয়াবহ পরিণতির কথা মনে করিয়ে দিলো দীর্ঘ সময়ে সঙ্গে চলা বিএনপির সাথে আন্দোলনের সঙ্গীরা। উদার প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলের এসর সঙ্গীরা স্মরণ করিয়ে দিলেন, সেসময়ের বিভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক সামাজিক হেনস্থার কথা। জানানো হলো, আওয়ামী লীগের শাসনামলে ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে বিএনপির সাথে যুগপৎভাবে আন্দোলন করতে গিয়ে আন্দোলনের শরিকদলগুলির নেতাকর্মীরা কি কাঠখড় পুড়িয়েছিলেন। কেননা ওই সময়ে বিএনপির সাথে যুগপৎভাবে আন্দোলন ফ্যাসিবাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা গণমাধ্যমে বলা হতো ‘আপনারা (বিএনপির সাথে আন্দোলনের সঙ্গীদের) রাজাকার মৌলবাদীদের সাথে হাত মিলিয়েছেন। ’বলা হতো‘ বিএনপি একটা সাম্প্রদায়িক হিন্দু বিদ্বেষি দল।’ কথায় কথায় সেসময়ে আওয়ামী লীগের সব পর্যায়ের নেতারা মন্তব্য ছুঁড়ে দিয়ে বলতো যে, দেশে সরকারকে হটাতে দেশের সব ’ডান’ ও ’বাম’ রাজনৈতিক দল এবং ’রাজাকার’ বা যুদ্ধাপরাধের সমর্থকরা এক হয়ে গেছে’ শেখ হাসিনাও একাধিকবার অভিযোগ করেছিলেন যে, অতি বাম এবং ডান মিলে তাদের সরকার উৎখাতের চক্রান্ত করছে। 

অন্যদিকে ‘দেশে-বিদেশে প্রচার করা হতো বিএনপি বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধী দল।’ কুটনৈতিকদের ডেকে এনে সাজানো ঘটনা তুলে ধরে বলা হতো ‘উগ্রপন্থীদের সাথে বিএনপির ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ করছে।’ কিন্তু তারপরেও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে বিএনপির সাথে যুগপৎভাবে সভা সমাবেশ করেছি, মাঠে ছিলাম। এখনো আমরা সে-ই বিএনপি’র সরকারের সাফল্য চাই। সরকার যেন তার যোগ্যতা দিয়ে সফলতা অর্জন করে।’

কথাগুলো স্পস্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে ২০ জুলাই সোমবার বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে। সোমবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বিএনপির শরিক নেতাদের সম্মানে নৈশভোজের আয়োজন করা হয়। সে আয়োজনের আগে সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় সভার ফাঁকে ফাঁকে বিভিন্ন সময়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে এসব বিষয়গুলি একান্তে তুলে ধরেন যুগপৎ আন্দোলনের শরীক উদার প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা। এছাড়াও ভবিষ্যতে যুগপৎ আন্দোলণের এসব শরিকদের শীর্ষরা কিভাবে খোদ প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি পরামর্শ দিতে পারেন সে-ই সহযোগিতা চাওয়া হয়। কেননা অতীতে নানান ধরনের প্রোটোকল আর আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দেখিয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রীকে রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে দুরে রাখা হতো। এর পাশাপাশি উদার প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলের এসর সঙ্গীরা কিভাবে সহযোগিতার হাত প্রসারিত করতে পারে সেব্যাপারে কারো কারো পক্ষে বিভিন্ন ধরনের প্রস্তাব-পরামর্শ লিখিতভাবেই প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমানের হাতে সরাসরি তুলে দেন। তাদের পক্ষ থেকে বক্তব্য না দিয়ে বিস্তারিত পরামর্শমূলক বক্তব্যগুলোকে বিবেচনায় নিতে প্রধানমন্ত্রীকে তারা আহবান জানান শরিকদের শীর্ষ নেতারা। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসব বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চান কারো কাছে ব্যক্তিগতভাবে সময়। আর আরও বিষয়ে সবাই মিলে ভবিষ্যতে একসাথে এগুবেন বলে কথা দেন শরিকদলগুলির শীর্ষ নেতাদের। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারন সম্পাদক সাইফুল হক, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মুফতি মহিউদ্দিন ইকরাম বক্তব্য দেন। 

মতবিনিময়ে বৈঠকে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজসহ, যুগপৎ আন্দোলনের বিভিন্ন শরিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া গণফোরাম এর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হলেন সুব্রত চৌধুরী এবং বাংলাদেশের সাম্যবাদী দলের (এমএল) সাধারণ সম্পাদক হারুন চৌধুরী আন্দালিভ রহমান পার্থ, রফিকুল ইসলাম বাবলু, শাহাদাত হোসেন সেলিম, ফরিদুজ্জামান ফরহাদসহ বিভিন্ন দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা অংশ নেন।

বিএনপির পক্ষ থেকে দলের মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ শীর্ষস্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আভাস দিলেন সব জায়গায় গুপ্তদের কর্মকাণ্ড

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে শরিকদের পক্ষ থেকে কেউ কেউ জানিয়েছেন যে, বিএনপি ক্ষমতায় গিয়েছে। আর এখন ক্ষমতার মোহে চাটুকারিতারদের পাল্লায় পড়ে যেনো উদার প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলের এসর সঙ্গীদের সমালোচনায় যেনো বিএনপির গাত্রোদাহ না দেখা দেয়। কেননা এখনো প্রশাসন থেকে নিয়ে গণমাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী সাম্প্রদায়িক শক্তির কঠোর উপস্থিতি বিদ্যমান। তারা এখনো বিএনপির সাথে ওই সময়ে যুগপৎভাবে আন্দোলন করা শরিকদের সহ্য করে না। 

তারেক রহমানও জানেন এবং বললেনও

ফ্যাসিবাদী স্টাইলে একলা চলার পরিণতি স্মরণ করিয়ে দিতে দীর্ঘ আন্দোলনের সঙ্গীরা যখন একে একে বিভিন্নভাবে প্রধানমন্ত্রীকে জানালেন, তখন এই বিষয়গুলি যে তার সরকারের নজরে আছে তা স্পস্ট করলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী তা-ই মতবিনিময়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে টেনে আনেন গুপ্ত রাজনৈতিক দলের ফ্যাবিবাদি আমল ও বর্তমানে তাদের তৎপরতার কথা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “একটু পেছনে যাই- আমরা যখন আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে ছিলাম। কারও নাম আমি উল্লেখ করতে চাই না-যাদের একটি শব্দ ‘গুপ্ত’ ব্যবহার করলেই সাধারণ মানুষও তাদের চেনে। এদের কিন্তু ওই সময়ে আমরা অনেক খুঁজেছি, তাদের আমরা পাইনি, আমি পাইনি দূরে থেকে। আপনারা কি কেউ পেয়েছিলেন রাজপথে তাদের? তাদের কিন্তু রাজপথে আমরা দেখিনি। বিভিন্ন সময়ে তাদের দেখেছি, যারা পালিয়ে গেছে এই দেশ থেকে তাদের সঙ্গে বিভিন্নভাবে আমরা দেখেছি। রাজপথে দেখিনি, শেষের দিকে কিছু কিছু জায়গায় তাদের দেখেছি। কিন্তু ১৭ বছর বিভিন্ন জায়গায় আমরা তাদের দেখিনি।

গুপ্তরা অন্তর্বর্তী সরকারের চাদরের তলায় ছিলেন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই সময় একটি স্পর্শকাতর তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আপনারা নিশ্চয়ই দেখেছেন ৫ আগস্ট স্বৈরাচার বিতাড়িত হয়েছিল। স্বৈরাচার বিতাড়িত হওয়ার পরে একটি গুপ্ত বাহিনী আগস্টের ৫ তারিখের পরে ধীরে ধীরে আত্মপ্রকাশ করেছিল। আপনাদের পরিষ্কার মনে আছে যে তারা ১২ তারিখের নির্বাচনে এবং নির্বাচনের আগে কি স্বৈরাচারী কায়দায় ডিজিটাল ওয়েতে তারা কীভাবে তাদের কাজগুলো চালিয়েছিল?’ প্রধানমন্ত্রী তুলে ধরেন কিভাবে অন্তর্বর্তী সরকারের চাদরের তলায় আশ্রয় নিয়ে গুপ্তরা প্রশাসনের রন্ধে রন্ধে ঢুকে পড়ে। তিনি এই প্রসঙ্গে ‘অন্তর্বতীকালীন সরকারের এক উপদেষ্টার কথা উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কয়েকদিন আগে আমার সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একজন উপদেষ্টার সাক্ষাৎ হয়েছিল। কথা প্রসঙ্গে তিনি বলছিলেন, তারা যে ১৮ মাসের মতন দেশ পরিচালনা করেছেন, এই ১৮ মাস তারা কত অসহায়ের মতো ছিলেন। তিনি (উপদেষ্টা) বলছেন, সরকারের ৬০ শতাংশের ওপরে সেই গুপ্ত বাহিনীর প্রভাব ছিল।’ 

শেয়ার করুন