২৯ এপ্রিল ২০২৬, বুধবার, ১০:২৭:২২ অপরাহ্ন


ক্যাপিটল হিলে ১১তম ন্যাশনাল মুসলিম অ্যাডভোকেসি ডে
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৯-০৪-২০২৬
ক্যাপিটল হিলে ১১তম ন্যাশনাল মুসলিম অ্যাডভোকেসি ডে ক্যাপিটল হিলে ১১তম ন্যাশনাল মুসলিম অ্যাডভোকেসি ডে উপলক্ষে অংশগ্রহণকারীদের সক্রিয় উপস্থিতি ও কার্যক্রম


যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত ১১তম বার্ষিক ন্যাশনাল মুসলিম অ্যাডভোকেসি ডেতে এবারের আয়োজন ইতিহাস গড়েছে। গত ২০-২১ এপ্রিল ইউএস কাউন্সিল অব মুসলিম অর্গানাইজেশনসের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে যুক্তরাষ্ট্রের ৩৩টি অঙ্গরাজ্য থেকে হাজারেরও বেশি মুসলিম প্রতিনিধি অংশ নেন, যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ অংশগ্রহণ হিসেবে রেকর্ড হয়েছে। দুদিনব্যাপী এ কর্মসূচিতে মুসলিম প্রতিনিধিদলগুলো সংগঠিতভাবে কংগ্রেসের সদস্য ও স্টাফদের সঙ্গে নীতিগত বিষয় নিয়ে আলোচনা করে।

ইউএস কাউন্সিল অব মুসলিম অর্গানাইজেশনস জানায়, এবারের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ইসলামোফোবিয়া নির্মূল, জবাবদিহিতা দাবি এবং ন্যায়বিচারের জন্য সংগ্রাম, যা বর্তমান সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে কেন্দ্র করে নির্ধারণ করা হয়। আয়োজকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ৭০টিরও বেশি সংগঠন ও মসজিদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় এই বিশাল অংশগ্রহণ সম্ভব হয়েছে। এর মধ্যে মুসলিম উম্মাহ অব নর্থ আমেরিকা (মুনা), কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (কেয়ার) এবং ইসলামিক সার্কেল অব নর্থ আমেরিকা (ইকনা) উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। এ বছর ইকনা সর্বাধিক নিবন্ধনকারী হিসেবে শীর্ষে ছিল, কেয়ার দ্বিতীয় এবং মুনা তৃতীয় স্থানে ছিল।

দুদিনের কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারীরা কংগ্রেস সদস্যদের সঙ্গে ২৬০টিরও বেশি বৈঠক করেন এবং ক্যাপিটল হিলে বিভিন্ন অফিসে অসংখ্য ড্রপ-ইন সাক্ষাৎ সম্পন্ন করেন। এসব বৈঠকে মুসলিম প্রতিনিধিদলগুলো একটি সুসংগঠিত নীতিগত এজেন্ডা উপস্থাপন করে। তাদের প্রধান দাবির মধ্যে ছিল তথাকথিত শারিয়া-ফ্রি আমেরিকা ককাস এবং এর সংশ্লিষ্ট বিলগুলোর বিরোধিতা, যেগুলোকে মুসলিমবিরোধী বৈষম্যমূলক আইন হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। তারা কংগ্রেসকে এসব উদ্যোগ প্রত্যাখ্যান এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানায়।

পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রেও প্রতিনিধি দলগুলো কঠোর অবস্থান তুলে ধরে। তারা গাজায় চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে মার্কিন অর্থায়ন বন্ধ, ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধি রোধ এবং সুদানসহ বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার দাবি জানায়। পাশাপাশি, তারা কংগ্রেসের সাংবিধানিক ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করে যুদ্ধ সিদ্ধান্তে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানায়। একই সঙ্গে অভিবাসন আইন ও কর ব্যবস্থার অপব্যবহার করে রাজনৈতিক কর্মী ও সংগঠনকে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগের বিরুদ্ধেও তারা অবস্থান নেয়।

এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের সামনে একটি প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে উইসকনসিনের মুসলিম কমিউনিটি নেতা সালাহ সারসুরার আইস আটককে কেন্দ্র করে তার মুক্তির দাবি জানানো হয়। বক্তারা অভিযোগ করেন, ফিলিস্তিনপন্থী রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে বিভিন্ন মুসলিম ও অ্যাকটিভিস্টকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে এবং এটি সাম্প্রতিক সময়ে একটি বিস্তৃত প্রবণতায় পরিণত হয়েছে। এ প্রসঙ্গে মাহমুদ খলিল এবং রাশা আলাওয়িয়েহসহ আরো কয়েকজনের নামও উল্লেখ করা হয়।

পরদিন ইউএস কাউন্সিল অব মুসলিম অর্গানাইজেশনস কংগ্রেসম্যান আল গ্রিনের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলন করে অ্যান্ডি ওগলসের বিরুদ্ধে ইসলামবিদ্বেষমূলক বক্তব্যের নিন্দা জানিয়ে একটি প্রস্তাব সমর্থন করে। তারা জোর দিয়ে বলে, কংগ্রেসে ইসলামফোবিয়ার কোনো স্থান থাকতে পারে না এবং এটি সরাসরি চ্যালেঞ্জ করা প্রয়োজন।

ইউএস কাউন্সিল অব মুসলিম অর্গানাইজেশনসের সেক্রেটারি জেনারেল ওসামা জামাল বলেন, দীর্ঘদিনের তৃণমূল পর্যায়ের সংগঠিত প্রচেষ্টার ফলেই আজ মুসলিম সম্প্রদায় এতো বড় পরিসরে ক্যাপিটল হিলে উপস্থিত হতে সক্ষম হয়েছে। তিনি বলেন, এ আন্দোলন কেবল একদিনের কর্মসূচি নয়, বরং বছরের পর বছর ধরে গড়ে ওঠা ধারাবাহিক নাগরিক সম্পৃক্ততার প্রতিফলন। একইভাবে অ্যাডভোকেসি কমিটির চেয়ার এবং কেয়ারের সরকার বিষয়ক পরিচালক রবার্ট এস. ম্যাককা বলেন, মুসলিম প্রতিনিধিদল এখন আর শুধু অংশগ্রহণ করছে না, বরং নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে প্রভাব ফেলছে।

সপ্তাহজুড়ে অংশগ্রহণকারীরা রে বার্ন হাউস অফিস বিল্ডিংকে কেন্দ্র করে সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনা করেন, যা যোগাযোগ, সংগঠন এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়ার কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আয়োজকদের মতে, এ কাঠামোই রেকর্ডসংখ্যক অংশগ্রহণকে কার্যকর রাজনৈতিক সম্পৃক্ততায় রূপ দিতে সহায়তা করেছে।

শেয়ার করুন