১৭ এপ্রিল ২০২৬, শুক্রবার, ০২:৩৭:১৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
টাইম ম্যাগাজিনে বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খালেদা জিয়া সহ দেশের ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও পাঁচ প্রতিষ্ঠানকে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ পদক প্রদান যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েল নিয়ে জনমত বদলাচ্ছে টেক্সাসে পাঠ্যক্রমে ইসলাম ও সংখ্যালঘু ইতিহাস পরিবর্তন ঘিরে তীব্র বিতর্ক ট্রাম্প অ্যাকাউন্টস : চার মিলিয়নের বেশি শিশু নিবন্ধিত নিউ ইয়র্কে ২-কে চাইল্ড কেয়ার হবে পূর্ণ দিবস ও বছরব্যাপী ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থীদের ডিপোর্টেশন ঠেকানোর রায় দেওয়ায় দুই অভিবাসন বিচারককে বরখাস্তের অভিযোগ ইমিগ্রেশন আপিল বোর্ডে মাহমুদ খলিলের আপিল খারিজ লংআইল্যান্ডে মসজিদ সম্প্রসারণে প্রশাসনিক বাধা নাটক-সিনেমা দেখে কি বার্তা দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী?


দেশকে রুমানা মুক্তি
মায়ের স্বপ্ন পূরণে নির্বাচনে লড়ব
আলমগীর কবির
  • আপডেট করা হয়েছে : ১৫-০৪-২০২৬
মায়ের স্বপ্ন পূরণে নির্বাচনে লড়ব রুমানা ইসলাম মুক্তি


চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির আসন্ন নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন চিত্রনায়িকা রুমানা ইসলাম মুক্তি। বর্তমান কার্যনির্বাহী পরিষদের এই সদস্য জানান, ব্যক্তিগত কোনো উচ্চাকাঙ্ক্ষা নয়, বরং কিংবদন্তি মা আনোয়ারা বেগমের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন পূরণ এবং সাধারণ শিল্পীদের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতেই তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ পদে লড়াই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ বিষয়ে তিনি কথা বলেছেন নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত পাঠকপ্রিয় দেশ পত্রিকার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আলমগীর কবির

প্রশ্ন: শিল্পী সমিতির আসন্ন নির্বাচনে আপনি সাধারণ সম্পাদক পদে লড়ছেন। এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল অনুপ্রেরণা কী?

মুক্তি: দেখুন, শিল্পী সমিতি আমার পরিবারের মতো। আমার এই সিদ্ধান্তের পেছনে সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা আমার মা, কিংবদন্তি অভিনেত্রী আনোয়ারা বেগম। মা নিজেও বিগত সময়ে সমিতির কমিটিতে ছিলেন। ওনার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন আমি যেন সাধারণ সম্পাদক হিসেবে শিল্পীদের জন্য বড় পরিসরে কিছু করি। মায়ের সেই ইচ্ছা পূরণ আর শিল্পীদের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করতেই এবার এই পদে প্রার্থী হচ্ছি।

প্রশ্ন: নির্বাচনের মূল লক্ষ্য বা ইশতেহার হিসেবে আপনি কোন বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দিচ্ছেন?

মুক্তি: আমার মূল লক্ষ্য হচ্ছে শিল্পী সমিতিকে আরও সক্রিয় এবং গতিশীল করা। অনেক সদস্যই এখন সমিতি বিমুখ হয়ে পড়েছেন। আমি চাই তাদের ভুল বোঝাবুঝি দূর করে পুনরায় সমিতি মুখী করতে। সদস্যদের জন্য কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া এবং সবার বিপদে-আপদে পাশে থাকাই হবে আমার প্রধান কাজ।

প্রশ্ন: আপনি বর্তমান কমিটির কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য। এই সময়ের অভিজ্ঞতা আপনার নির্বাচনে কতটা কাজে দেবে?

মুক্তি: গত দেড় বছর আমি শিল্পী সমিতির প্রতিটি কাজে অত্যন্ত সক্রিয় ছিলাম। এই সময়ে আমি ভেতর থেকে বুঝতে পেরেছি শিল্পীদের চাওয়া-পাওয়াগুলো কী। বিশেষ করে, আমরা যখন প্রয়াত শিল্পীদের স্মরণে ‘স্মৃতির আয়নায় কিংবদন্তির দৃশ্য’ শীর্ষক অনুষ্ঠানটি করেছিলাম, সেটি ছিল এক বিশাল অভিজ্ঞতা এবং সাফল্য। এই অভিজ্ঞতাগুলোই আমাকে বড় দায়িত্ব নিতে আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে।

প্রশ্ন: বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২৪ এপ্রিল। নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে আপনি কতটা আশাবাদী?

মুক্তি: আমি সব সময় পজিটিভ চিন্তায় বিশ্বাস করি। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জুলাই বা আগস্টের দিকে নির্বাচন হওয়ার কথা। আমি এখন থেকেই সাধারণ সদস্যদের সাথে যোগাযোগ করছি, তাদের সমস্যার কথা শুনছি। শিল্পীদের ভালোবাসা আর মায়ের দোয়া থাকলে আমি আশাবাদী যে, একটি সুন্দর ও সুশৃঙ্খল সমিতি উপহার দিতে পারব।

প্রশ্ন: সাধারণ সম্পাদক পদটি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং এবং এখানে অনেক প্রশাসনিক দায়িত্ব থাকে। এই চাপ সামলাতে আপনি কতটা প্রস্তুত?

মুক্তি: আমি জানি এটি একটি বড় দায়িত্ব। কিন্তু আমি তো চলচ্চিত্রের পরিবেশেই বড় হয়েছি, তাই শিল্পীদের সুখ-দুঃখ আমার অজানা নয়। এছাড়া বর্তমান কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে আমি গত দেড় বছর অনেক কাজ সরাসরি তদারকি করেছি। আমি বিশ্বাস করি, সততা এবং স্বচ্ছতা থাকলে যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব। আমি কেবল নামেমাত্র সাধারণ সম্পাদক হতে চাই না, বরং কাজের মাধ্যমে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চাই।

প্রশ্ন: শিল্পীদের মানোন্নয়ন বা নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য আপনার বিশেষ কোনো পরিকল্পনা আছে কি?

মুক্তি: অবশ্যই। আমাদের সমিতিতে অনেক মেধাবী শিল্পী আছেন যাদের সঠিক মূল্যায়নের প্রয়োজন। আমি চাই শিল্পী সমিতি কেবল পিকনিক বা নির্বাচনকেন্দ্রিক না হয়ে সারা বছর শিল্পীদের পেশাদারিত্ব বাড়াতে কাজ করুক। নতুনদের জন্য কর্মশালা আয়োজন এবং প্রবীণদের সম্মাননা দেওয়ার মাধ্যমে একটি সেতুবন্ধন তৈরি করতে চাই। আমরা সবাই মিলে যদি ঐক্যবদ্ধ থাকি, তবেই চলচ্চিত্রের সোনালি দিন ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

শেয়ার করুন