২৬ মার্চ ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০৪:৪৪:৪৪ পূর্বাহ্ন


দেশকে নাজিফা তুষি
অভিনেত্রী হওয়াই ছিল একমাত্র লক্ষ্য
আলমগীর কবির
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৫-০৩-২০২৬
অভিনেত্রী হওয়াই ছিল একমাত্র লক্ষ্য নাজিফা তুষি


শৈশব থেকে আজ পর্যন্ত একটি স্বপ্নকেই লালন করেছেন তিনি; তা হলো বড় পর্দার সফল অভিনেত্রী হওয়া। সেই লক্ষ্য নিয়ে কঠোর পরিশ্রম আর নিষ্ঠার সাথে নিজেকে তৈরি করে চলেছেন নাজিফা তুষি। এবারের ঈদে নির্মাতা রায়হান রাফীর ‘প্রেশার কুকার’ সিনেমায় নিজের অভিনয়ের মুন্সিয়ানা দেখাতে হাজির হয়েছেন এই তারকা। নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত পাঠকপ্রিয় দেশ পত্রিকার সঙ্গে নিজের ক্যারিয়ার, ফিটনেস রহস্য এবং ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ নিয়ে অকপটে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আলমগীর কবির 

প্রশ্ন: এবারের ঈদে আপনার অভিনীত ‘প্রেশার কুকার’ সিনেমাটি মুক্তি পেয়েছে। সিনেমাটি নিয়ে আপনার প্রত্যাশা এবং অনুভূতি কেমন?

নাজিফা তুষি: এবারের ঈদটা আমার জন্য ভীষণ স্পেশাল। রায়হান রাফীর পরিচালনায় ‘প্রেশার কুকার’ সিনেমাটি নিয়ে আমরা সবাই খুব পরিশ্রম করেছি। সত্যি বলতে, আমি জীবনে একটা জিনিসই হতে চেয়েছি ‘অভিনেত্রী’। এই সিনেমাটিতেও আমি একজন অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে নতুন করে প্রমাণ করার চেষ্টা করেছি। আমি জানি না কতটুকু পেরেছি, তবে আমার চেষ্টার কোনো কমতি ছিল না। এখন সিনেমাটি দর্শকদের হাতে। তারা হলে গিয়ে কীভাবে সিনেমাটি গ্রহণ করেন এবং আমার চরিত্রটি নিয়ে কী প্রতিক্রিয়া জানান, আমি এখন সেই অপেক্ষায় আছি। দর্শকদের ভালোবাসা আর গঠনমূলক সমালোচনাই আমার আগামীর পথচলার শক্তি।

প্রশ্ন: অভিনয়ের প্রতি আপনার এই যে প্রবল টান, এটা কি ছোটবেলা থেকেই ছিল? আপনি নিজেকে একজন অভিনেত্রী হিসেবে কতটুকু সফল মনে করেন?

নাজিফা তুষি: আমি সবসময় বিশ্বাস করি, লক্ষ্য স্থির থাকলে গন্তব্যে পৌঁছানো সহজ হয়। আমার ক্ষেত্রেও তাই, অভিনেত্রী হওয়ার বাইরে অন্য কোনো ইচ্ছা আমার কখনোই ছিল না। আজও সেই চেষ্টা বিদ্যমান। আমি সফল কি না, সেই বিচার আমি নিজে করতে চাই না। আমি এখনো শিখছি, প্রতিনিয়ত নিজেকে ভাঙছি আর গড়ছি। একজন অভিনয়শিল্পী হিসেবে সার্থকতা তখনই আসে যখন দর্শক পর্দার চরিত্রটির সঙ্গে নিজেকে মেলাতে পারে। আমি সেই সার্থকতাটুকুর জন্যই প্রতিনিয়ত লড়াই করে যাচ্ছি।

প্রশ্ন: সম্প্রতি এক আড্ডায় আপনি আপনার ব্যক্তিত্বকে ঝাল ও মিষ্টির সাথে তুলনা করেছেন। বিষয়টি একটু বিস্তারিত বলবেন কি?

নাজিফা তুষি: (হেসে) আসলে আমি মানুষ হিসেবে খুব সহজ আর প্রাণবন্ত থাকতে পছন্দ করি। আমার ব্যক্তিত্বে দুই ধরনের স্বাদই আছে। মজার ব্যাপার হলো, আমি মানুষকে মিষ্টি খাওয়াতে খুব পছন্দ করি, কিন্তু নিজে যখন খাওয়ার কথা আসে, তখন ঝালটাই আমার বেশি প্রিয়। ঝাল খাবার আমার মুড ভালো করে দেয়। এই ঝাল আর মিষ্টির দ্বৈত পছন্দই আসলে আমার স্বভাবের প্রতিফলন কখনো খুব নরম, আবার কাজের ক্ষেত্রে হয়তো বেশ কড়া।

প্রশ্ন: আপনার ফিটনেস নিয়ে ভক্তদের মনে অনেক কৌতূহল। এত স্লিম থাকার রহস্য কী? আপনি কি খুব কড়া ডায়েট মেনে চলেন?

নাজিফা তুষি: এই প্রশ্নটা আমাকে প্রায়ই শুনতে হয়! সত্যি বলতে, আমার ফিটনেসের পেছনে কোনো গোপন রহস্য নেই, বরং এটা অনেকটাই জেনেটিক। আমি কিন্তু বেশ ভালোই খাই, কোনো কড়া ডায়েট ফলো করি না। তবে অবাক করা বিষয় হলো, আমি যা-ই খাই না কেন, সেটা আমার শরীরে খুব একটা লাগে না। আমি আসলে খুব বেশি ফিটনেস সচেতন মানুষও নই। বরং মানুষ যেখানে ওজন কমানোর জন্য ঘাম ঝরায়, আমি ঠিক উল্টো আমি একটু হেলদি হওয়ার জন্য ওয়ার্কআউট করি! আমি চাই আমাকে দেখতে একটু স্বাস্থ্যবান লাগুক, তাই নিজেকে ফিট রাখতে মাঝেমধ্যে শরীরচর্চা করি।

প্রশ্ন: ‘প্রেশার কুকার’ সিনেমার নামের সাথে রান্নার একটা যোগসূত্র আছে। বাস্তবে নাজিফা তুষি রান্নাঘরে কতটা পটু?

নাজিফা তুষি: নামটা শুনলে রান্নার কথা মনে আসা খুব স্বাভাবিক। কিন্তু বাস্তব জীবনে রান্নাঘরে আমার যাতায়াত খুব একটা বেশি নয়। আমি রান্না খুব কম করি। তবে রান্নার অভিজ্ঞতা যে খুব খারাপ, তা কিন্তু নয়। মজার বিষয় হলো, ‘প্রেশার কুকার’ সিনেমাটি করতে গিয়েও প্রেশার কুকারে খুব একটা রান্না করার প্রয়োজন পড়েনি। তবে হ্যাঁ, রান্নার প্রতি আমার আলাদা একটা ভালো লাগা আছে, যদিও সময় ও সুযোগের অভাবে খুব একটা হয়ে ওঠে না।

প্রশ্ন: আপনি মিষ্টি জাতীয় খাবার ভালো রাঁধতে পারেন বলে জানিয়েছেন। বাংলা খাবারের ক্ষেত্রে আপনার দক্ষতা কেমন?

নাজিফা তুষি: রান্নার ক্ষেত্রে আমার একটা ছোট সীমাবদ্ধতা আছে। আমি বাঙালি ঘরানার ঐতিহ্যবাহী খাবারগুলো খুব একটা ভালো রাঁধতে পারি না। মাছ বা মাংসের ঝোল এসব করতে গেলে আমি একটু খেই হারিয়ে ফেলি। তবে মিষ্টি জাতীয় খাবারের ক্ষেত্রে আমি বেশ আত্মবিশ্বাসী। ডেজার্ট বা মিষ্টি কোনো আইটেম তৈরি করতে দিলে আমি সেটা বেশ চমৎকারভাবে করতে পারি। এটাই হয়তো আমার রান্নার দক্ষতার বিশেষ জায়গা।

শেয়ার করুন