০৪ মার্চ ২০২৬, বুধবার, ০৪:৩১:১৩ অপরাহ্ন


দেশকে কুসুম সিকদার
দর্শকদের ভালোবাসা দেখে মনে হয়েছে তারা আমাকে ভোলেনি
আলমগীর কবির
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৪-০৩-২০২৬
দর্শকদের ভালোবাসা দেখে মনে হয়েছে তারা আমাকে ভোলেনি কুসুম সিকদার


দীর্ঘ বিরতি ভেঙে ‘শরতের জবা’ দিয়ে রূপালি পর্দায় ফেরার পর এবার ৯ বছর পর গানে ফিরলেন কুসুম সিকদার। নজরুলসংগীতের হাত ধরে এই ফেরা এবং ওটিটি প্ল্যাটফর্মে তার অভিষেক নিয়ে নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত পাঠকপ্রিয় দেশ পত্রিকার সঙ্গে কথা বলেছেন এই গুণী শিল্পী। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আলমগীর কবির 

প্রশ্ন: দীর্ঘ ৯ বছর পর গানে ফিরলেন, তাও আবার নজরুলের নাতে রাসুল দিয়ে। এই ফেরাটা আপনার কাছে কতটা বিশেষ?

কুসুম সিকদার: ফিরতে পেরে ভীষণ ভালো লাগছে। ২০১৭ সালে আমার সবশেষ গান ‘নেশা’ প্রকাশ পেয়েছিল। এরপর অনেকটা সময় কেটে গেছে। যেহেতু আমি মূলত নজরুল একাডেমি থেকে নজরুলসংগীত ও ধ্রুপদি সংগীতে তালিম নিয়েছি, তাই নজরুলের গান বা নাতে রাসুল দিয়েই সংগীতে ফেরাটা আমার জন্য অনেকটা শেকড়ে ফেরার মতো। এই ধারাটি আমার জন্য সহজ এবং স্বাচ্ছন্দ্যেরও বটে।

প্রশ্ন: ‘হেরা হতে হেলে দুলে’ গানটির মিউজিক ভিডিওতে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার করা হয়েছে। এই নতুন অভিজ্ঞতা সম্পর্কে কিছু বলুন।

কুসুম সিকদার: এটি সত্যিই একটি ব্যতিক্রমী বিষয়। ফরিদুর রেজা সাগর ও শাইখ সিরাজের পরিকল্পনায় ইমপ্রেস টেলিফিল্মের ব্যানারে ভিডিওটি নির্মিত হয়েছে। পুরো পৃথিবীই এখন প্রযুক্তির দিকে দ্রুত ধাবিত হচ্ছে। আমরাও যে সেই তাল মিলিয়ে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করছি, এটা আমাদের ইন্ডাস্ট্রির জন্য দারুণ একটা ইতিবাচক দিক।

প্রশ্ন: ছয় বছরের দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে গত বছর ‘শরতের জবা’ দিয়ে অভিনয়ে ফিরলেন। এই দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে ফেরার পর কাজের পরিবেশে কোনো পরিবর্তন লক্ষ্য করেছেন?

কুসুম সিকদার: পরিবর্তন তো কিছুটা আছেই, বিশেষ করে কারিগরি দিক থেকে আমরা অনেক এগিয়েছি। তবে বিরতিটা আমি নিয়েছিলাম নিজের ব্যক্তিগত কারণে। ফেরার পর দেখেছি কাজের ধরন বদলেছে, এখন অনেক বেশি এক্সপেরিমেন্টাল কাজ হচ্ছে। ‘শরতের জবা’ সিনেমার মাধ্যমে যখন ফিরলাম, দর্শকদের ভালোবাসা দেখে মনে হয়েছে তারা আমাকে ভোলেনি। এই ভালোবাসাটাই আমাকে নতুন করে কাজ করার প্রেরণা দিচ্ছে।

প্রশ্ন: বড় পর্দা ও ছোট পর্দার পর এবার প্রথমবার ওটিটিতে কাজ করলেন ‘পাপ কাহিনী ২’ সিরিজে। মাধ্যমের এই পরিবর্তন কি অভিনয়ের ধরনে কোনো প্রভাব ফেলেছে?

কুসুম সিকদার: আমার কাছে অভিনয়ের ক্ষেত্রে মাধ্যমটা কখনোই মুখ্য নয়। শুটিংয়ের সময় বড় পর্দা বা ওটিটির মধ্যে আমি কোনো পার্থক্য অনুভব করিনি। মূল কাজ তো অভিনয় করা, তাই চরিত্র অনুযায়ী নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আর পরিচালক শাহরিয়ার নাজিম জয়ের সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের পরিচয় ও ভালো বোঝাপড়া থাকায় কাজটা বেশ আনন্দের ছিল।

প্রশ্ন: আপনার কাজের সংখ্যা তুলনামূলক কম। এটি কি সচেতনভাবেই করা?

কুসুম সিকদার: একদমই তাই। অভিনয়শিল্পী হিসেবে আমি সবসময়ই খুব সিলেক্টিভ বা চুজি। আমি চাই না আমার কাজে কোনো ‘রিপিটেশন’ থাকুক। একই ধরনের চরিত্রে বারবার অভিনয় করতে আমার ভালো লাগে না, আর এই কারণেই আমার কাজের সংখ্যা কম। আমি যেমন কাজ করতে পছন্দ করি, ‘পাপ কাহিনী ২’-এর গল্পটিও ঠিক তেমন।

প্রশ্ন: আপনি তো একাধারে অভিনয় করছেন, গান গাইছেন এবং লেখক হিসেবেও পরিচিত। ভবিষ্যতে কি অভিনয়ের চেয়ে নির্মাণ বা চিত্রনাট্য লেখায় আপনাকে বেশি দেখা যাবে?

কুসুম সিকদার: আমি আসলে শিল্পের প্রতিটি মাধ্যমই উপভোগ করি। যেমন ‘শরতের জবা’র গল্প ও চিত্রনাট্য আমার নিজের ছিল। তবে অভিনয়টা আমার প্রাণের জায়গা। আমি সবসময়ই চেয়েছি সংখ্যায় কম হলেও মানসম্মত কাজ করতে। ভবিষ্যতে হয়তো নিজের লেখা গল্পে আরও কাজ করব, তবে অভিনয় এবং গান দুটিই সমান্তরালভাবে চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছে আছে। আমি মনে করি, একজন শিল্পী হিসেবে নিজেকে বারবার ভেঙে নতুনভাবে উপস্থাপন করাটাই বড় চ্যালেঞ্জ।

শেয়ার করুন