১৩ মে ২০২৬, বুধবার, ০৬:৩৩:৩৬ অপরাহ্ন


শিশু ভরণপোষণ বকেয়া, পাসপোর্ট বাতিল শুরু
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ১৩-০৫-২০২৬
শিশু ভরণপোষণ বকেয়া, পাসপোর্ট বাতিল শুরু ইউএস পাসপোর্ট


যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরে শিশু ভরণপোষণের অর্থ পরিশোধ না করা অভিভাবকদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে ইউএস স্টেট ডিপার্টমেন্ট। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যেসব মার্কিন নাগরিকের বকেয়া অর্থের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য, তাদের পাসপোর্ট বাতিল করা হবে। পররাষ্ট্র দফতর জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে যাদের বকেয়া ১ লাখ ডলার বা তার বেশি, এমন প্রায় ২ হাজার ৭০০ জন পাসপোর্টধারীকে এই ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে। গত ৯ মে থেকে এ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর পাশাপাশি আরো বড় পরিসরে এ কর্মসূচি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। ১৯৯৬ সালের একটি আইনের ভিত্তিতে, যাদের বকেয়া ২ হাজার ৫০০ ডলারের বেশি, তাদেরও পাসপোর্ট বাতিলের আওতায় আনা হবে। তবে এ পর্যায়ে কতজন প্রভাবিত হবেন তা এখনো নিশ্চিত নয়, কারণ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে তথ্য সংগ্রহ চলছে। এর আগে এ নীতি শুধু পাসপোর্ট নবায়নের সময় প্রযোজ্য ছিল। কিন্তু নতুন নিয়মে এখন সক্রিয়ভাবে তালিকা ধরে ধরে বকেয়া থাকা ব্যক্তিদের পাসপোর্ট বাতিল করা হবে। 

স্টেট ডিপার্টমেন্টের কনস্যুলার বিষয়ক সহকারী সেক্রেটারি মরা নামদার বলেন, এ পদক্ষেপ শিশুদের প্রাপ্য অর্থ আদায় নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে এবং যারা তাদের বকেয়া পরিশোধ করবেন, তারা পুনরায় পাসপোর্ট পাওয়ার সুযোগ পাবেন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এ কর্মসূচি ১৯৯৮ সাল থেকে কার্যকর রয়েছে এবং এখন পর্যন্ত শত শত মিলিয়ন ডলার বকেয়া আদায় করা হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এককালীন বড় অঙ্কের অর্থ পরিশোধের ঘটনাও বেড়েছে। নতুন ব্যবস্থায় যাদের পাসপোর্ট বাতিল হবে, তাদেরকে বকেয়া পরিশোধের পর নতুন করে পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে হবে। আর বিদেশে অবস্থানরত কেউ যদি এ কারণে সমস্যায় পড়েন, তবে তাকে মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেট থেকে জরুরি ভ্রমণ নথি নিয়ে দেশে ফিরতে হবে। 

আইস ও সিবিপির জন্য অতিরিক্ত প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলার অর্থ বরাদ্দের পথে সিনেট

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে অভিবাসন নীতি নিয়ে নতুন করে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। এবার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) এবং এর অধীনস্থ দুই গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা ইউ এস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) এবং ইউএস কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি)। মার্কিন সিনেটে এমন একটি বিল এগিয়ে যাচ্ছে, যেখানে ২০২৯ সাল পর্যন্ত এ দুই সংস্থার জন্য অতিরিক্ত প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। 

এ প্রস্তাব অনুমোদিত হলে, গত বছর দেওয়া প্রায় ১৭০ বিলিয়ন ডলারের পর আরো বড় অঙ্কের অর্থ যুক্ত হবে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ ও সীমান্ত নিরাপত্তা খাতে। সমালোচকদের মতে, এটি শুধু অর্থের পরিমাণ নয়, বরং কংগ্রেসের নিয়মিত বাজেট তদারকি ও জবাবদিহিতার কাঠামোকে পাশ কাটিয়ে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষমতা আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর হাতে তুলে দেওয়ার একটি রাজনৈতিক পদক্ষেপ। 

প্রস্তাবটি আনা হচ্ছে রিকনসিলিয়েশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে, যার ফলে সাধারণত প্রয়োজনীয় ৬০ ভোটের পরিবর্তে কেবল সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটেই বিল পাস করা সম্ভব হয়। ডেমোক্র‍্যাটদের একটি অংশ শুরু থেকেই এ প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করে আসছে। তাদের অভিযোগ, আইস ও সিবিপির কার্যক্রমে জবাবদিহিতা বাড়ানো, গ্রেফতারি প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ এবং নাগরিক অধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত না করে এত বড় অর্থ বরাদ্দ দেওয়া ঠিক নয়। 

নতুন বিলে মোট প্রায় ৭২ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দের কথা বলা হয়েছে, যার সবচেয়ে বড় অংশ পাবে আইস। সংস্থাটির জন্য প্রায় ৩৮ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা দিয়ে নতুন জনবল নিয়োগ, আটক ও বহিষ্কার কার্যক্রম, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণ করা হবে। এর মধ্যে ৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার আলাদা করে তদন্ত কার্যক্রমে ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। 

অন্যদিকে সিবিপির জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে প্রায় ২৬ বিলিয়ন ডলার, যা সীমান্ত নজরদারি, নতুন প্রযুক্তি, কর্মকর্তা নিয়োগ, স্ক্রিনিং ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং অভিবাসন প্রক্রিয়াকরণে ব্যয় করা হবে। পাশাপাশি ডিএইচএসের জন্য আরো ৫ বিলিয়ন ডলার রাখা হয়েছে, যাকে সমালোচকরা ‘স্লাশ ফান্ড’ হিসেবে উল্লেখ করছেন, কারণ এর ব্যবহার ক্ষেত্র তুলনামূলকভাবে অস্পষ্ট। ডিওজে বা ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিসের জন্যও ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দের প্রস্তাব রয়েছে, যা অভিবাসন আইন প্রয়োগসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে ব্যবহৃত হবে। 

বিশ্লেষকদের মতে, এ প্রস্তাব আইসের ২০২৫ সালের বার্ষিক বাজেটের প্রায় চারগুণ এবং সিবিপির ক্ষেত্রেও অনুরূপ বড় বৃদ্ধি ঘটাবে। এর আগে ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল অ্যাক্ট এর মাধ্যমে আইসকে অতিরিক্ত ৭৫ বিলিয়ন ডলার দেওয়া হয়েছিল, ফলে দুই ধাপে সংস্থাটির বাজেট কয়েক গুণ বেড়ে যাচ্ছে। এতো বড় অঙ্কের অর্থ বহু বছরের জন্য এককালীনভাবে অনুমোদন করা হলে কংগ্রেসের বার্ষিক নজরদারি দুর্বল হয়ে যাবে। এতে আটক কেন্দ্র সম্প্রসারণ, দ্রুত বহিষ্কার অভিযান এবং নজরদারি প্রযুক্তির ব্যবহার আরো বাড়তে পারে, যা নাগরিক অধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি তৈরি করবে। 

অভিবাসন অধিকারকর্মীরা বলছেন, এ অর্থ বরাদ্দের কারণে স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাদের মতে, এ অর্থ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বছরের পর বছর বায়োমেডিকেল গবেষণা, শিক্ষা অনুদান এবং গ্রামীণ স্বাস্থ্য কর্মসূচি চালানো সম্ভব ছিল। অন্যদিকে রিপাবলিকানদের দাবি, সীমান্ত নিরাপত্তা ও অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ এখন জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং সে লক্ষ্যেই আইস ও সিবিপির সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। 

সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সিনেটে বিলটি ভোটে উঠতে পারে। এ ভোট কেবল একটি বাজেট সিদ্ধান্ত নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি ও ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক কাঠামোর দিকনির্দেশনাও নির্ধারণ করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। 

শেয়ার করুন