০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বুধবার, ০২:২৭:৩৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
বাসসের নবনিযুক্ত এমডি ও প্রধান সম্পাদককে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবর্ধনা বাসস'র এমডি ও প্রধান সম্পাদক পদে নিয়োগ পেলেন কাদের গনি চৌধুরী কপ সম্মেলনে যোগ দিতে নভেম্বরে তুরস্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নেপাল-তিব্বতে বন্যায় প্রাণহানি বেড়ে ৩৯২, নিখোঁজ প্রায় ১,৪০০ আফগান-আমেরিকান হিসেবে প্রথমবার মার্কিন কংগ্রেসে আইশা ওয়াহাব আমেরিকানদের গৃহস্থালি ঋণ ১৮.৮ ট্রিলিয়ন, ক্রেডিট কার্ড ১.২৬ ট্রিলিয়ন ওহাইওতে মসজিদে সাত বছরে তৃতীয় হামলা জনপ্রিয় হচ্ছে তিন বছরের কলেজ ডিগ্রি, তবে আছে বিতর্ক মুসলিম নারীকর্মীর বৈষম্যের অভিযোগে ওক পার্ক সিটির বিরুদ্ধে মামলা সশস্ত্র ডাকাতের গুলিতে বাংলাদেশি মহসিন রানা নিহত


সিসি ক্যামেরায় নজরবন্দি
যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীর স্ত্রীর আত্মহত্যা
দেশ প্রতিনিধি
  • আপডেট করা হয়েছে : ১০-০৯-২০২৫
যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীর স্ত্রীর আত্মহত্যা


নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে স্বামীকে ভিডিও কলে রেখেই আত্মহত্যা করেছেন ফরিদা ইয়াছমিন (৩১) নামে এক প্রবাসীর স্ত্রী। দুপুরে পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের শফিক হুজুরের বাড়ি থেকে তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত ফরিদা ইয়াছমিন সদর উপজেলার নোয়াখালী ইউনিয়নের দুলাল মিয়ার মেয়ে ও সোনাইমুড়ীর ভানুয়াই গ্রামের যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী নুর নবীর স্ত্রী। 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রবাসী নুর নবী দীর্ঘদিন ধরে স্ত্রীকে নানা বিষয়ে কথা বলতেন। গত সাত মাস ধরে ফরিদা ভাড়া থাকছিলেন শফিক হুজুরের বাড়িতে। দুই রুমের ওই ভাড়া বাসায় চারটি সিসি ক্যামেরা বসিয়ে সর্বক্ষণ নজরদারিতে রাখতেন স্বামী। গত ৬ সেপ্টেম্বর শনিবার রাতে পারিবারিক কলহের একপর্যায়ে বাসা থেকে বের হতে চাইলে নুর নবী অনুমতি দেননি। এরপর স্বামীকে ভিডিও কলে রেখেই বোরকা পরে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করেন ফরিদা। বাড়ির মালিক শফিক উল্যাহ বলেন, ফরিদা ছিলেন পর্দানসীন মহিলা। সাত মাসে আমি তার মুখও দেখিনি। শুধু ভাড়া ও বিদ্যুৎ বিল দেওয়ার সময় পর্দার আড়াল থেকে কথা হতো। প্রায়ই স্বামী ফরিদার সঙ্গে ঝগড়া করতেন। 

এমনকি বেডরুমেও সিসি ক্যামেরা লাগিয়েছিল তার স্বামী। সকালে দরজা বন্ধ দেখে পুলিশকে খবর দিই। পরে পুলিশ এসে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে। নিহতের ভাই মাসুদ ও রাশেদ রানা অভিযোগ করে বলেন, আমার বোনকে স্বামী নজরবন্দি করে রেখেছিল। আমাদের কারো সঙ্গে কথা বা যোগাযোগ রাখতে দিতো না। যোগাযোগ করলে মিথ্যা অপবাদ দিতো। স্বামীর চাপেই সে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছে। সিসি ক্যামেরা ও ভিডিও কলে ঘটনাটি দেখেও স্বামী কাউকে জানায়নি। অথচ বাড়িওয়ালা ও পাশের ভাড়াটিয়ার নম্বর তার কাছে রয়েছে। আসলে সে চাইছিল আমার বোন মারা যাক। আমরা ন্যায়বিচার চাই। 

সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মোরশেদ আলম বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে সিসি ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি পারিবারিক কলহজনিত আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে। লাশ ময়নাতদন্ত শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন