১৮ এপ্রিল ২০২৬, শনিবার, ০৮:৩৮:৩০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার পেলেন সেই শিক্ষিকা মাহেরীন চৌধুরী আজ ১৭ এপ্রিল, ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস টাইম ম্যাগাজিনে বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খালেদা জিয়া সহ দেশের ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও পাঁচ প্রতিষ্ঠানকে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ পদক প্রদান যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েল নিয়ে জনমত বদলাচ্ছে টেক্সাসে পাঠ্যক্রমে ইসলাম ও সংখ্যালঘু ইতিহাস পরিবর্তন ঘিরে তীব্র বিতর্ক ট্রাম্প অ্যাকাউন্টস : চার মিলিয়নের বেশি শিশু নিবন্ধিত নিউ ইয়র্কে ২-কে চাইল্ড কেয়ার হবে পূর্ণ দিবস ও বছরব্যাপী ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থীদের ডিপোর্টেশন ঠেকানোর রায় দেওয়ায় দুই অভিবাসন বিচারককে বরখাস্তের অভিযোগ ইমিগ্রেশন আপিল বোর্ডে মাহমুদ খলিলের আপিল খারিজ


ইমিগ্রেশন শর্ত আরোপের বিরুদ্ধে ২০টি অঙ্গরাজ্য ও ডিসির মামলা
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০-০৮-২০২৫
ইমিগ্রেশন শর্ত আরোপের বিরুদ্ধে ২০টি অঙ্গরাজ্য ও ডিসির মামলা ইউএস ডিপার্টমেন্ট অফ জাস্টিস


যুক্তরাষ্ট্রের ২০টি অঙ্গরাজ্য এবং ওয়াশিংটন ডিসির অ্যাটর্নি জেনারেলদের একটি জোট মার্কিন বিচার বিভাগ (ডিওজে)-এর বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে মামলা করেছে। তারা আদালতের কাছে দাবি জানিয়েছে, অপরাধের শিকারদের জন্য নির্ধারিত ফেডারেল অর্থ তহবিলকে ইমিগ্রেশন আইন প্রয়োগের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ বন্ধ করা হোক। গত ১৮ আগস্ট সোমবার রোড আইল্যান্ডের ফেডারেল আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলায় বলা হয়েছে, যদি কোনো অঙ্গরাজ্য ট্রাম্প প্রশাসনের ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত উদ্যোগ যেমন-আইসের অনুরোধে বন্দিদের হস্তান্তর, ডিটেনশন সেন্টারে প্রবেশাধিকার দেওয়া কিংবা মুক্তির সময় জানানোনা মানে, তাহলে তাদের ভিকটিম ফান্ড বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে, যা সংবিধান লঙ্ঘন করে।

মামলায় আরো উল্লেখ করা হয়, ট্রাম্প প্রশাসন ও বিচার বিভাগ তাদের সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক কর্তৃত্বের সীমা ছাড়িয়ে গেছে। কারণ ভিকটিমস অব ক্রাইম অ্যাক্ট তহবিল বরাদ্দের সঙ্গে ইমিগ্রেশন নীতির কোনো সম্পর্ক নেই এবং সংশ্লিষ্ট আইনে এমন কোনো শর্তের উল্লেখও নেই। নিউজার্সির অ্যাটর্নি জেনারেল ম্যাথিউ জে. প্লাটকিন বলেন, এ তহবিল সেসব মানুষদের জন্য, যারা অপরাধের শিকার হয়ে ভয়াবহ ট্রমার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। তাদের প্রাপ্য সহায়তা কেটে নেওয়া রাজনীতির সবচেয়ে নিচু কাজগুলোর একটি।

ভিকটিমস অব ক্রাইম অ্যাক্টের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি অঙ্গরাজ্য ও অঞ্চল ফেডারেল নির্দেশনা মেনে একটি করে ভিকটিমস কম্পেনসেশন প্রোগ্রাম পরিচালনা করে। এ তহবিল আসে ফেডারেল আদালতের জারিমানা ও জরিমানা থেকে, কোনো করের টাকায় নয়। এর মাধ্যমে ভিকটিমদের চিকিৎসা খরচ, কাউন্সেলিং, ক্রাইম সিন ক্লিনআপ-এমনকি হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তিদের দাফন খরচও বহন করা হয়। ভিওসিএ প্রোগ্রাম রাজ্য ক্ষতিপূরণ ব্যয়ের প্রায় ৭৫ শতাংশ অর্থ দেয়।

বিশ্লেষক ও মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, অপরাধের শিকারদের ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস যেমনই হোক না কেন, তাদের সুরক্ষা দেওয়া উচিত। কেউ যেন ভয়ের কারণে বা নির্বাসনের আশঙ্কায় অপরাধ রিপোর্ট করতে না ভয় পায় এজন্যই এ তহবিল জরুরি। নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস বলেন, ফেডারেল সরকার ভিকটিম ফান্ডকে ইমিগ্রেশন নীতির চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার বানাতে চাইছে। এ অনুদানগুলো ভুক্তভোগীদের পুনরুদ্ধার ও সহায়তার জন্য তৈরি করা হয়েছে আমরা কাউকে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে দেব না। ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন অনুদান বা ফান্ড বাতিল করার অভিযোগ রয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে বিচার বিভাগ প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ডলার অনুদান বাতিল করে, যার মধ্যে অনেকগুলোই ভিকটিম ও সারভাইভারদের সহায়তা প্রকল্পে ব্যবহৃত হচ্ছিল। গত জুন মাসে আরেকটি মামলা হয়, যেখানে নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে বরাদ্দ ফান্ডে অতিরিক্ত শর্তারোপ করা হয়। যেমন-জেন্ডার আইডিওলজি বা ডাইভারসিটি, ইকুইটি অ্যান্ড ইনক্লুশন প্রোগ্রাম চালানো যাবে না।

বিশ্লেষকদের মতে, ভিওসিএ ফান্ডের ওপর এ নতুন শর্তগুলো মূলত তথাকথিত সাংচুয়ারি বা অভিবাসীবান্ধব রাজ্যগুলোকে লক্ষ করে তৈরি করা হয়েছে, যদিও সাংচুয়ারি স্টেট বলতে আসলে কী বোঝানো হয়, তা এখনো অস্পষ্ট।

ক্যালিফোর্নিয়া, কলোরাডো, কানেকটিকাট, ডেলাওয়ার, ডিসি, হাওয়াই, ইলিনয়, মেইন, মেরিল্যান্ড, ম্যাসাচুসেটস, মিশিগান, মিনেসোটা, নেভাদা, নিউজার্সি, নিউ মেক্সিকো, নিউইয়র্ক, ওরেগন, রোড আইল্যান্ড, ভারমন্ট, ওয়াশিংটন এবং উইসকনসিন সবকটি ডেমোক্র্যাট নেতৃত্বাধীন স্টেটগুলো।

শেয়ার করুন