১৮ এপ্রিল ২০২৬, শনিবার, ০৩:২১:১৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার পেলেন সেই শিক্ষিকা মাহেরীন চৌধুরী আজ ১৭ এপ্রিল, ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস টাইম ম্যাগাজিনে বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খালেদা জিয়া সহ দেশের ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও পাঁচ প্রতিষ্ঠানকে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ পদক প্রদান যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েল নিয়ে জনমত বদলাচ্ছে টেক্সাসে পাঠ্যক্রমে ইসলাম ও সংখ্যালঘু ইতিহাস পরিবর্তন ঘিরে তীব্র বিতর্ক ট্রাম্প অ্যাকাউন্টস : চার মিলিয়নের বেশি শিশু নিবন্ধিত নিউ ইয়র্কে ২-কে চাইল্ড কেয়ার হবে পূর্ণ দিবস ও বছরব্যাপী ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থীদের ডিপোর্টেশন ঠেকানোর রায় দেওয়ায় দুই অভিবাসন বিচারককে বরখাস্তের অভিযোগ ইমিগ্রেশন আপিল বোর্ডে মাহমুদ খলিলের আপিল খারিজ


অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সামনে যে চ্যালেঞ্জ
খন্দকার সালেক
  • আপডেট করা হয়েছে : ১৪-০৮-২০২৪
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সামনে যে চ্যালেঞ্জ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. ইউনূসের (ডানে) শপথ


ছাত্র-জনতার গণবিস্ফোরণে শেখ হাসিনা নেতৃত্বের আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়েছে। সেনাবাহিনী এবং বিপ্লবী ছাত্রদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদ ভেঙে দিয়েছেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারপ্রধান হিসেবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সম্মতিক্রমে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে পদায়ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনিসহ ১৭ জন উপদেষ্টা ইতিমধ্যেই দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এ মুহূর্তে এই সরকারের প্রধান কাজ সর্বস্তরে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা। 

স্থবির হয়ে থাকা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড চালু করা। দীর্ঘ ১৬ বছর একনাগাড়ে ক্ষমতায় থাকায় সরকার স্বৈরাচারী রূপ ধারণ করে সব প্রতিষ্ঠানের বুনিয়াদি কাঠামো নষ্ট করে ফেলেছে। কারো কোনো জবাবদিহিতা ছিল না। দুর্নীতি, অপশাসন দেশকে দেউলিয়া করে ফেলেছিল। এ অবস্থায় দেশটাকেই এখন ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন। সরকার হয়তো কিছু কিছু ক্ষেত্রে-যেমন শান্তি-শৃঙ্খলা পুনঃস্থাপন, কিছু কালাকানুন রহিতকরণ, জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করার উদ্যোগ নিতে পারে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে সিন্ডিকেট গুঁড়িয়ে দিলে অবশ্যই শুভ প্রভাব পড়বে। মনে রাখতে হবে জবাবদিহিমূলক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা, ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা না করা গেলে ব্যক্তির পরিবর্তন টেকসই পরিবর্তন আনবে না। 

দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জ্বালানি-বিদ্যুৎ, পরিবেশ, কৃষি, বাণিজ্য সবক্ষেত্রেই কুশাসন বিরাজ করছে। ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠাগুলো লুটেরাদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। বিনিয়োগ পরিবেশ দারুণভাবে বিঘ্নিত। জ্বালানি-বিদ্যুৎ সংকটে শিল্পকারখানাগুলোর পরিচালনা সংকটে। আশার কথা, মেধাবী তরুণসমাজ দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। একটি জাতির জীবনে এমন সুযোগ বারবার আসে না। স্বপ্ন দেখতে চাই-নতুন করে সমতার ভিত্তিতে সরকার দেশের মানবসম্পদ কাজে লাগিয়ে দেশের উন্নয়নের চাকা মসৃণভাবে চালু রাখবে।

অন্য চ্যালেঞ্জগুলো

অবিলম্বে কিছু মৌলিক সংস্কার করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়া। ইতিমধ্যে এ কাজ শুরু হয়েছে। সব পর্যায়ে সিন্ডিকেট মুক্ত সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠাগুলোতে সুশাসন এবং জবাদিহিতা প্রতিষ্ঠা। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাণিজ্য, কৃষি, জ্বালানি-বিদ্যুৎ সেক্টরে মৌলিক পরিবর্তন এনে যোগ্য লোকদের যথাযথ স্থানে পদায়ন। দুর্নীতি দমন সংস্থা এবং সব রেগুলেটরি সংস্থাসমূহে দক্ষ-যোগ্য লোকদের পদায়ন করে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া, শিক্ষাঙ্গনে সঠিক ছাত্ররাজনীতির পরিবেশ সৃষ্টি।

সর্বোপরি শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন করে জনগণের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা। বিদেশে বাংলাদেশি মিশনগুলোতে মেধাবী দেশপ্রেমিক কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া জরুরি।

শেয়ার করুন