১৮ এপ্রিল ২০২৬, শনিবার, ০৮:৪৮:০০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার পেলেন সেই শিক্ষিকা মাহেরীন চৌধুরী আজ ১৭ এপ্রিল, ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস টাইম ম্যাগাজিনে বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খালেদা জিয়া সহ দেশের ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও পাঁচ প্রতিষ্ঠানকে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ পদক প্রদান যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েল নিয়ে জনমত বদলাচ্ছে টেক্সাসে পাঠ্যক্রমে ইসলাম ও সংখ্যালঘু ইতিহাস পরিবর্তন ঘিরে তীব্র বিতর্ক ট্রাম্প অ্যাকাউন্টস : চার মিলিয়নের বেশি শিশু নিবন্ধিত নিউ ইয়র্কে ২-কে চাইল্ড কেয়ার হবে পূর্ণ দিবস ও বছরব্যাপী ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থীদের ডিপোর্টেশন ঠেকানোর রায় দেওয়ায় দুই অভিবাসন বিচারককে বরখাস্তের অভিযোগ ইমিগ্রেশন আপিল বোর্ডে মাহমুদ খলিলের আপিল খারিজ


প্রতিবন্ধী নারীদের ন্যায়সঙ্গত স্বাস্থ্যসেবা ও সুরক্ষার দাবি
বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট করা হয়েছে : ১২-০৪-২০২৩
প্রতিবন্ধী নারীদের ন্যায়সঙ্গত স্বাস্থ্যসেবা ও সুরক্ষার দাবি প্রতিবন্ধী নারীদের নিয়ে সেমিনারে অতিথিবৃন্দ


জেন্ডার রেসপন্সিভ বাজেটের মধ্যেই প্রতিবন্ধী নারীদের প্রতি বরাদ্দ ও উদ্যোগগুলো থাকা উচিত। এর পাশাপাশি মা ও শিশু তহবিল এ প্রতিবন্ধী নারীদের জন্য ২ % কোটা রাখা যেতে পারে বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ফরিদা পারভীন। আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৩ উদযাপন উপলক্ষ্যে “প্রতিবন্ধী নারীদের ন্যায়সঙ্গত স্বাস্থ্যসেবা ও সুরক্ষা” শীর্ষক সেমিনারে তিনি একথা বলেন। 

উইমেন উইথ ডিজএ্যাবিলিটিজ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (ডাব্লিউডিডিএফ) এর আয়োজনে গত ১০ এপ্রিল সোমবার মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মাল্টিপারপাস কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে সরকারি কর্মকর্তা, এনজিও, ওপিডি, সুশীল সংগঠন ও মিডিয়া প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন। 

সেমিনার সংঞ্চালনা ও মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডাব্লিউডিডিএফ এর নির্বাহী পরিচালক আশরাফুন নাহার মিষ্টি এবং স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন প্রোগ্রাম এসোসিয়েট কোঅর্ডিনেটর মোঃ হুমায়ুন কবীর। প্রধান অতিথি ছিলেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ফরিদা পারভীন। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিচালক (যুগ্মসচিব) মনোয়ারা ইশরাত, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, সিরাপি’র নির্বাহী পরিচালক ড. মোঃ সোহরাব হোসেন, সিবিএম গ্রোবাল ডিজ্যাবিলিটি ইনক্লুশন এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার তাজিন হোসেন এবং সভাপতিত্ব করেন ডাব্লিউডিডিএফ এর চেয়ারপার্সন শিরিন আক্তার।

ফরিদা পারভীন আরো বলেন, ভালনারেবিলিটি উইমেন বেনিফিট প্রোগ্রামের মধ্যে প্রতিবন্ধী নারীদের জন্য একটি নির্দিষ্ট কোটা থাকা উচিত এবং মহিলা বিষযক অধিদপ্তর এটি করবে। প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও কর্মজীবী নারী হোস্টেলসমূহে প্রতিবন্ধী নারীদের উপযোগী ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নিবে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর। প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধী নারীদের কোটা থাকবে।  কিশোর কিশোরী ক্লাবে প্রতিবন্ধী প্রতিবন্ধী কিশোর কিশোরীদের যুক্ত করার জন্য করার জন্য নিরদেশনা বাস্তাবয়ন করবে। অধিদপ্তরের বিক্রয়কেন্দ্র ব্যবহার করে প্রতিবন্ধী নারীদের উৎপাদিত পণ্য বিক্রয়ের সুযোগ পাবে। মহিলা সহায়তা কেন্দ্র প্রতিবন্ধী বান্ধব করার নির্দশনা দেন।

মূলপ্রবন্ধে বলা হয়, ডিজিটাল প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন, জেন্ডার বৈষম্য করবে নিরসন এই শ্লোগানকে হৃদয়ে ধারণ করে ডিজিটার সেবায় প্রতিবন্ধী নারীদের অন্তর্ভূক্তি করে তাদের ন্যায্যতার ভিত্তিতে স্বাস্থ্যসেবা ও সুরক্ষা  পাওয়ার বিষয়ে সকলে একমত হন। শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ র্কমসূচি প্রতিবন্ধীবান্ধব হওয়া এবং প্রতিবন্ধী মেয়ে ও নারীরা যুক্ত হতে পারছে এমন কৌশল নির্ধারণ করা, অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন র্কমসূচিতে প্রতিবন্ধী নারীকে যুক্ত করা, প্রতিবন্ধী নারীর কাজের বিক্রয় মূল্য থাকা, প্রতিবন্ধী নারীর স্বাস্থ্য সেবা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা সহ প্রতিবন্ধী নারীদের প্রতি প্রচলিত ধারণা, নেতিবাচক প্রথা ও কুসংস্কার বন্ধ করে বৈষম্য দূরীকরণের জন্য প্রতিষ্ঠান, সমাজ ও রাষ্ট্রকে এগিয়ে আসতে হবে।  এছাড়াও প্রতিবন্ধী  নারীদের স্বাস্থ্যসেবা ও সুরক্ষা পাওয়ার অধিকারসহ ক্ষমতায়ন বিষয়ে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, অধিদ্প্তর  এবং জাতীয় মহিলা সংস্থা অর্ন্তভূক্তমিুলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা, প্রতিবন্ধী নারী ও তার পরিবারের সচেতনতা বাড়ানোর জন্য তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়সহ অন্যান্য সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান পদক্ষেপ গ্রহণ করা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং অংশগ্রহণের জন্য এবং আত্মপ্রত্যয়ী হওয়ার জন্য নারী ও প্রতিবন্ধী নারীদের নিয়ে কর্মরত সংগঠনগুলো সমন্বিত কার্যক্রম গ্রহণ করা, অবকাঠামোগত প্রবেশগম্যতা সৃষ্টির জন্য গণর্পূত, রাজউক, স্থানীয় সরকার ও ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, যোগাযোগ, পরিবহন ও সেতু  মন্ত্রণালয়, সিটি কর্পোরশেন প্রদক্ষেপ গ্রহণ করা, কারিগরী  ও প্রতিবন্ধিতাকে বিবেচনায় রেখে নতুন নতুন কর্মক্ষেত্র তৈরি। সকল ক্ষেত্রে সম- অংশগ্রহণের সুযোগ এবং সরকারি বেসরকারি সহায়তা বৃদ্ধি ও কর্মক্ষেত্রে  নারীর জন্য বিশেষ সহায়তা ও সুযোগ যেমন শিশু দিবাযতœ কেন্দ্র, পরিবহন  ও আবাসন সুবিধা, আন্তঃবৈষম্য  (নারী/পুরুষ বা প্রতবিন্ধী/অপ্রতবিন্ধী) কমানো এবং মজুরির সমতা  গ্রহণের উপর সুপারিশ পেশ করা হয়।

সেমিনারে সকলে এ বিষয়ে একমত হন যে, অন্তর্ভূক্তিমূলক সমাজ গড়তে প্রতিবন্ধী নারীদের ক্ষমতায়ন ও বৈষম্য রোধের জন্য সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে।

শেয়ার করুন