১৮ এপ্রিল ২০২৬, শনিবার, ০৫:১৫:০২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার পেলেন সেই শিক্ষিকা মাহেরীন চৌধুরী আজ ১৭ এপ্রিল, ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস টাইম ম্যাগাজিনে বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খালেদা জিয়া সহ দেশের ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও পাঁচ প্রতিষ্ঠানকে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ পদক প্রদান যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েল নিয়ে জনমত বদলাচ্ছে টেক্সাসে পাঠ্যক্রমে ইসলাম ও সংখ্যালঘু ইতিহাস পরিবর্তন ঘিরে তীব্র বিতর্ক ট্রাম্প অ্যাকাউন্টস : চার মিলিয়নের বেশি শিশু নিবন্ধিত নিউ ইয়র্কে ২-কে চাইল্ড কেয়ার হবে পূর্ণ দিবস ও বছরব্যাপী ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থীদের ডিপোর্টেশন ঠেকানোর রায় দেওয়ায় দুই অভিবাসন বিচারককে বরখাস্তের অভিযোগ ইমিগ্রেশন আপিল বোর্ডে মাহমুদ খলিলের আপিল খারিজ


অদ্ভুত আইন
কাজী জহিরুল ইসলাম
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৮-০৪-২০২২
অদ্ভুত আইন


‘ফ্রি কান্ট্রি আমেরিকা’ নামে একটি সিরিজ গদ্য লিখেছি ২০১২/১৩ সালের দিকে। সেখানে আমেরিকার ফানি (কিছুটা আজগুবিও) বিষয়গুলো তুলে ধরতাম। আজ আমেরিকার তেমন একটি আজগুবি আইনের কথা লিখছি। 

আমার শ্যালিকা তামান্না দিপু ও তার পরিবার টরন্টো থেকে বেড়াতে এসেছে ২৯ ডিসেম্বর, ইচ্ছে আমরা দুই পরিবার একসাথে হয়ে একুশকে বিদায় জানিয়ে গ্রেগরিয়ান পঞ্জিকার ২০২২ সালকে বরণ করবো। ওদের ছোট মেয়ে আইদা জিওপার্ডি নামক একটি শিামূলক গেম খেলার জন্য খুবই উত্সুক। মূলত ওর জন্যই আমরা এই কয়দিনে বেশ অনেকবার এই গেমটি খেলি। খুম মজার খেলা। খেলতে খেলতে অনেক কিছু শেখা যায়। 

খেলার এক পর্যায়ে একটি প্রশ্ন এলো, স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে আমেরিকানরা একটি কাজ দিনে ২২ বার করে, এখন প্যানডামিকে তা আরো বেশি করে, কাজটা কি? নাহ, কিছুতেই বুঝতে পারছি না। তবে অনুমান করে বলেছিলাম, কিচেনে যায় বা খায় এরকম কিছু হবে। পরে জানলাম সঠিক উত্তর হলো, ফ্রিজ খোলে। একজন আমেরিকান প্রতিদিন অন্তত ২২ বার ফ্রিজ খোলে, ইন্টারেস্টিং তথ্য। 

কিছুণ পরে আরো একটি মজার প্রশ্ন এলো। ফোরিডার স্টেট ল’ অনুযায়ী সন্ধ্যা ৬টার পরে পাবলিক প্লেসে কোনো কাজ করা নিষিদ্ধ?  আমরা ভাবছিলাম মদ্যপান হতে পারে, কিন্তু তা কি করে হয়? ছুটির দিন সন্ধ্যা ৬টার পরেই তো বারগুলো জমজমাট হয়ে ওঠে। প্রশ্নটা ছিল আইদার জন্য এবং ওর অনুমানভিত্তিক জবাব কিন্তু সঠিক হয়েছে। সঠিক উত্তর হলো, ফোরিডা অঙ্গরাজ্যের আইন অনুযায়ী পাবলিক প্লেসে কেউ সন্ধ্যা ৬টার পরে পাদ (বায়ুত্যাগ) দিতে পারবে না। 

উত্তরটি স্ক্রিনে দেখার পর আমরা হাসতে হাসতে মরে যাই। আমাদের পুত্র অগ্নি এবং পুত্রবধূ ব্রিজিত থাকে ফোরিডায়। ভাবছিলাম ওদের স্টেটের এই গোপন (মানে তেমন আলোচিত নয়) আইনটি অগ্নিকে জানিয়ে দিই। অগ্নি শুনে হাসতে হাসতে বলে, দিলে কি জেলে নেবে? আইন যদি কোনো কিছু নিষিদ্ধ করে, তা করলে তো জেলে যেতেই হবে। কিন্তু কথা হলো ভিড়ের মধ্যে কাজটি কে করলো তা খুঁজে বের করবে কীভাবে?

ফোরিডায় আরো কিছু অদ্ভুত আইন আছে। মায়ামি বিচে কমলা বিক্রি করা যাবে না। সুইমিং স্যুট পরে কোনো দলিলে স্বার দেয়া যাবে না। রাস্তা দিয়ে ব্যারেল (ড্রাম) গড়িয়ে গড়িয়ে নেয়া যাবে না। 

পোষা প্রাণি কোথাও পার্ক করতে চাইলে টাকা দিতে হবে। সেলুনে বসে চুল কাটতে কাটতে ঘুমিয়ে পড়া যাবে না। 

সবচেয়ে কষ্টের আইন হলো কেউ নিজের সন্তান বিক্রি করতে পারবে না। কষ্টের এজন্য বলছি, এই বিষয়েও স্টেটকে একটি আইন করতে হয়েছে।

২ জানুয়ারি ২০২২

শেয়ার করুন