০১ অক্টোবর ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০৩:৫১:৫৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নর’ইস্টারের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড নিউইয়র্কসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চল নিউইয়র্কবাসীর ৬০ শতাংশ মামদানির পক্ষে অবৈধ জুয়ার অভিযোগে পলিমার্কেটের বিরুদ্ধে নিউইয়র্কের মামলা সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ডেমোক্র্যাট-রিপাবলিকানদের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই মার্কিন সিনেটে প্রথম মুসলিম সদস্য হওয়ার লড়াইয়ে আবদুল এল-সাইয়েদ নিউইয়র্কে স্থায়ী ‘জবস এনওয়াইসি’ কেন্দ্র চালু দ্বিতীয় বাড়ির কর নিয়ে মামদানির উদ্যোগে আদালতের বাধা লোয়ার ম্যানহাটনে প্রায় ১ হাজার নতুন সাশ্রয়ী ইউনিট নির্মাণের পরিকল্পনা তৃতীয় দেশে নির্বাসনের পথ ফের খুলে দিল সুপ্রিম কোর্ট বৈদেশিক সম্পর্ক উন্নয়নে প্রাণান্ত চেষ্টায় তারেক রহমান


কুইন্সে তিন অপহরণ ও নির্যাতন, সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের মুখোমুখি
বাংলাদেশি সুপারমার্কেট মালিক আবু চৌধুরী দোষী সাব্যস্ত
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ৩০-০৯-২০২৬
বাংলাদেশি সুপারমার্কেট মালিক আবু চৌধুরী দোষী সাব্যস্ত কুইন্সে তিন ব্যক্তিকে অপহরণ ও অপহরণের ষড়যন্ত্রের মামলায় দোষী আবু চৌধুরী


নিউইয়র্কের কুইন্সে নিজেকে ‘কিং অব নিউইয়র্ক’ হিসেবে পরিচয় দেওয়া বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সুপারমার্কেট মালিক আবু চৌধুরী তিন ব্যক্তিকে নৃশংস অপহরণ, মারধর ও পর মারধর ও যৌন নির্যাতনের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। ৩৬ বছর বয়সী চৌধুরীকে ২৪ সেপ্টেম্বর ব্রুকলিনের ফেডারেল আদালতের জুরি তিনটি বর্বরোচিত অপহরণ এবং তিনটি নিষ্ঠুর অপহরণের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে। প্রায় দুই সপ্তাহের বিচার শেষে জুরি প্রায় দুই ঘণ্টা আলোচনা ও বিবেচনার পর রায় ঘোষণা করে।

ফেডারেল প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, ২০২৩ সালের মার্চ ও মে মাসে মাত্র ছয় সপ্তাহের ব্যবধানে কুইন্সের জ্যামাইকা, লং আইল্যান্ড সিটি ও জ্যাকসন হাইটসে তিনটি অপহরণের ঘটনা ঘটে। যারা চৌধুরীর সামাজিক অবস্থান, প্রভাব কিংবা নিজেকে ‘কিং অব নিউইয়র্ক’ হিসেবে পরিচয় দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল, তাদের ওপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠা এবং নিজের সুনাম রক্ষার উদ্দেশ্যে তিনি এসব অপহরণের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দেন বলে প্রসিকিউশন পক্ষ জানায়। সরকারি নথিতে ভুক্তভোগীদের পরিচয় জন ডো-ওয়ান, জন ডো-টু ও জন ডো-থ্রি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বিভিন্ন প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাদের নাম যথাক্রমে—মুবারক দেওয়ান, শেখ মাহোদে হাসান প্রিও এবং মাজহারুল ইসলাম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

চৌধুরী কুইন্সের জ্যামাইকার বিডি ফ্রেশ সুপারমার্কেটের সহ-মালিক। ফেডারেল প্রসিকিউটরদের অভিযোগ অনুযায়ী, ব্যক্তিগত বিরোধ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্বন্দ্ব এবং তার তৎকালীন বান্ধবী ও বর্তমানে স্ত্রী ইফফাত লুবনার সম্মান রক্ষার অজুহাতে চৌধুরী তিনটি অপহরণের ঘটনায় নেতৃত্ব দেন। প্রসিকিউশনের মামলায় আরো বলা হয়, এসব হামলার মাধ্যমে তিনি নিজের প্রভাব ও আধিপত্য প্রদর্শন করতে চেয়েছিলেন।

প্রথম অপহরণের ঘটনা ঘটে ২৭ মার্চ ২০২৩ জ্যামাইকায়। এরপর ১০ মে ২০২৩ লং আইল্যান্ড সিটিতে এবং তার পরদিন ১১ মে ২০২৩ জ্যাকসন হাইটসে আরো দুটি অপহরণের ঘটনা ঘটে। আদালতে উপস্থাপিত প্রমাণ অনুযায়ী, ভুক্তভোগীদের গাড়িতে তুলে দীর্ঘ সময় আটকে রাখা, মারধর, হত্যার হুমকি, মাদক প্রয়োগ এবং শারীরিক ও যৌন নির্যাতন করা হয়। তৃতীয় ঘটনায় একজন ভুক্তভোগীর পরিবারের কাছে ২০ হাজার ডলার মুক্তিপণ দাবি করা হয় বলেও প্রসিকিউশন জানায়।

প্রথম ঘটনায় ভুক্তভোগীকে প্রায় ১৩ ঘণ্টা ধরে কুইন্সের বিভিন্ন এলাকায় গাড়িতে ঘোরানো হয় এবং মারধর করা হয় বলে আদালতে প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়। একপর্যায়ে তাকে নগ্ন অবস্থায় দাঁড় করিয়ে ভিডিও করা হয়। পরে তাকে ঘুমের ওষুধ মেশানো পানি পান করানো হলে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন বলে প্রসিকিউশন জানায়। পরদিন আঘাত নিয়ে একটি হাসপাতালে তার জ্ঞান ফেরে। দ্বিতীয় ঘটনায় ভুক্তভোগীকে চৌধুরী ও লুবনা কৌশলে গাড়িতে তুলে নিয়ে যান বলে আদালতে প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়। তাকে কয়েক দিন আটকে রেখে মারধর ও নির্যাতন করা হয়। পরে তাকে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। তৃতীয় ঘটনায় একজন ভুক্তভোগীকে জ্যাকসন হাইটস থেকে জোর করে একটি গাড়িতে তুলে নেওয়ার পর মারধর ও যৌন নির্যাতন করা হয় বলে প্রসিকিউশন পক্ষ জানায়।

মামলায় চৌধুরীর তৎকালীন বান্ধবী ও বর্তমানে স্ত্রী ইফফাত লুবনাসহ কয়েকজন সহযোগীর নামও উঠে আসে। লুবনা ৯ এপ্রিল ২০২৬ দ্বিতীয় ও তৃতীয় অপহরণের ঘটনায় অপহরণ এবং অপহরণের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন। এছাড়া সাইয়েদ রুবেল আহমেদ ও সুলতানা রাজিয়াও প্রথম অপহরণের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।

আবু চৌধুরী তিনটি অপহরণ এবং তিনটি অপহরণের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের মুখোমুখি হতে পারেন। তবে তার সাজা ঘোষণার তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি। ইউএস অ্যাটর্নি অফিসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চৌধুরী ও তার সহযোগীদের কর্মকাণ্ড ছিল অত্যন্ত নৃশংস এবং এ ধরনের অপরাধ কোনোভাবেই সহ্য করা যায় না। মামলার তদন্তে ফেডারেল তদন্তকারীদের পাশাপাশি নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের সদস্যরাও অংশ নেন।

২৭ মার্চ ২০২৩: জ্যামাইকায় মুবারক দেওয়ান অপহরণ

প্রথম ঘটনা ঘটে ২৭ মার্চ ২০২৩ সন্ধ্যায় জ্যামাইকায়। প্রকাশিত প্রতিবেদনে ভুক্তভোগী হিসেবে মুবারক দেওয়ানের নাম এসেছে। তিনি ১৮১ স্ট্রিট ও হিলসাইড অ্যাভিনিউয়ের কাছে হাঁটছিলেন। ফেডারেল প্রসিকিউশনের প্রমাণ অনুযায়ী, আবু চৌধুরী তাকে জোর করে একটি হোন্ডা এসইউভিতে তুলে নেন। গাড়িটি রুহেল চৌধুরী চালাচ্ছিলেন। প্রায় ১৩ ঘণ্টা ধরে দেওয়ানকে কুইন্সের বিভিন্ন এলাকায় গাড়িতে নিয়ে ঘোরানো হয় এবং মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে একটি আবাসিক এলাকায় নগ্ন অবস্থায় দাঁড় করিয়ে ভিডিও করা হয়। অপহরণকারীরা তাকে হত্যার হুমকিও দেয়।

দেওয়ান পানি চাইলে তাকে সেডেটিভ মেশানো পানি দেওয়া হয় বলে আদালতে প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়। পানি পান করার পর তিনি অচেতন হয়ে পড়েন এবং পরদিন একাধিক আঘাত নিয়ে একটি স্থানীয় হাসপাতালে জ্ঞান ফেরে। এ ঘটনায় সাইয়েদ রুবেল আহমেদ, শাহেদ আলম, সুলতানা রাজিয়া ও রুহেল চৌধুরীসহ অন্যদের সম্পৃক্ততার কথা আদালতে উঠে আসে। রুহেল চৌধুরী ও শাহেদ আলম এ ঘটনায় নিজেদের ভূমিকার কথা স্বীকার করে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার প্রক্রিয়ায় গিয়েছেন। মামলার আগের এক বিচারে সুলতানা রাজিয়া ও সাইয়েদ রুবেল আহমেদ ২৬ জুন ২০২৬ মুবারক দেওয়ানকে অপহরণের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন।

১০ মে ২০২৩: শেখ মাহোদে হাসান প্রিওকে অপহরণ

দ্বিতীয় ঘটনা ঘটে ১০ মে ২০২৩ লং আইল্যান্ড সিটিতে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে ভুক্তভোগীর নাম শেখ মাহোদে হাসান প্রিও, বয়স ২১, বলে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রিও বাংলাদেশে ইফফাত লুবনার কলেজের সহপাঠী ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর ২০২৩ সালে তাদের আবার যোগাযোগ হয়। চৌধুরী প্রিওর কাছে লুবনার কলেজজীবনের পরিচিতি ও সুনাম সম্পর্কে জানতে চান। প্রিওর কিছু মন্তব্যকে চৌধুরী ও লুবনা অপমানজনক হিসেবে নেন বলে প্রসিকিউশন জানায়।

১০ মে লুবনা প্রিওকে চৌধুরীর গাড়িতে আসতে প্রলুব্ধ করেন। এরপর চৌধুরী ও লুবনা তাকে আটকে রাখেন এবং প্রায় তিন দিন ধরে কুইন্সের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যান। গাড়ির ভেতরে তাকে লাথি ও ঘুষি মারা হয়। পরে একটি সরকারি স্কুলের পেছনে নিয়ে লোহার রড ও ছুরি দিয়ে তাকে মারধর ও নির্যাতন করা হয়। তাকে বেঁধে রাখা এবং মুখ বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনাও আদালতে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। চৌধুরী তাকে একটি বড়ি খেতে বাধ্য করলে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। পরে তাকে এবং তৃতীয় ভুক্তভোগী মাজহারুল ইসলামকে একটি হোটেল কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়।

১১ মে ২০২৩: জ্যাকসন হাইটসে মাজহারুল ইসলাম অপহরণ

দ্বিতীয় ঘটনার পরের দিন, ১১ মে ২০২৩, জ্যাকসন হাইটসে তৃতীয় অপহরণের ঘটনা ঘটে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে ভুক্তভোগীর নাম মাজহারুল ইসলাম বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ইসলাম ৭২ স্ট্রিট ও ব্রডওয়ের কাছে একটি রেস্তোরাঁর বাইরে ইফফাত লুবনার সঙ্গে দেখা করার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। তিনি এটিকে একটি সাধারণ সাক্ষাৎ বা ডেট হিসেবে মনে করেছিলেন। কিন্তু সেখানে আবু চৌধুরী একটি মিনিভ্যান নিয়ে এসে তাকে জোর করে গাড়িতে তুলে নেন।

আদালতে উপস্থাপিত প্রমাণ অনুযায়ী, চৌধুরী, লুবনা ও রুহেল চৌধুরী তাকে মারধর করেন এবং পরে একটি হোটেলে নিয়ে যান। সেখানে চৌধুরী তাকে ধাতব রড দিয়ে যৌন নির্যাতন করেন বলে প্রসিকিউশন জানায়।

এরপর চৌধুরী ইসলামের বাবাকে ফোন করে তার ছেলের নিরাপত্তার বিনিময়ে ২০ হাজার ডলার মুক্তিপণ দাবি করেন। ইসলামের বাবা তখন বাংলাদেশে ছিলেন।প্রায় তিন দিন আটকে রাখার পর ইসলামকে হাত-পা বেঁধে ও চোখে কাপড় বেঁধে একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে ফেলে রাখা হয়। তিনি নিজের দাঁত দিয়ে বাঁধন কাটতে সক্ষম হন, একটি জানালা ভেঙে বেরিয়ে আসেন এবং আশপাশের বাসিন্দাদের সহায়তায় ৯১১-এ ফোন করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং প্রায় এক সপ্তাহ চিকিৎসা নিতে হয়।

স্ত্রীসহ সহযোগীদেরও দোষী সাব্যস্ত

আবু চৌধুরীর বিচার শুরুর আগে একই মামলায় তার কয়েকজন সহযোগীর বিচার সম্পন্ন হয়। ৯ এপ্রিল ২০২৬ তার তৎকালীন বান্ধবী ও বর্তমানে স্ত্রী ইফফাত লুবনা, ২৭, দ্বিতীয় ও তৃতীয় অপহরণের ঘটনায় অপহরণ ও অপহরণের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন। এরপর ২৬ জুন ২০২৬ সাইয়েদ রুবেল আহমেদ, ৪৬, এবং সুলতানা রাজিয়া, ৪১, প্রথম অপহরণের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চৌধুরী, লুবনা, আহমেদ ও রাজিয়া প্রত্যেকেই সাজা ঘোষণার সময় সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের মুখোমুখি হতে পারেন।

ফেডারেল প্রসিকিউটরদের মতে, তিনটি অপহরণের ঘটনায় চৌধুরীর ভূমিকা ছিল অন্যতম প্রধান। ইউএস অ্যাটর্নি জোসেফ নোসেলা জুনিয়র বলেন, মামলার প্রমাণে তিন ব্যক্তিকে অপহরণ ও নির্যাতনে চৌধুরীর ভূমিকা উঠে এসেছে। তদন্তে এফবিআই ও নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের যৌথ ভায়োলেন্ট ক্রাইমস টাস্ক ফোর্স কাজ করেছে।আবু চৌধুরীর সাজা এখনো ঘোষণা করা হয়নি। তবে সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ছয়টি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর প্রতিটি আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

২৪ সেপ্টেম্বরের রায়

চৌধুরীর বিরুদ্ধে দুই সপ্তাহের ফেডারেল বিচার শেষে ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ব্রুকলিনের ফেডারেল জুরি তাকে ছয়টি অভিযোগেই দোষী সাব্যস্ত করে-তিনটি অপহরণ এবং তিনটি অপহরণের ষড়যন্ত্র। মামলার বিচারক ছিলেন ইউনাইটেড স্টেটস ডিস্ট্রিক্ট জজ নিনা আর. মরিসন। নিউইয়র্কের ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টের ইউএস অ্যাটর্নি জোসেফ নোসেলা, এফবিআইয়ের নিউইয়র্ক ফিল্ড অফিসের সহকারী পরিচালক জেমস বার্নাকল এবং এনওয়াইপিডি কমিশনার জেসিকা এস. টিশ রায়টি ঘোষণা করেন।

রায়ের পর ইউএস অ্যাটর্নি নোসেলা বলেন, তিন ব্যক্তিকে অপহরণ ও নির্যাতনের জন্য চৌধুরীকে জবাবদিহির আওতায় আনা হয়েছে। তিনি মামলার ঘটনাগুলোকে অত্যন্ত নিষ্ঠুর ও অর্থহীন বলে উল্লেখ করেন এবং সহিংস অপরাধের বিরুদ্ধে তদন্ত ও বিচার অব্যাহত রাখার কথা জানান।

এফবিআইয়ের জেমস বার্নাকল বলেন, তিনটি অপহরণে চৌধুরীর ভূমিকা বিচারে উঠে এসেছে এবং জুরি তাকে দোষী সাব্যস্ত করেছে। এফবিআই ও এনওয়াইপিডির যৌথ সহিংস অপরাধবিরোধী টাস্কফোর্স এই তদন্তে কাজ করেছে।

চৌধুরীর বিরুদ্ধে অভিযোগগুলোর প্রতিটিতে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে তার চূড়ান্ত সাজা এখনও ঘোষণা করা হয়নি। রায়ের পর বিচারক তাকে ২ লাখ ৫০ হাজার ডলারের বন্ডে গৃহবন্দি থাকার অনুমতি দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রসিকিউশন তার জামিন বাতিলের আবেদন করেছে এবং এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

শেয়ার করুন