০১ অক্টোবর ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০৩:৩৫:০০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নর’ইস্টারের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড নিউইয়র্কসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চল নিউইয়র্কবাসীর ৬০ শতাংশ মামদানির পক্ষে অবৈধ জুয়ার অভিযোগে পলিমার্কেটের বিরুদ্ধে নিউইয়র্কের মামলা সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ডেমোক্র্যাট-রিপাবলিকানদের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই মার্কিন সিনেটে প্রথম মুসলিম সদস্য হওয়ার লড়াইয়ে আবদুল এল-সাইয়েদ নিউইয়র্কে স্থায়ী ‘জবস এনওয়াইসি’ কেন্দ্র চালু দ্বিতীয় বাড়ির কর নিয়ে মামদানির উদ্যোগে আদালতের বাধা লোয়ার ম্যানহাটনে প্রায় ১ হাজার নতুন সাশ্রয়ী ইউনিট নির্মাণের পরিকল্পনা তৃতীয় দেশে নির্বাসনের পথ ফের খুলে দিল সুপ্রিম কোর্ট বৈদেশিক সম্পর্ক উন্নয়নে প্রাণান্ত চেষ্টায় তারেক রহমান


বাংলাদেশ সোসাইটির সংবাদ সম্মেলনে নেতারা
অসম্পূর্ণ ও ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করবেন না
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ৩০-০৯-২০২৬
অসম্পূর্ণ ও ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করবেন না সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত নেতারা


অসম্পূর্ণ, ভুল এবং মিথ্যা তথ্য দিয়ে কম্যুনিটিতে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করবেন না। গত ২৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে বাংলাদেশ সোসাইটির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ সোসাইটির কর্মকর্তারা এ কথা বলেন। বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি আতাউর রহমান সেলিমের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী। এই সময় উপস্থিত ছিলেন ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান শাহ নেওয়াজ, সিনিয়র সহ-সভাপতি মহিউদ্দিন দেওয়ান, সহ-সভাপতি কামরুজ্জামান কামরুল, সাংগঠনিক সম্পাদক ডিউক খান, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোস্তফা অনিক রাজ, প্রচার সম্পাদক রিজু মোহাম্মদ, স্কুল ও শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক হাসান জিলানী, কার্যকরি সদস্য জাহাঙ্গীন সরওয়ারর্দী, আবুল কাশেম চৌধুরী, মুনসুর আহমেদ, হাসান খান, ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য আজিমুর রহমান বোরহান, আতাউল আলম, ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার, আব্দুর রহিম হাওলাদার, আহসান হাবিব, নাঈম টুটুল প্রমুখ। সংবাদ সম্মেলনে সোসাইটির কোষাধ্যক্ষ মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া রুমি, সহ সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম ভূইয়া, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক জামিল আনসারি, সাহিত্য সম্পাদক আকতার বাবুল, ক্রীড়া সম্পাদক আশ্রাব লিটন ও কার্যকরি কমিটির সদস্য মোহাম্মদ সিদ্দিক পাটোয়ারি অনুপস্থিত ছিলেন। যদিও সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তারা বলেন, সকলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তারা কেন আসেননি, সেটা তারাই ভাল বলতে পারেন। তা ছাড়া কার্যকরি কমিটির সিদ্ধান্তেই আজকে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মোহাম্মদ আলী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং বিভিন্ন জনসমাগমে সোসাইটির কয়েকজন সদস্য বাংলাদেশ সোসাইটি বর্তমান কার্যকরি পরিষদ এবং এর কর্মকর্তা নিয়ে বেশ কিছু মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও বাস্তবতাবিবর্জিত বক্তব্য দিয়ে আসছেন। এসব বক্তব্য আমাদের ব্যথিত করেছে এবং কমিউনিটির মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। তাই আজ আমরা কোনো পাল্টা অভিযোগ বা ব্যক্তিগত আক্রমণের জন্য নয়, বরং উত্থাপিত বিষয়গুলোর প্রকৃত তথ্য ও বাস্তবতা আপনাদের মাধ্যমে কমিউনিটির সামনে তুলে ধরতে উপস্থিত হয়েছি।

১৬ ডিসেম্বর ২০২৪-এর অভিষেক অনুষ্ঠানে বিদায়ী কমিটির পক্ষ থেকে বক্তব্যে জানানো হয়েছিল যে, সোসাইটির অ্যাকাউন্টে প্রায় ৩ লক্ষ ৮৫ হাজার ডলার রেখে যাওয়া হচ্ছে। কিন্তু পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যাংক হিসাব ও আর্থিক দায়দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার পর আমরা দেখতে পাই, অ্যাকাউন্টে প্রকৃত অর্থের পরিমাণ ছিল মাত্র ১ লাখ ৩৫ হাজার ৬৭৩.৮৯ ডলার। এখানেই বিষয়টি শেষ নয়। এই অর্থের বিপরীতে অভিষেক অনুষ্ঠানসহ পূর্ববর্তী কমিটির সময়ের বিভিন্ন অনুষ্ঠান, সেবা ও অন্যান্য খাতে প্রায় ২০ হাজার ডলারের বকেয়া দায়ও আমাদের পরিশোধ করতে হয়েছে। অর্থাৎ, সব দায় সমন্বয় করলে কার্যত মাত্র ১ লাখ ১৬ হাজার ডলারের নিট আর্থিক অবস্থান নিয়ে আমরা বাংলাদেশ সোসাইটির দায়িত্ব গ্রহণ করি।

তিনি বলেন, গত ২০ মাসে বরং অত্যন্ত জমকালো আয়োজনে বাংলাদেশ সোসাইটির ৫০ বছর পূর্তি উদ্‌যাপন করেছি, পবিত্র রমজানে নিউইয়র্ক সিটির বাঙালি অধ্যুষিত চারটি এলাকায় মোট ৮টি ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেছি। পাশাপাশি ইমিগ্রেশন সেমিনার, এনআইডি কার্ড সংক্রান্ত সেমিনারসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ক্রীড়া, ধর্মীয় ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি পরিচালনা করেছি। সদস্যদের দুঃসময়ে আমরা পাশে থাকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। সোসাইটির কোনো সদস্য মৃত্যুবরণ করলে, তার পরিবারের এই কঠিন সময়ে আমরা পাশে দাঁড়িয়েছি। প্রয়োজন অনুযায়ী ফিউনারেল সহায়তা, সোসাইটির নিজস্ব কবরের ব্যবস্থা অথবা আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছি।

এতসব কর্মসূচি, অনুষ্ঠান, সহযোগিতা ও জনকল্যাণমূলক ব্যয় করার পরও আলহামদুলিল্লাহ, গত ৩১ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশ সোসাইটির অ্যাকাউন্টে গচ্ছিত অর্থের পরিমাণ প্রায় এক মিলিয়ন ডলার (৯ লাখ ১৯ হাজার ডলার)। আমাদের রেকর্ড অনুযায়ী, বাংলাদেশ সোসাইটির ৫০ বছরের ইতিহাসে এ পরিমাণ অর্থ সোসাইটির অ্যাকাউন্টে গচ্ছিত থাকার নজির নেই। 

১. ৭ লাখ ২৫ হাজার ডলার ব্যয়ের অভিযোগ

কিছুদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং বিভিন্ন বক্তব্যে বলা হচ্ছে, বর্তমান কার্যকরি পরিষদ নাকি বাংলাদেশ সোসাইটির ৭ লাখ ২৫ হাজার ডলার খরচ করেছে, এমনকি ‘হরিলুট’ করেছে। এটি অত্যন্ত গুরুতর একটি আর্থিক অভিযোগ। আমরা কোনো কাদা ছোড়াছুড়ি বা ব্যক্তিগত বিতর্কে যেতে চাই না। আমরা হিসাব, নথি ও প্রমাণের ভিত্তিতে কথা বলতে চাই। যারা এই অভিযোগ করছেন, তাদের প্রতি আমাদের স্পষ্ট আহ্বান বর্তমান কার্যকরী পরিষদ ৭ লাখ ২৫ হাজার ডলার খরচ বা আত্মসাৎ করেছে, এর পক্ষে ন্যূনতম কোনো গ্রহণযোগ্য প্রমাণ থাকলে তা সোসাইটির সদস্যদের সামনে প্রকাশ করুন। আমরা সেই প্রমাণকে স্বাগত জানাব এবং প্রকাশ্যেই তার জবাব দেবো। কিন্তু প্রমাণ ছাড়া এত বড় আর্থিক অভিযোগ বারবার প্রচার করা কোনোভাবেই দায়িত্বশীল আচরণ হতে পারে না।

তিনি আরো বলেন, জানুয়ারি ২০২৫ থেকে আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত আমাদের হিসাব অনুযায়ী, সোসাইটির নিয়মিত অপারেটিং ব্যয় হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৫ হাজার ৪৭ ডলার এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও কর্মসূচিতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার ৪১৮ ডলার। অর্থাৎ সব মিলিয়ে ব্যয়ের হিসাব ৫ লাখ ২৫ হাজার ৪৬৫ ডলার, ৭ লাখ ২৫ হাজার ডলার নয়।

২. বাংলাদেশ সেন্টার ক্রয় নিয়ে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য

বর্তমান কার্যকরি পরিষদের অন্যতম প্রধান নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ বাংলাদেশ সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর জ্যামাইকা এলাকায় একটি ভবন আমাদের পছন্দ হয়। অবস্থান, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও কমিউনিটির সুবিধাসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ের পর কার্যকরী পরিষদ ও বোর্ড অব ট্রাস্টিজের আলোচনায় ক্রয় প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। আমাদের অ্যাটর্নির মাধ্যমে ৩১ অক্টোবর ২০২৫ শর্তসাপেক্ষ ক্রয়ঢুক্তি স্বাক্ষর করা হয়। সোসাইটির পক্ষ থেকে ২ লাখ ডলার ডিপোজিট প্রদান করা হয়, যার মধ্যে ১ লাখ ২৫ হাজার ডলার বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান শাহ নেওয়াজ ব্যক্তিগতভাবে অনুদান হিসেবে প্রদান করেন। ঢুক্তিটি ছিল শর্তসাপেক্ষ। ভবনটিতে কিছু ভায়োলেশন ও অন্যান্য অসঙ্গতি ছিল এবং সেগুলো সমাধানের শর্তেই আমরা এগিয়েছিলাম। পরবর্তীতে বিক্রেতা পক্ষ নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে না পারায় সোসাইটির বৃহত্তর স্বার্থে আমরা ঢুক্তি বাতিল করি এবং সম্পূর্ণ ২ লাখ ডলার ডিপোজিট ফেরত নিয়ে আসি। আমাদের চেষ্টা এখানেই শেষ নয়। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত আমরা দায়িত্বে আছি এবং শেষ দিন পর্যন্ত বাংলাদেশ সেন্টারের জন্য আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে, ইনশাআল্লাহ। 

৩. সোসাইটির ভবনের ভায়োলেশন ও জরিমানা নিয়ে বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের জবাব

প্রথমেই একটি বিষয় অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলতে চাই এই ভায়োলেশনগুলো বর্তমান কার্যকরি পরিষদের সময়ে সৃষ্টি হয়নি এবং এর বিপরীতে আরোপিত জরিমানাও আমাদের মেয়াদকালের নয়। আমরা দায়িত্ব গ্রহণের সময় এগুলো পূর্ববর্তী সময় থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছি। এ সংক্রান্ত তথ্য নিউইয়র্ক সিটির সংশ্লিষ্ট দফতরের পাবলিক রেকর্ডে রয়েছে; যে কেউ চাইলে তা যাচাই করতে পারেন। আমরা দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেখতে পাই, সোসাইটির ভবনের ওপর পূর্ববর্তী সময়ের বিভিন্ন ভায়োলেশন বাবদ প্রায় ৮২ হাজার ডলারের মত জরিমানা রয়েছে।

আমরা দায়িত্ব গ্রহণের পর একটি পেশাদার ফার্মকে নিয়োগ দিয়েছি। যেহেতু বাংলাদেশ সোসাইটি একটি নন-প্রফিট প্রতিষ্ঠান, তাই আইনগতভাবে জরিমানা কমানো, সমন্বয় করা কিংবা সম্ভব হলে সম্পূর্ণ মওকুফের কোনো সুযোগ রয়েছে কি না সেই প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। এ ধরনের প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ, এবং কাজটি এখনো চলমান। আমাদের প্রচেষ্টায় ইতোমধ্যে প্রায় ৮২ হাজার ডলারের জরিমানার পরিমাণ কমিয়ে প্রায় ৩১ হাজার ডলারে নিয়ে আসা হয়েছে। এখানেই আমরা থামতে চাই না। আইনসম্মতভাবে আরো কমানো বা সম্পূর্ণ মওকুফের সুযোগ থাকলে আমরা শেষ পর্যন্ত সেই চেষ্টা চালিয়ে যাব। 

৪. বার্ষিক ইফতার মাহফিলের ব্যয় নিয়ে ভুল ব্যাখ্যা ও বিভ্রান্তি

বাংলাদেশ সোসাইটির বার্ষিক ইফতার মাহফিল নতুন কোনো আয়োজন নয়। তবে অতীতে এটি মূলত একটি নির্দিষ্ট এলাকায় অনুষ্ঠিত হতো। সময়ের সঙ্গে বাস্তবতা বদলেছে। আজ নিউইয়র্কের বিভিন্ন এলাকায় বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশির বসবাস। সেই বাস্তবতাকে সামনে রেখেই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম সোসাইটি যদি সবার হয়, তাহলে সোসাইটির আয়োজনও সবার দোরগোড়ায় পৌঁছাতে হবে। এটি আমাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিরও একটি অংশ ছিল। তাই একটি এলাকায় একটি বড় অনুষ্ঠান করে নির্দিষ্টসংখ্যক মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে, বাঙালি অধ্যুষিত চারটি এলাকায় ইফতার মাহফিল নিয়ে গিয়েছি। গত দুই বছরে আমরা মোট ৮টি ইফতার মাহফিল আয়োজন করেছি, যাতে সাধারণ সদস্য, পরিবার, শিশু-কিশোর, নতুন প্রজন্মসহ কমিউনিটির সর্বস্তরের মানুষ সহজে অংশ নিতে পারেন। এবার আসি খরচের হিসাবে। বলা হচ্ছে, বর্তমান কার্যকরি পরিষদ ইফতার মাহফিলে প্রায় ৮৯,০০০ হাজান ডলার খরচ করেছে। সংখ্যাটি মোট ব্যয় হিসেবে ঠিক, কিন্তু যেভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, সেখানে পুরো চিত্রটি বলা হচ্ছে না। এই ৮৯,০০০ হাজান ডলার একটি ইফতার মাহফিলের খরচ নয়; এটি দুই বছরে চারটি এলাকায় অনুষ্ঠিত মোট ৮টি ইফতার মাহফিলের সম্মিলিত ব্যয়। আরো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হচ্ছে, এই মোট ব্যয়ের মধ্যে ৪২ হাজার ৫৭০ ডলারের বেশি এসেছে স্পন্সর ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহযোগিতা থেকে। এর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ দিয়েছেন আমাদের বোর্ড অব ট্রাস্টির ও কার্যকরি পরিষদের কর্মকর্তারা। অর্থাৎ সোসাইটির নিজস্ব ফান্ড থেকে ৮টি অনুষ্ঠানের জন্য ব্যয় হয়েছে আনুমানিক ৪৬ হাজার ৪৩০ ডলার গড়ে প্রতিটি ইফতার মাহফিলে মাত্র ৫,৮০৩.৭৫ ডলার। অন্যদিকে প্রতিবছর প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ বেশী শিশু-কিশোর ও নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণে কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। আমাদের কাছে এটি শুধু একটি ইফতার আয়োজন ছিল না; এটি ছিল সোসাইটির সঙ্গে সাধারণ মানুষ ও নতুন প্রজন্মের সম্পর্ক আরো কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার একটি প্রচেষ্টা।

৫. কর্মকর্তাদের নামে ইস্যুকৃত চেক নিয়ে ভুল ব্যাখ্যা ও বিভ্রান্তির জবাব।

বাংলাদেশ সোসাইটির কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে অনেক সময় এমন কিছু জরুরি খরচ আসে, যেখানে নগদ অর্থে পেমেন্ট করতে হয়। অথচ সোসাইটির ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে ইচ্ছামতো নগদ অর্থ উত্তোলন করে খরচ করার প্রচলিত ব্যবস্থা নেই। ফলে প্রয়োজনে সভাপতি, সিনিয়র সহ-সভাপতি, সহ-সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, কোষাধ্যক্ষ কিংবা অন্য কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নিজের পকেট থেকে সোসাইটির অনুমোদিত খরচটি পরিশোধ করেন। পরে সেই খরচের যথাযথ রসিদ বা ভাউচার জমা দেওয়ার পর তা যাচাই-বাছাই করা হয় এবং ব্যয়টি সঠিক প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে তার নিজের খরচ করা অর্থ ফেরত দেওয়ার জন্য তার নামে চেক ইস্যু করা হয়।

৬. বার্ষিক সাধারণ সভা, হিসাব ও অডিট প্রসঙ্গে

আমাদের প্রিয় গণমাধ্যমকর্মীবৃন্দ,

কমিউনিটির একজন পরিচিত ও অভিজ্ঞ সংগঠক সম্প্রতি বাংলাদেশ সোসাইটির হিসাব, অডিট এবং আর্থিক কার্যক্রম নিয়ে কিছু প্রশ্ন ও বক্তব্য তুলে ধরেছেন। তিনি দীর্ঘদিন কমিউনিটিতে কাজ করছেন এবং বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ সোসাইটির সঙ্গেও সম্পৃক্ত ছিলেন। ব্যক্তিগতভাবে আমরা তাকে সম্মান করি এবং তার প্রশ্ন করার অধিকারকেও সম্মান করি। তবে বিনয়ের সঙ্গে একটি বিষয় পরিষ্কার করতে চাই বাংলাদেশ সোসাইটি কোনো ব্যক্তির ইচ্ছায় পরিচালিত হয় না; এটি পরিচালিত হয় এর গঠনতন্ত্র ও বিধি অনুযায়ী। বর্তমান কার্যকরী পরিষদ সেই নিয়ম মেনেই দায়িত্ব পালন করছে এবং মেয়াদের শেষ দিন পর্যন্ত সেভাবেই পরিচালনা করবে।

গঠনতন্ত্র অনুযায়ী গত ডিসেম্বর মাসে আমরা বার্ষিক সাধারণ সভা করেছি। সেখানে ঈচঅ রিপোর্টসহ সোসাইটির আয়-ব্যয়ের বিস্তারিত হিসাব সদস্যদের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে। উপস্থিত সদস্যদের আলোচনা ও প্রশ্নের পর সেই হিসাব সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয়। ইনশাআল্লাহ, আগামী ডিসেম্বরেও যথারীতি বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হবে এবং সোসাইটির আয়-ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব ও প্রয়োজনীয় রিপোর্ট আবারও সদস্যদের সামনে উপস্থাপন করা হবে। কারো কোনো প্রশ্ন, সংশয় বা ব্যাখ্যার প্রয়োজন থাকলে আমরা তাকে সেই সভায় স্বাগত জানাই। প্রশ্ন করুন, হিসাব দেখুন, প্রয়োজন হলে ব্যাখ্যা চান আমরা জবাব দিতে প্রস্তুত। আমরা বলছি না যে আমাদের কোনো ভুল হতে পারে না। মানুষ হিসেবে ভুল হতে পারে। কোনো ভুল তথ্য-প্রমাণের মাধ্যমে আমাদের সামনে তুলে ধরলে সেটি স্বীকার করা, সংশোধন করা এবং সদস্যদের কাছে জবাবদিহি করার মানসিকতা আমাদের রয়েছে। তাই আমাদের বিনীত অনুরোধ আমাদের পছন্দ করুন বা না করুন, আমাদের কাজের সমালোচনা করুন, প্রশ্ন করুন; কিন্তু সোসাইটির হিসাব বা আর্থিক বিষয় নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার আগে অনুগ্রহ করে তথ্যগুলো যাচাই করুন। 

৭. ফিউনারেল সার্ভিস ও কবরের অর্থ নিয়ে বিভ্রান্তি! প্রকৃত সত্য কী?

বাংলাদেশ সোসাইটির সবচেয়ে মানবিক ও সংবেদনশীল সেবাগুলোর একটি হলো ফিউনারেল সার্ভিস ও কবরের ব্যবস্থা। কোনো সদস্য বা তার পরিবারের কেউ মৃত্যুবরণ করলে আমরা সাধ্যমতো পাশে দাঁড়াই। মুসলিম সদস্যদের জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী কবরের ব্যবস্থা করা হয়। যাদের সামর্থ্য নেই, তাদের বিনামূল্যে কবর দেওয়া হয়; যাদের সামর্থ্য রয়েছে, তারা স্বেচ্ছায় অনুদান দিয়ে থাকেন। অন্যান্য ধর্মাবলম্বী সদস্যদের ক্ষেত্রেও ফিউনারেল সার্ভিসের জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। কোভিডের কঠিন সময়ে আমাদের প্রয়াত সাবেক সভাপতি মরহুম কামাল আহমেদের নেতৃত্বে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সোসাইটির কবর উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছিল। বহু পরিবার সেই সেবা পেয়েছে। আমরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে সেই মানবিক ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছি। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে শুনছি, বলা হচ্ছে বর্তমান কার্যকরি পরিষদ নাকি কবর বা ফিউনারেল সার্ভিসের অর্থ শেষ করে ফেলেছে কিংবা সেই অর্থের কোনো হিসাব নেই। আমরা অত্যন্ত দায়িত্বের সঙ্গে পরিষ্কার করে বলতে চাই এটি সঠিক নয়। একটি ডলারও হারিয়ে যায়নি। অর্থের হিসাব আছে এবং অর্থ তার নির্ধারিত জায়গায় রয়েছে।

কবর ক্রয়সংক্রান্ত আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সংক্ষেপে পরিষ্কার করতে চাই।

আমরা ১৬ ডিসেম্বর ২০২৪ শপথ গ্রহণ করি এবং গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ১ জানুয়ারি ২০২৫ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করি। দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার পর ব্যাংক হিসাব পর্যালোচনা করতে গিয়ে জানতে পারি, আমাদের শপথ গ্রহণের দিনই বিদায়ী কার্যকরি পরিষদের সময় একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কবর ক্রয়ের উদ্দেশ্যে ২ লাখ ৪০ হাজার ডলার প্রদান করা হয়েছিল। সেই অর্থ প্রদানের প্রক্রিয়ায় গঠনতান্ত্রিক প্রশ্ন দেখা দেওয়ায় কার্যকরি পরিষদ ও বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। আমাদের আহ্বানে বিদায়ী পরিষদের তৎকালীন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আলোচনায় অংশ নেন। আলোচনায় তাঁদের প্রক্রিয়াগত এবং সাংবিধানিক ভুলটি বুঝতে পারেন এবং অর্থ ফেরত আনার ক্ষেত্রে সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। পরবর্তীতে বর্তমান কার্যকরি পরিষদ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা করে। আলোচনার পর তারা সম্পূর্ণ ২ লাখ ৪০ হাজার ডলার কয়েকটি কিস্তিতে বাংলাদেশ সোসাইটিকে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হন। তাঁদের সহযোগিতা ও আন্তরিকতার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। 

৮. অন্যান্য অভিযোগ ও আমাদের অবস্থান

এগুলো ছাড়াও আমাদের বিরুদ্ধে আরো কিছু অভিযোগ, অপবাদ, ভুল ব্যাখ্যা এবং অর্ধসত্য তথ্য বিভিন্নভাবে প্রচার করা হচ্ছে। প্রতিটি বিষয় নিয়ে আজ কথা বলতে গেলে আলোচনা অনেক দীর্ঘ হবে। তবে একটি বিষয় অত্যন্ত পরিষ্কারভাবে বলতে চাই ভিত্তিহীন অভিযোগ, অর্ধসত্য কিংবা একটি তথ্যের সুবিধাজনক অংশটুকু তুলে ধরে পুরো বাস্তবতাকে আড়াল করার চেষ্টা সাময়িকভাবে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে; কিন্তু শেষ পর্যন্ত কাজের রেকর্ডকে মুছে দিতে পারে না।

সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান শাহ নেওয়াজ, সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী।

শেয়ার করুন