০১ অক্টোবর ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০৩:৩৫:০১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নর’ইস্টারের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড নিউইয়র্কসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চল নিউইয়র্কবাসীর ৬০ শতাংশ মামদানির পক্ষে অবৈধ জুয়ার অভিযোগে পলিমার্কেটের বিরুদ্ধে নিউইয়র্কের মামলা সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ডেমোক্র্যাট-রিপাবলিকানদের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই মার্কিন সিনেটে প্রথম মুসলিম সদস্য হওয়ার লড়াইয়ে আবদুল এল-সাইয়েদ নিউইয়র্কে স্থায়ী ‘জবস এনওয়াইসি’ কেন্দ্র চালু দ্বিতীয় বাড়ির কর নিয়ে মামদানির উদ্যোগে আদালতের বাধা লোয়ার ম্যানহাটনে প্রায় ১ হাজার নতুন সাশ্রয়ী ইউনিট নির্মাণের পরিকল্পনা তৃতীয় দেশে নির্বাসনের পথ ফের খুলে দিল সুপ্রিম কোর্ট বৈদেশিক সম্পর্ক উন্নয়নে প্রাণান্ত চেষ্টায় তারেক রহমান


দীর্ঘ সংগ্রামের দুই সহযোদ্ধা এখন রাষ্ট্রক্ষমতার শীর্ষে
বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট করা হয়েছে : ৩০-০৯-২০২৬
দীর্ঘ সংগ্রামের দুই সহযোদ্ধা এখন রাষ্ট্রক্ষমতার শীর্ষে রাষ্ট্রপতির সাথে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক


রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বঙ্গভবনে প্রথমবারের মতো সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে এই সাক্ষাৎ হয়। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম বাসস-কে বিষয়টি জানিয়েছেন।

এদিন বিকেল ৩টা নাগাদ প্রধানমন্ত্রী বঙ্গভবনে পৌঁছালে রাষ্ট্রপতি তাঁকে স্বাগত জানান। এরপর তিনি সামরিক সচিব, সচিব, প্রেস সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন।

সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র সফরের বিভিন্ন দিক রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। এর মধ্যে ছিল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং জাতিসংঘের মহাসচিবসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক। আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার কথাও তিনি জানান।

রাষ্ট্রপতির প্রশংসা

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের জন্য রাষ্ট্রপতি তাঁকে অভিনন্দন জানান। তিনি ভাষণটিকে ‘দূরদর্শী, দৃঢপ্রত্যয়ী ও দিকনির্দেশনামূলক’ বলে উল্লেখ করেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, ভাষণে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ ও আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত হয়েছে এবং প্রধান বৈশ্বিক ইস্যুতে দেশের অবস্থান স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই ভাষণ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা ও অবস্থান আরও সুদৃঢ করবে। তাঁর মতে, সফরটি জনস্বার্থ রক্ষা এবং দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সম্পর্ক সম্প্রসারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

সাক্ষাতে জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়েও আলোচনা হয়। বঙ্গভবনে আসায় রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। রাষ্ট্রপতির কার্যালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

পটভূমি: দীর্ঘ সংগ্রামের পথ পেরিয়ে

এই সাক্ষাৎ শুধু দুই রাষ্ট্রীয় পদাধিকারীর সৌজন্য বিনিময় নয়। এর পেছনে রয়েছে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দীর্ঘ লড়াইয়ের ইতিহাস, যেখানে বিএনপির দুই শীর্ষ নেতা ছিলেন দুই ভিন্ন অবস্থানে।

নির্বাসন থেকে রাষ্ট্রক্ষমতা 

তারেক রহমান বাধ্য হয়েই দীর্ঘ প্রবাসজীবন কাটান লন্ডনে। দেশে ফেরার সব পথ ছিল বন্ধ ও দেশ তার জন্য ছিল অনিরাপদ। তাই তিনি সেখান থেকেই দলের নেতৃত্ব দেন। দীর্ঘ ১৭ বছর পর গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর তিনি দেশে ফেরেন, স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমান ছিলেন সঙ্গে। তখন তিনি ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। 

রাজপথের লড়াই 

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের মহাসচিব হিসেবে দেশে থেকেই আন্দোলন চালিয়ে যান। ২০১৬ সালের ৩০ মার্চ থেকে তিনি দলের মহাসচিব। ২০২৩ সালের ২৯ অক্টোবর তাঁকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে নেওয়া হয়। সাড়ে তিন মাস পর জামিনে মুক্তি পেয়ে কারাগার থেকে বেরিয়েই তিনি ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনার আন্দোলন অব্যাহত রাখার কথা বলেন। ২০২৪ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি তিনি ও স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী কারামুক্ত হন। তিনি নিজেই বলেছেন, তিনি ১১ বার জেলে গিয়েছেন এবং মোট সাড়ে তিন বছর কারাভোগ করেছেন। 

একজন লন্ডন থেকে, অন্যজন মাঠের রাজনীতির সম্মুখসারিতে থেকে এই লড়াই চালিয়ে যান। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে।

নির্বাচন ও সরকার গঠন

গত ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়ী হয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি জোট জিতেছিল ২১২টি আসনে। ১৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তিনি দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। ২০ বছর পর বিএনপি আবার সরকার গঠন করল। 

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

 ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। গত ২১ আগস্ট শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল তাঁকে শপথ পাঠ করান। শপথের পর তিনি নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদেরও শপথবাক্য পাঠ করান। 

দীর্ঘ সংগ্রামের সেই দুই সহযোদ্ধা এখন একজন রাষ্ট্রপতি, অন্যজন প্রধানমন্ত্রী। বঙ্গভবনের এই সাক্ষাৎকে তাই রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা প্রতীকীভাবেও গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন।

শেয়ার করুন