১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০২:০৬:০৭ পূর্বাহ্ন


গ্রীষ্মের শেষ সময়ে জালালাবাদের জমজমাট সামার ব্যাশ
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ১৬-০৯-২০২৬
গ্রীষ্মের শেষ সময়ে জালালাবাদের জমজমাট সামার ব্যাশ বেলুন উড়িয়ে মেলার উদ্বোধন


প্রবাসের অন্যতম আঞ্চলিক সংগঠন জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে (মইনুল-আসাদ) মৌসুমের শেষ সামার ব্যাশ জমজমাটভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রবাসে সাধারণত গ্রীষ্ম মৌসুমে বিভিন্ন ধরনের মেলা অনুষ্ঠিত হয়। স্কুল কলেজ খোলার আগেই মেলা শেষ হয়ে যায়। কিন্তু এবার জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন শেষ সময়ে মেলার আয়োজন করে। যদিও এই আয়োজন অনেকটা চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে অনুষ্ঠিত হয়। একদিকে ছিল জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের অপর অংশ মেলাবন্ধে কোর্টের শরণাপন্ন হয়েছিল, কিন্তু তারা সফল হতে পারেনি। অন্যদিকে ছিল শেষ সময়ে মেলা জমবে কি না? কোর্ট যেমন মইনুল-আসাদদের পক্ষে ছিল, ভাগ্যেদেবীও তাদের সঙ্গে ছিল। যে কারণে মেলায় মানুষের স্বতঃস্ফূর্তি ছিল। বাধভাঙ্গা উপস্থিতিতে পুরো মেলা এলাকা একখণ্ড জালালাদের পরিণত হয়। মেলায় ছিল আলোচনা, স্টলগুলোতে কেনাকাটা, বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনী প্রচারণা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে দেশ ও প্রবাসের জনপ্রিয় শিল্পীদের পরিবেশা। শিল্পীদের পরিবেশনায় পুরো মেলায় উপস্থিত মানুষরা প্রাণভরে উপভোগ করেন। মেলায় বিশেষ আকর্ষণ ছিল র‌্যাফেল ড্র। র‌্যাফেল ড্রতে প্রথম পুরস্কার ছিল গাড়ি। দ্বিতীয় পুরস্কার ছিল স্বর্ণের চেইনসহ আরো তিনটি পুরস্কার।

সংগঠনের সভাপতি মইনুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আসাদুল গনি আসাদ ও সোনিয়া সিরাজের পরিচালনায় মেলায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি ও একই পদে প্রার্থী আতাউর রহমান সেলিম, সাধারণ সম্পাদক ও একই পদে প্রার্থী মোহাম্মদ আলী, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মহিউদ্দীন দেওয়ান, বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সভাপতি ও সভাপতি প্রার্থী আজমল হোসেন কুনু, সন্দ্বীপ সোসাইটির সভাপতি ও বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ফিরোজ আহমেদ, ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও সোসাইটির নির্বাচনে সিনিয়র সহ-সভাপতি প্রার্থী দুলাল বেহেদু, জেবিবিএর সভাপতি গিয়াস আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক ও বিশিস্ট ব্যবসায়ী ফাহাদ সোলায়মান, বাংলাদেশ সোসাইটির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য কাজী শাখাওয়াত হোসেন আজম, জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান চৌধুরী শেফাজ, সাবেক সভাপতি শাহীন কামালী, কোষাধ্যক্ষ এবং মেলার প্রধান সমন্বয়কারী মঈনুজ্জামান চৌধুরী, জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের উপদেষ্টা সৈয়দ জুবায়ের আলী, সৈয়দ ফজলুর রহমান, মেলার প্রধান পৃষ্ঠপোষক বিশিষ্ট মর্গেজ ব্রোকার আকিব হোসেন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী বিলাল চৌধুরী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আতিকুল হক জাকির, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ইফজাল চৌধুরী, জামাল হোসেন, হেলিম উদ্দিন, বিয়ানীবাজার সমিতির সাবেক সভাপতি মাছুদুল হক ছানু, বাংলাদেশ সোসাইটির কার্যকরি কমিটির সদস্য এবি সিদ্দিক পাটোয়ারি, সাবেক নির্বাচন কমিশনার আনোয়ার হোসেন, শাহনাজ হোসেন, উজ্জ্বল বিপুল, দরুদ মিয়া রনেল, হাজী এনাম, বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন সিদ্দকী, দেওয়ান কাউছার, গোলাপগঞ্জ সোসাইটির সাবেক সভাপতি এবাদ চৌধুরী, আব্দুল চৌধুরী উমেল, মোহাম্মদ এ খায়ের, মুসা মিয়া, নাসির উদ্দিন, দেওয়ান মুস্তারি, কামরুল হোসোইন, আব্দুর রহিম কাদরী, শিহাব উদ্দিন, আঞ্জুম চৌধুরী, শাহীন কামালী, জয়নাল উদ্দিন লায়েক, মোহাম্মদ বিলাল চৌধুরী, বদরুল উদ্দীন, সৈয়দ লুকমান মিয়া, শাহ মিজান, জালিলুর রহমান, শাহীনুল ইসলাম প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. একে আব্দুল মোমেন বলেন, আমি ১৯৭৪ সালে আমেরিকায় এসেছিলাম। তখন জ্যাকসন হাইটসে বাংলাদেশিদের কোনো প্রতিষ্ঠান ছিল না। আইএসপি নামে ভারতীয়দের একটি শাড়ির দোকান ছিল। আজকে জ্যাকসন হাইটসে এলে বা এ ধরনের মেলায় এলে গর্বের আমার বুক ভেসে যায়। কারণ মেলায় মানেই বাংলাদেশিদের সরব উপস্থিতি। বাংলাদেশি শিল্প, কালচার এবং সংস্কৃতির উপস্থাপন। অন্যদিকে জ্যাকসন হাইটস বলতে গেলে এখন বাংলাদেশিদের দখলে। তিনি আরো বলেন, একজন প্রবাসী হিসাবে আমি বলতে চাই বাংলাদেশ ভালো থাকলে আমরা ভালো থাকি। বাংলাদেশ খারাপ থাকলে আমরা ব্যথিত হই। তিনি বর্তমান সরকারের মৃদু সমালোচনা করে বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা এবং গ্যাস বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নাজুক। সমস্যায় মানুষের নাভিশ্বাস অবস্থা।

আতাউর রহমান সেলিম তাকে এবং তার প্যানেলকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের বর্তমান সংকট নিরসনে তিনি উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

একই প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে আজমল হোসেন কুনু। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে আমি এবং আমার প্যানল জয়ী হলে বা পরাজিত হলেও জালালাবাদের সংকটের সমাধান করবো।

সভাপতি মঈনুল ইসলাম মেলাকে সফল এবং সার্থক করার জন্য সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ধন্যবাদ জানান কার্যকরী কমিটির সদস্যসহ সব স্পনসরকে।

আকিব হোসেন তাদের প্রতিষ্ঠান মেড্রোব্রোক থেকে মর্টগেজ করার আহবান জানিয়ে বলেন, আমাদের এখানে লুকোচুরির কিছু নেই। আমরা ক্রেতাদের সর্বোচ্চ সেবা দিয়ে থাকে এবং আমাদের মর্টগেজ রেটও অন্য প্রতিষ্ঠানের তুলনায় কম।

বিলাল চৌধুরী মেলা সফর এবং সার্থক করার জন্য সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

মেলায় সংগীত পরিবেশন করেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় শিল্পী সেলিম চৌধুরী, রিজিয়া পারভীন, কালামিয়া, প্রবাসের জন্যপ্রিয় শিল্পী ওয়াহিদ (লন্ডন), শাহ মাহবুব, কামরুজ্জামান বকুল, আফতাব জনি, রোকসানা মির্জা প্রমুখ।

মেলার শেষ পর্ব ছিল র‌্যাফেল ড্র। র‌্যাফেল ড্রর পাঁচটি পুরস্কারই ভাগ্যবানদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

শেয়ার করুন